Sunday, February 22, 2015

মমতার সফর : ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে-মানস ঘোষ

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ জোট সরকার তাঁকে লাল গালিচার অভ্যর্থনায় স্বাগত জানিয়েছে একই সঙ্গে। অভিনন্দন জানিয়েছে জামায়াত ও খালেদার কট্টর মুসলিম মৌলবাদীদের দল ও সংগঠনগুলো। 
 
কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা, অসাম্প্রদায়িক সাধারণ মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনার ছোঁয়া থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন। কারণ তিনি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল তো ননই, বরং পুরোপুরি যে বৈরী মনোভাবাপন্ন তা তাঁর কাজেই প্রমাণিত। তিনি বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদী জঙ্গী সংগঠনের সমর্থক বলেই চিহ্নিত। বাংলাদেশের মানুষের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে বিশেষ করে আহমেদ হাসান ইমরান ও খাগড়াগড় বিস্ফোরণকান্ডে মমতার ভূমিকা দেখে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মসজিদ ও মাদ্রাসায় জামায়াতের মতো আন্তর্জাতিক মুসলিম সন্ত্রাসবাদী চক্রকে নিরাপদে ঘাঁটি গাড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলেই বাংলাদেশের মানুষের ধারণা। যাতে ওই চক্র এপারে নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে থেকে ওপার বাংলায় নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে যেতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের নেতানেত্রীদের হত্যার ষড়যন্ত্র করা তাদের পক্ষে সহজ হয়ে ওঠে। এর ফলে বাংলাদেশে মৌলবাদীদের উত্থান ঘটবে এবং তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হবে বলেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ধারণা।

 প্রশ্ন উঠছে, ২০১১-এর সেপ্টেম্বরে যে নেত্রী তিস্তার জলবণ্টনের বিষয়ে ‘অসম চুক্তির’ বিরোধিতা করে অভিযোগ করেছিলেন যে এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ মনমোহন সিং বাংলাদেশের কাছে বেচে দিচ্ছেন, যার প্রতিবাদে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরসঙ্গী হতে অস্বীকার করেন, আজ সেই তিনিই চার বছর পরে শেখ হাসিনা সরকারের কাছ থেকে নিমন্ত্রণ বাগিয়ে বাংলাদেশ সফর করতে হঠাৎ এতটা আগ্রহী হয়ে উঠলেন কেন? তিনি তো ২০১১-য় মনমোহনের সফরসঙ্গী না হয়ে এবং ‘আমরা বাঙালী’র স্টাইলে তিস্তার জলবণ্টন চুক্তির বিরোধিতা করে মনমোহন সিংয়ের মুখ পুড়িয়েছিলেন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে টর্পেডো করতে ছাড়েননি।
 
টর্পেডো করার নেপথ্যে মুখ্য কারণ ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল ইগো বা অহংবোধ। তিনি নিজেকে মেঘালয়ের মুকুল সাংমা, মিজোরামের লালথানহাওলা বা অসম ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ও মানিক সরকারের থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূণ রাজনীতিক বলে মনে করেন। মনমোহন সিং তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্য চার মুখ্যমন্ত্রীর মতো সফরসঙ্গী করে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব হ্রাস করতে চেয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ ছিল। মমতা তখন আমায় বলেছিলেন,‘বাজারে মুড়ি মিছরির 'এক দর' হয় না। তাই আমি ওদের সঙ্গে যাচ্ছি না।’ মমতা আমাকেও বলেছিলেন মনমোহনের সফরসঙ্গী না হতে। এমনকি আমাকে তখন এটাও বলেন, ‘আমি যখন ঢাকায় যাব, তখন আপনি আমার সঙ্গে যাবেন। দিল্লীকে 'না 'বলে দিন।’লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এবার তিনি তিস্তা জলবণ্টনের ব্যাপারে কোন সমাধানসূত্র প্রকাশ্যে ঘোষণা না করেই ঢাকা সফর করছেন। শোনা যাচ্ছে জলবণ্টনের সমাধানসূত্রে এবার তিনি রাজি হয়েছেন। এটা তো তিনি চার বছর আগেই মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসে চূড়ান্ত করতে পারতেন। নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রকে দিয়ে তিনি এক সদস্যের কমিটি গঠন করে তাঁকে সমাধানসূত্র বের করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট এখন ঠান্ডা ঘরে। ফাইলের ওপর ধুলো জমেছে, কিন্তু সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

 স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তিনি চুপিসারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই বার্তাই দিতে যাচ্ছেন যে, দ্বিপাক্ষিক স্তরে দু’ দেশের সরকার কোন সমাধানসূত্র বের করলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই? অর্থাৎ চার বছর আগে জলচুক্তি সম্পাদনে তিনি যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন সেই পথ থেকে তিনি এখন সরে আসছেন। এটা কি তিনি করছেন বাংলাদেশে নিজের ধসে যাওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে? নাকি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় নিজের গুরুত্ব জাহির করতে? তিনি ঢাকাকে কি এই বার্তা দিতে চাইছেন যে মমতাকে বাদ দিয়ে ভারত- বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়? অনেকে মনে করছেন নিজের জন্য বাহবা কুড়োতেই তাঁর এই বাংলাদেশ সফর।
 আরও প্রশ্ন উঠছে দিল্লীর চাপেই কী তাঁর এই বাংলাদেশ সফর? শেখ হাসিনার কানে কানে তিস্তার সমাধানসূত্রে রাজি হওয়ার কথা বলে আসার জন্য? শুধু তিস্তা কেন, স্থলসীমান্ত চুক্তি সম্বন্ধেও তিনি তাঁর আপত্তি তুলে নেয়ার কথা শেখ হাসিনাকে শুনিয়ে আসবেন। যদিও তাঁর নির্দেশে তাঁর দলের চার রাজ্যসভা সদস্য ২০১৩ সালে সংসদ চলাকালীন স্থলসীমান্ত চুক্তির খসড়া তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে কাগজের গোলা বানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন। তিস্তার মতো স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়েও মমতার একই বক্তব্য ছিল- চুক্তির ফলে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হচ্ছে, ভারতের কোন সরকার দেশের জমি এইভাবে অন্য দেশকে ‘ভেট’ দিয়ে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে পারে না। এখন শোনা যাচ্ছে তিনি স্থলসীমান্ত চুক্তিতেও রাজি। এই রাজি হওয়ার বার্তাও তিনি শেখ হাসিনাকে জানিয়ে আসবেন। 

 প্রশ্ন উঠছে, মমতার এই ‘পাল্টি’ খাওয়ার আসল কারণ কী? আসলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মুসলিম মৌলবাদীরা নিজেদের ভুল রাজনৈতিক চালের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে। তা দেখে মমতা ও তাঁর ইমরান-ফিরহাদ হাকিমরা খুবই হতাশ। তাঁরা বুঝে গেছেন, মৌলবাদীদের পক্ষও সাহায্য নিয়ে তাদের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি করা খুবই কঠিন কাজ। তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে, সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার দিন শেষ হবে এবং নির্বাচনে নিশ্চিতভাবে ক্ষমতায় আসবে খালেদা-জামায়াত জোট। আমাকে তো তৃণমূলের মন্ত্রী ও আমলারা টিপ্পনী কেটে বলতেন, হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ক্ষমতার থাকার দিন শেষ। এখন খালেদা-জামায়াতের জমানা আসছে। তারাই বাংলাদেশের উদীয়মান শক্তি। কিন্তু শেখ হাসিনার বিপুল জয়ে তাদের সব অঙ্ক বানচাল হয়ে যায়।
 মমতা খাগড়াগড় বিস্ফোরণকান্ড নিয়ে যে ভাষায় ভারতের জাতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘র’-কে দোষারোপ করেছিলেন তা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে হতবাক করে।
 
তাদের মতে, মমতা যেন পাকিস্তানীদের ভাষায় কথা বলছেন। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে জামায়াতী সন্ত্রাসের নেটওয়ার্কের খবর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঢাকার রিক্সাওয়ালারা পর্যন্ত বিশ্বাস করে যে মমতা ইমরানের মাধ্যমে জামায়াতীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বাংলাদেশে হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে তাদের দেশকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করতে চান। না হলে ইমরানের মতো কট্টর জামায়াতীর খপ্পরে তিনি পড়েন কেমন করে? আর সেই ইমরানকে এত গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যসভায় সদস্যই বা কিভাবে করেন?
 
সাম্প্রতিককালে ইমরান বিষয়ক খবর বাংলাদেশের মিডিয়ার শিরোনামে স্থান পাচ্ছে। অথচ সিমি’র এই প্রাক্তন নেতা তথা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইমরানকেই মমতা তাঁর সফরসঙ্গী করবেন বলে জেদ ধরে বসেন। যদিও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব, যাদের সঙ্গে ইমরানের ওঠাবসা ও নিবিড় সম্পর্ক ছিল, তারা এখন সবাই জেলে। বাংলাদেশ সরকার আকারে ইঙ্গিতে ইমরানকে সফরসঙ্গী না করার জন্য মমতাকে বার্তাও দেয়। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। ইমরানকে সঙ্গে নেয়ার জন্য তিনি গোঁ ধরে বসেন। বাংলাদেশ সরকার যখন দিল্লীর বিদেশমন্ত্রককে জানায় যে, ইমরান সঙ্গে থাকলে ঢাকায় অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটতে পারে তখন দিল্লী বাধ্য হয়ে মমতাকে জানায় ।বাধ্য হয়েই মমতা ইমরানকে তাঁর দঙ্গল থেকে বাদ দেন। মমতা যদি ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, তাহলে তাঁকে এইসব স্পর্শকাতর বিষয়ে অনেক অপ্রিয় প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে।
 আমার প্রচুর বাংলাদেশী বন্ধু একসময় মমতাকে অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মিত্র বলে জানতেন। শেখ হাসিনাও তাঁকে নিজের ‘কাছের মানুষ’ বলে পরিচয় দিতেন এবং ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় সাফল্যের পর কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙ্গে তাঁকে ব্যক্তিগত অভিনন্দনবার্তা ও পাঠান ।সেই ব্যক্তিই যে রাতারাতি পার্শ্বচরদের পরামর্শে ‘পাল্টি’ খেয়ে পশ্চিমবঙ্গকে 'বাংলাদেশ থেকে খেদানো' খুনি জামাতি সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘরে পরিণত করবেন ,তা তারা স্বপ্নে ও ভাবতে পারেননি।
 
শেখ হাসিনা সরকার সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ধরনের মনোভাব পোষণ করেন তা লক্ষ্য করা গেল ।বাংলাদেশের ঐতিহ্য ছিল কোন বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান শহরে এলে রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
 মমতা জানেন কিনা জানি না, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো বাংলাভাষী রাজ্যের রাজনীতির ওপর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন। বলতে গেলে, এ সব রাজ্যের হাঁড়ির খবর তাদের নখদর্পণে।
 
বাংলাদেশে একসময় অভিনেতা তাপস পালের খুবই জনপ্রিয়তা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের বাড়িতে ঢুকে তাদের মা-বোনেদের রেপ করানোর হুমকি দেয়ার পর তিনি বাংলাদেশে আজ এক ঘৃণ্য ব্যক্তি। যার জন্য মমতার দঙ্গলে তাপস পালের ঠাঁই হয়নি, হয়েছে দেবের। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, ঢাকার প্রথম সারির দৈনিকগুলো মমতার সফর সম্পর্কে যতটা অনীহা দেখাচ্ছে, জামাতপন্থী মৌলবাদী মিডিয়া, যেমন, সংগ্রাম, নয়া দিগন্ত তাঁর এই সফরকে শিরোনাম করে ততোধিক আগ্রহ ও উৎসাহ প্রকাশ করছে।

 মমতার ঢাকা সফর সরকারী হলেও এতে পশ্চিমবঙ্গের কোন লাভ হবে না। কারণ তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সেই বিদেশমন্ত্রী মাহমুদ আলী এখন সরকারী সফরে আমেরিকায়। সুতরাং তাঁর অনুপস্থিতিতে এই সফরে ঢাকায় বাংলাদেশের কোন মন্ত্রীর সঙ্গে মমতার কোন সিরিয়াস বৈঠক হওয়ার সুযোগ নেই। আর ভারতের কোন অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও বসবে না। সুতরাং এই সফরে তাঁর সঙ্গী কলকাতার কিছু ব্যবসায়ী বাংলাদেশের বণিকসভার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন। এই সফরে রাজ্যের প্রাপ্তির চেয়ে বেশি কিছু নয়। তাছাড়া বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলা ও শহীদ মিনারে অমর একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনই হবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের মূল কর্মসূচী। 

 তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, যে কাজটি মমতা চার বছর আগে করে দেখাতে পারতেন, সেটা তিনি চার বছর পরে করে কী লাভ পেলেন? কারণ ওই দুই চুক্তি ২০১১-য় মনমোহনের সফরের সময়ে সম্পাদিত হলে এতদিনে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ পেত যা পশ্চিমবঙ্গ এবং ওইসব রাজ্যগুলোর অর্থনীতির পক্ষে অভাবনীয় আশীর্বাদ বয়ে আনত। কিন্তু মমতা নিজের গোঁয়ার্তুমির জন্য সেই সুযোগ হেলায় হারালেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে সুবর্ণ সুযোগ চার বছর আগে এসেছিল যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতো, তা কি ২০১৫তে আদৌ বাস্তবায়িত হবে?
 
মমতা তাঁর অপরিণামদর্শিতার জন্য দু’দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাকে আগেই স্তিমিত করে দিয়েছেন। এই দুই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে প্রভৃত সুযোগ-সুবিধার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতো মমতা তাতে জল ঢেলে দিয়েছেন। বাংলাদেশেরর মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের সুবিধা ভারত নিতে পারলে উত্তর-পূর্বের ‘সাত বোন’ ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির চেহারাটাই বদলে যেতে পারে- এই কথা লিখেছিলাম বলে মমতা আমাকে 'হাসিনার দালাল' বলেও কটূক্তি করেছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করে রাজভবনের এক সরকারী ভোজসভা থেকে ওয়াকআউট করতে গেলে তদানীন্তন রাজ্যপাল এমকে নারায়ণন আমাকে নিবৃত্ত করে বলেন, এমন কিছু করবেন না ,যা রাজ্যপালকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে।’ পরিশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়, মমতার এ সফর সত্যি কি তাঁর বিলম্বিত বোধোদয়? নাকি তাঁর সিঙ্গাপুর সফরের মতো শুধুই ‘বেড়াতে যাওয়া’, যা থেকে রাজ্যের নীট লাভ হবে শূন্য?

 লেখক :  পশ্চিমবঙ্গের বাংলা স্টেটসম্যান পত্রিকার সম্পাদক
 

Saturday, February 21, 2015

এই একুশে-সুমি খান

এই একুশে বোমা পেট্রোলে
বামে আর ডানে বিশ-
এই একুশে পিতৃপুরুষ
নিঃশ্বাসে ফিসফিস্!


এই একুশে দুই বাংলার
 মিথ্যা কাঁটাতার
এই একুশে পদ্মা  গঙ্গা
তিস্তা সমাচার!


এই একুশে নাইদেশলোক
ছিটমহলে জিৎ-
এই একুশে নষ্ট মানুষ
নিজের ফাঁদেই চিৎ!


এই একুশের দিনজুড়ে
শুধু নিকষ হাহাকার-
রক্তবীজের ঋণ শুধে দিতে
তুমি
আমি একাকার!


বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট,২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
ঢাকা

Friday, February 20, 2015

হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার


‘‘হরতাল’’ একটি গণতান্ত্রিক অধিকার, আমরা তার সাথে ১০০% একমত।... একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ‘‘হরতাল’’ পালনের সুযোগ থাকবে এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু ‘হরতাল’ এর নামে দুর্বৃত্তরা লিপ্ত হয় সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে এবং গাড়ি ভাংচুর করে, আগুন দিয়ে, মানুষকে হত্যা করে, বোমা ফাটিয়ে, ট্রেন লাইন উপড়ে ফেলে, গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করে যে ভাবে ‘‘হরতাল’’ পালনে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করা হয়, সেটা গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে না।

 ‘‘হরতাল’’ এর সঠিক প্রয়োগ এবং হরতালের কার্যকারিতার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্যে এবং হরতালের নামে সহিংসতার সুযোগ কমানোর জন্যে কিছু সুনির্দিষ্ট ‘নীতিমালা ও আইনি বিধান প্রণয়ন’ এর জন্যে সরকারের কাছে আবেদন ও দাবী জানাবার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।আমাদের মহান সংবিধান এবং মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ঘোষণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই নিতিমালা ও আইনি বিধান প্রণিত হলে একদিকে যেমন ‘হরতাল’ আহ্বান করার গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা পাবে তেমনি অন্যদিকে সাধারন মানুষের ‘হরতাল’ না করার গণতান্ত্রিক অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সাথে হরতালের নামে সহিংসতাও বন্ধ হবে এবং সহিংসতায় অংশগ্রহণকারীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে। 
 
 আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, ৩ দিন ব্যপী, বিকেল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত, একুশে বইমেলার উত্তর প্রবেশপথে (টি এস সি এর পুর্ব দেয়াল) “হরতালের নীতিমালা ও আইনি বিধান প্রণয়ণ” শীর্ষক একটি প্রদর্শনী, জনমত জরিপ ও জনসংযোগ এর কর্মসুচির আয়োজন করা হয়েছে।
“হরতাল আমার গণতান্ত্রিক অধিকার, সহিংসতা চাই না। হরতাল নিষিদ্ধ না করেও সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব। কথা দিচ্ছি, দেশ সহিংসতা মুক্ত হবে”
কর্মসুচিতে থাকবে,
১) হরতাল সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সম্বলিত “তথ্য প্রদর্শনী”।
২) “হরতাল এর সহিংসতা বন্ধে নীতিমালা ও আইনি বিধান প্রণয়ন” বিষয়ক প্রস্তাবনা বিতরণ।
৩) “হরতাল এর সহিংসতা বন্ধে নীতিমালা ও আইনি বিধান” বিষয়ক জনমত জরিপ।

শুয়োরাধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন কিউসির ওহীবাণী


লন্ডন থেকে শুয়োরাধিকার রক্ষার জন্যে ওহীবাণী নাজিল করছেন ব্রিটিশ আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন কিউসি। জোর গলায় দাবী করছেন, ৭১রে মুক্তিযোদ্ধারাই মূলত যুদ্ধাপরাধ করছে, ওদের বিচার না করে বৃদ্ধ ইসলামী নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলানো মানবতার লঙ্ঘন। এই সার্টিফিকেট পায়া দেশের আপামর শুষিলসমাজের নেতায়া থাকা মানবতার দণ্ড দাঁড়ায়া গেছে, ম্যা ম্যা করে আকাশবাতাস মুখরিত করে তুলতেছে তারা, বিরোধীদলকে শেষ করে দিতেই এই প্রহসনের বিচার, ৪৪ বছর পর বানোয়াট অভিযোগ আনা হইছে এই বৃদ্ধ মানুষগুলার উপর, কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ নাই...

মোয়াজ্জেম হোসেন খান ছিলেন পাকশী রেলওয়ে কন্ট্রোলার। কিন্তু সবাই তারে জয় বাঙলার লোক হিসেবেই চিনতো। যুদ্ধের শুরুতেই বড় ছেলে তহুরুল আইসা বলল, আব্বা, যুদ্ধে গেলাম, ফিরুম কিনা জানি না, তবে ফিরলে দেশটারে স্বাধীন কইরাই ফিরুম। মোয়াজ্জেম বাঁধা দিতে যায়া ত্থাইমা গেলে, বুকে পাথর বাঁধলেন, ছেলে গেল মুক্তিযুদ্ধে। ১২ই এপ্রিল শান্তিকমিটির সহসভাপতি আবদুস সুবহান পাকিস্তানী মিলিটারিরে শেরশাহ রোডে আইনা বলল, ইয়ে হ্যায় গাদ্দার কা ঘর, সালে জয় বাঙলা কা আদমি হ্যায়। প্রান বাঁচাইতে মোয়াজ্জেম,স্কুল শিক্ষক মোতালেব, নাজমুলসহ প্রায় ২০-২৫ জন আশ্রয় নিলেন ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। আল্লাহর ঘর মসজিদে নিশ্চয়ই তাদের মারবে না ওরা, শত হইলেও মুসলমান তো। মাওলানা আবদুস সুবহান রাজাকারগুলারে নিয়া টাইনা বাইর করল মানুষগুলারে মসজিদ থেইকা, টানতে টানতে নিয়া গেল পাশের রেলওয়ে ডিপোতে। তারপর ইসলাম কায়েমের নামে আল্লাহু আকবর বইলা জবাই করল নিরস্ত্রমানুষগুলারে, তারা নাকি ইসলামের শত্রু। রক্ষা পাইল না পাবনার সুজানগরের ৪০০ মানুষ, আল্লাহর নামে ইসলাম কায়েমের কথা বইলা তাদের গুলি কইরা, জবাই কইরা বেয়নেট দিয়া খোঁচাইতে খোঁচাইতে মেরে ফেলা হইল সুবহানের নির্দেশে। আজকে ৪৪ বছর পর অবশ্য শুষিলসমাজের কাছে এইগুলা প্রোপ্যাগান্ডা মাত্র...
আমার নানা মোহাম্মদ আলী প্রামানিক ছিল জয় বাঙলার লোক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি মানুষটারে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবাই ভালবাসতো। ২রা মে যখন সুবহান পাকি মিলিটারি নিয়া সাহাপুর গ্রামে হামলা চালাইল, তখন নানা বাড়ি ছিল না। ১৬টা ফ্যামিলির বিশাল যৌথ পরিবার ছিল নানাদের, সবাইরে এক লাইনে দাড় করানো হইল। তারপর মেয়েগুলারে আলাদা করে সবার সামনেই ঝাপায়া পড়ল শুয়োরগুলা, ছিঁড়ে-খুবলে খাইতে লাগলো। নানার ছোট্ট একটা বোন ছিল, পেট থেকে যোনি পর্যন্ত বেয়নেট দিয়ে এক টানে ছিঁড়ে ফেলা হইল।বাকিদের গুলি করে বাড়িতে আগুন ধরায়া দেওয়া হইল। গ্রামের বেশিরভাগ ছিল হিন্দু পরিবার, প্রথমে রাজাকাররা গনিমতের মাল হিসেবে প্রত্যেকটা বাড়ি লুট করল, তারপর ব্রাশফায়ার কইরা মারলো সবাইরে, শেষে বাড়িতে আগুন ধরায়া দিল। নানা এসে দেখে, সব পুড়ে ছাই। সহ্য করতে পারে নাই, একটা দা হাতে ঝাপায়া পড়ছিল পাকি শুয়োরগুলার উপর। ব্রাশফায়ার কইরা মারার পর সুবহান তার শরীর থেকে চামড়া ছিলে গাছে টাঙ্গায়া রাখছিল, সবাইরে দেখায়া বলছিল, এইটা হইল গাদ্দারের শাস্তি, ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে এই পরিনতি হবে...
আমার নানু তখন ঝোপের আড়ালে লুকায়ে, সব দেখেও কিচ্ছু করতে পারল না। আম্মু তখন পেটে, নয়টা মাস... কি কষ্ট, কি যন্ত্রণা... আমার মা কোনোদিন তার বাবাকে দেখে নাই, আব্বু বলে কারোর কোলে ঝাপায়া পড়ার সুযোগ পায় নাই কোনোদিন, ভাইয়ের সংসারে মানুষ হইছে, বাবার আদরটুকু পাওয়ার সৌভাগ্য হয় নাই, নীরবে কেঁদে গেছে শুধু...
তাই আজকে যখন শুষিলসমাজ পাকিস্তানী শুয়োরের মতো ঘোঁত ঘোঁত করে বৃদ্ধ মানুষদের ফাঁসিতে ঝোলানোর নিন্দা জানায়, মাথার রক্ত চড়ে যায়। মসজিদের মধ্যে ঢুকেও বাঁচতে পারে নাই মোয়াজ্জেমরা, ইসলামের নামে তাদের জবাই করছিল সুবহান, চামড়া ছিলে গাছে ঝুলায়া রাখছিল মোহাম্মদ আলীর, আজকে যখন সেই সুবহানরে ইসলামের সেবক বানায়া ইসলাম ধ্বংসের প্রতিবাদ জানায় কিছু শুয়োরের বাচ্চা, মাথার ভিতরে হঠাৎ আগুন ধইরা যায়। আলাদা করে ফেলতে ইচ্ছা করে এই জারজ শুয়োরগুলার প্রতিটা কোষ... খুনি হইতে ইচ্ছা করে খুব... খুনি হইতে ইচ্ছা করে...
- Rahman Raad

ধ্রুব সত্য হয়ে এসো - সুমি খান



জন্ম-মৃত্যুর মতো ধ্রুব সত্য হয়ে এসো
হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ছুঁয়ে জাগালে ঘুমন্ত হৃদপিন্ড
বুকের ভেতর নামালে সুখের ঝর্ণাধারা-
আঁজলা ভ'রে ভালোবাসা নিলে
ধ্রুবজ্যোতি আমার
দ্বিধার দ্বৈরথেই তোমায় গ্রহণ করলাম-


তোমার অখণ্ড আকাশ
 আর অনন্ত নীলিমা দিলে -
হাতে এনে দিলে দূরের কপোতাক্ষ
সবুজ অসীমের চর্যাপদ !

আদিম শিকড় উপড়ে ফেলে
বৃক্ষের মতো
জন্ম-মৃত্যুর মতো
ধ্রুব সত্য হয়ে এসো-
অতিক্রান্ত অতীতের সব স্মৃতি সব ছায়া নিশ্চিহ্ন করে
শুদ্ধতার অগ্নিস্নান শেষে
এসো
ভালোবাসার অভিষেকে।


বসন্তের নির্জন দুপুরের বৃষ্টিধারা-
গোধূলির মায়াবি আলোয়
 তোমার নীরব চোখের চাওয়া
ধ্রুপদ স্বপ্নের মায়াবিনী আলোয় ভেসে যায়

 নিবিড় অপলকে
অপরূপ বিকেলের কাছে
দিনশেষে করতলে গুঁজে দিলে
জ্বলজ্বলে শুকতারা !!


বিকেল ৩টা ২২ মিনিট,২১শে ফেব্রুয়ারী ,২০১৫
ঢাকা

Thursday, February 19, 2015

১৯৮২ সালে কাদের সিদ্দিকীকে লেখা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক চিঠি

 
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চিঠিটি কাদের সিদ্দিকীকে লিখেছিলেন ১৯৮২ সালের ১৫ অক্টোবর।এতদিন পর কাদের সিদ্দিকী ঐ চিঠিটি প্রকাশের উদ্দেশ্য কী ,তা জানা না থাকলেও চিঠিটি পড়লে আমরা অজানা এক শেখ হাসিনাকে জানা যায়-
ঐতিহাসিক এই চিঠিটিতে অসাধারন শব্দচয়ন, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের প্রত্যয়, '৭১ এর ঘাতকদের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার ঘৃণা আর  ক্ষোভ , স্বাধীনতাবিরোধীদের সমূলে ধ্বংস সহ  আগামীর  বাংলাদেশ কেমন হবে সেটাই প্রকাশ পেয়েছে-

 
 ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হন।  এরপর তিনি ভারতের শিমলায় যান পুত্র সজীব
ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কে দেখতে। তারা সেখানে স্কুলে পড়তেন।
সে সময়  কাদের সিদ্দিকী ভারতের কলকাতায় নির্বাসিত ছিলেন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলে কাদের সিদ্দিকী সশস্ত্র
বিদ্রোহ করে ভারতে নির্বাসনে যান। 

কাদের সিদ্দিকীকে লেখা  শেখ হাসিনার চিঠি ..................
 
‘জানি খুব রেগে আছ। মনে হয় দূর থেকেও তোমার রাগ দেখতে পাই। আমার
সঙ্গে তো শুধু রাগ অভিমানই করলে আবার
এও জানি যত রাগই কর না কেন আপার সামনে এলে সব রাগ পানি হয়ে যেতে বাধ্য।
চিঠি দেই না দেখে এটা ভেব না যে, মনে করি না।
সব সময় মনে করি। খবরও যে পাই না তা নয়, খবরও পাই।’
‘তাছাড়া ঢাকায় অনেক ভিড়ের মাঝে আমি ভীষণ একা।
প্রায়ই পরশ-তাপসদের (মনি ভাইয়ের বাচ্চারা) কাছে যাই একটু সান্ত্বনা পাই।
কি যন্ত্রণা নিয়ে যে আমি সেখানে থাকি কাউকে বলতে পারব
না।
যখনই অপারগ হই দম বন্ধ হয়ে আসে। এখানে চলে আসি। তাছাড়া অনেক আশা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম।’
‘আজ দেশ বিরাট সঙ্কটের মুখে—স্বাধীনতা বিরোধী চক্র কিভাবে শক্তি সঞ্চয় করেছে …যেখানে সমগ্র দেশ, সমগ্র বিশ্বজাতি জাতির পিতা বলে মানে সেখানে কয়েকটা ক্ষমতা দখলকারীরাই মানতে রাজি নয়…’ ‘যে লক্ষ্য সামনে রেখে স্বাধীনতা চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, সে স্বাধীনতা লক্ষ্য থেকে আজ অনেক দূরে দেশ চলে গেছে।
১৫ই আগস্টের যে ষড়যন্ত্র দেশ ও জাতিকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্র। আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার হারিয়েছি, সেই অধিকার আজও আদায় করতে পারলাম না।
যখন দেশ ও জাতি এই সঙ্কটের সম্মুখীন তখন একটি দল—সব থেকে একটি সংগঠিত দল—জাতির পিতার হাতে গড়া স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক
দলের কি ভূমিকা হওয়া উচিৎ? এখানে আমার দায়িত্ব বড়? না দেশ ও জাতির স্বার্থ বড়? একটি দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে কত ‘আমি’কে বিসর্জন দিতে হয় তবেই
না লক্ষে পৌঁছানো যায়। কিন্তু আমাদের দলের কি ভূমিকা কি চেহারা আমি পেয়েছি?’
‘কারো বাড়া ভাতে ছাই ঢালতে আমি যাই নাই।  আমি ‘জাতির পিতার’ মেয়ে—সেই হিসাবে শুধু সেই হিসাবেই যে ভালবাসা যে সম্মান আমি এই বয়সে পেয়েছি।সারাজীবন আমার বাবা সাধনা করেছেন, ত্যাগ করেছেন তারই দানে আমি সমগ্র জাতির ভালবাসা,
সম্মান পেয়েছি—আমার আর পাবার কি আছে? আমি এখন দিতে চাই।’
 
 ‘আমি সবই হারিয়েছি, চরম মূল্য দিয়েছি। আমার আর হারাবার কিছু নাই। চরম ত্যাগের মনোভাব নিয়েই যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল, তা পালন করতে গিয়েছিলাম (স্বপ্নেও কখনও ভাবি নাই যে এত বড় গুরুদায়িত্ব আমার উপর পড়বে) কিন্তু সেখানে গিয়ে কি পেয়েছি—সব থেকে বেশী সাহায্য সহযোগিতা যাদের কাছ থেকে পাব
আশা করেছিলাম সেখানে বড় ফাঁক। 
এই এক বছরের ঘটনা কিছু বিশ্লেষণ করলেই দেখবে, বুঝবে। যার যা যোগ্যতা কর্মদক্ষতা তার মধ্য দিয়েই উঠবে কিন্তু একজনকে ছোট করে খাটো করে আর একজন উঠবে সেটা তো হয় না।’  ‘আর এখানে তো আমরা দিতে এসেছি। কিন্তু সে মনোভাব কোথায়? অনেক খোঁজ-খবর পেয়েছি—দলের ভিতরেও এজেন্ট আছে স্বাধীনতা বিরোধীচক্রেরই এজেন্ট তারাই দলের ইমেজ নষ্ট করবার জন্য— যাতে এগোতে না পারে সে জন্য, মূল
লক্ষে যাতে পৌঁছাতে না পারে তারই জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ সচেতনভাবে কেউ অবচেতনায় সাহায্য করছে। বুঝতেও পারছে না—আত্মচিন্তায় এতটুকু চেতনাও হচ্ছে না যে কি সর্বনাশ দেশ ও জাতির জন্য করে যাচ্ছে।’ ‘আজকের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে সকলকে এক থাকতে হবে, বৃহৎ স্বার্থে কাজ করতে হবে—আজকে সে সময়
নয় যে, ব্যারোমিটার দিয়ে কে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কতটুকু বিশ্বাসী তা মাপার সময় এখন নয়। সেটা বোঝা যাবে ভবিষ্যতে কাজের মধ্যে দিয়ে কিন্তু কিছু কার্যকলাপ এভাবেই চলছে। তাতে গোটা দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। একটা স্থবিরতা এসে যাচ্ছে সে চেতনা কারো নেই। তার উপর সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, যারা এই ধরনের কথা তুলে দলকে এগোতে দিচ্ছে না তারা কি সত্যিই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী না কি জীবনেও যাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়িত হতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় নিমগ্ন, সেই প্রশ্নই আজ মনে আসে।  
 'গতবারই একটা কথা বলেছিলাম, ভীষণ একা আমি। শাঁখের করাতের ভিতর দিয়ে চলছি। তবে নিরাশ নই যা ঘটছে আমার বিশ্বাস একদিন না একদিন সফলকাম হবই।
হত্যার প্রতিশোধ নেবই। ২/৪টা খুনী মারলেই হবে না।  মূল থেকে উপড়াতে হবে সেটা মনে রেখো '। ‘যারা বঙ্গবন্ধুর গায়ে হাত দিতে সাহস করে তাদের দুর্বল ভাবলে চলবে না।  মাটির অনেক গভীরে তাদের শিকড় গাড়া সেটা মনে রাখতে হবে। যাক্, অনেক বকবক করলাম। মনের কথা আমি খুব কমই বলি। স্মৃতি রোমন্থনই বেশী করি, আজ অনেক কথা লিখলাম…’
ইতি : আপা
১৫/১০/৮২

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পুরষ্কার:১২ জন স্বঘোষিত খুনীকে কূটনৈতিক পদ দেন জিয়া

 ১৯৭৬ সালের ৮ই জুন বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী ১২ জন স্বঘোষিত খুনীকে কূটনৈতিক
পদে নিয়োগ দেন
জিয়া।
 
সেই খুনীরা হলোঃ

 ১)লেঃ কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, প্রথম সচিব,চীন।
২)লেঃ কর্নেল আজিজ পাশা, প্রথম সচিব,আর্জেন্টিনা।
৩)মেজর মহিউদ্দীন, দ্বিতীয় সচিব, আলজেরিয়া।...

৪)মেজর শাহরিয়ার, দ্বিতীয় সচিব,ইন্দোনেশিয়া।
৫) মেজর বজলুল হুদা, দ্বিতীয় সচিব, পাকিস্তান।
৬)মেজর রশীদ চৌধুরী, দ্বিতীয় সচিব,সৌদি আরব।
৭) মেজর নূর, দ্বিতীয় সচিব, ইরান।
৮)মেজর শরিফুল হোসেন, দ্বিতীয় সচিব, কুয়েত।
৯)ক্যাপ্টেন কিসমত হোসেন, তৃতীয় সচিব,আবুধাবি।
১০) লেঃ খায়রুজ্জামান, তৃতীয় সচিব, মিসর।
১১) লেঃ নজমুল হোসেন, তৃতীয় সচিব, ক্যানাডা।
১২) লেঃ আবদুল মজিদ, তৃতীয়. সচিব, সেনেগাল।

--- অনেকেই বলে শুনি যে ( আমি মুজিব আর জিয়া দুজনকেই সম্মান করি ) , তাদের
কাছে জানতে চাই তোমরা কি উপরের এগুলো জেনে বলো, নাকি না জেনে ?
না জেনে বললে জানার অনুরোধ রইলো!

দ্বিধান্বিত সময়-মম

তোমার বক্ষযুগল উম্মুক্ত করার সময়
বক্ষবন্ধনী উপরে উঠাবে, না নীচে নামাবে,
তা নিয়ে কাটে তোমার দ্বিধান্বিত সময়!
হাল্কা কপট রাগ দেখিয়ে তুমি সীমিত করতে চাও সময়
কিন্তু চক্ষু যুগল বুঁজে আসে তোমার সুখের আবেশে
অপেক্ষায় থাকো আমার -

কখন সিক্ত হবে আমার ঠোঁটের পরশে
তুমি হাল্কা কেঁপে ঊঠো
তোমার গহীনে জোয়ার ভাঁটার টান শুরু হয়
তুমি ক্ষনে ভাঙ্গো- আবার পরক্ষনেই গড়ো
আমার দন্তমুলের কারুকাজ যখন রাঙ্গায়
তোমার হৃদপিন্ডের উপরিভাগের মাংস পিন্ডকে
তুমি তখন হারিয়ে যাও স্বপ্নীল আবেশে
তোমার কানগুলি কাঁপা কাঁপা আহবান জানায়
তোমার বুকের অমৃত সুধা মুখে নিয়ে

মরতে চায় এ যুগের কোন্ পাগল প্রেমিক
তার জানা নাই এসপারা গাস, কেভিয়ার
বা গন্ধম ফল ও এর চাইতে সুস্বাদু ছিল কিনা
তুমি যদি সেখানে লাগাও হেমলক বা সায়নাইড এর নির্জাস-
তাতেও পরোয়া নাই আমার
কারন আমার পরম চাওয়াই যে ওইভাবে তোমার সুধা পানরত মৃত্যু
কিন্তু আজরাঈল এর কি সাধ্য আছে জান নেবার??

Monday, February 16, 2015

আকাশ ভেঙ্গে সৃষ্টিছাড়া বৃষ্টি- সুমি খান

আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি -
আমি ভিজতে ভিজতে ফুটপাত -
তারপর গাড়ির দরোজা খুলে সিটে বসতে বসতে
মুছে নেই এলোমেলো বৃষ্টিভেজা চুল
আমার আজন্ম সাধ -
স্টিয়ারিংয়ে তোমার হাতে হাত রেখে বৃষ্টি দেখবো-
প্রিয় বন্ধু আমার!
শাহবাগ পেরিয়ে ছবির হাট-
একটু থামো -
তোমার হাত ধরে মোল্লার মেঠো পথে হেঁটে চলা-
ছায়াবৃক্ষে আড়াল হলো বৃষ্টির তেরছা জল গুলো-
যেমন সৃষ্টিছাড়া বৃষ্টি !
তুমি ও তেমনি সৃষ্টিছাড়া-
আমার হাত ধরে টেনে নিলে তোমার ড্রাইভিং সিটের পাশে-
হাওয়ায় হাওয়ায় লাগে টান-
সিগারেটের ধোঁয়ার কুন্ডলি-
তোমার মাতাল ঘ্রান
আমি উন্মাতাল!!
খেয়াল ই করিনি কখন -
গাজীপুর ন্যাশনাল পার্কে ছুটে গেলো তোমার গাড়ি-
শুধু বৃষ্টি-
 শুধু মেঘলা আকাশ-
আর কামিনী -জুঁই -বকুলের গন্ধে বিভোর আমি
 বৃষ্টি ভেজা ছাদ দেখে
 ফিরে যাই অতীত বন্দনায়-
কারণ,
 তুমি চাও আমি শুধু স্বপ্নে থাকি-
আর চাও ইস্কাটনে বৃষ্টি!!


বেলা ১২টা ১০ মি.১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ মঙ্গলবার

 

প্রাণ ভরে ভালবাসা নিও-সুমি খান

প্রাণ ভরে ভালবাসা নিও-সুমি খান
খুব ভোরে পূবের আকাশটা
লাল আভায় ভরে দিলো প্রাণ মন -
ভালবাসা নিও।
জন্মের শুভক্ষণে ...

বিছানার এক কোণে পড়ে থাকা তোমার আধো ঘুমন্ত দেহটা
পরম আদরে, আমার উষ্ণ বুকে টেনে নিলাম -
সবটুকু ভালোবাসা শুধু তোমার জন্যে !

যখন কোন এক গনগন জন্ডিসের মতন হলুদে দুপুরে
চোখের দৃষ্টি যখন প্রখর রোদের প্রতিরোধে
বাধ্য মেয়ের মতন উপন্যাসের বইয়ে মুখ গুঁজবে
পিছন থেকে খুব ছোঁয়ায় চোখ দুটি ধরবো আড়াল করে
পাগল করা ভালবাসা নিও। 


 আর কিছু না শুধু একটু ভালবাসা নিও।

যখন কোন ক্লান্ত দুপুর গড়িয়ে বিকাল হবে -
 আনমনা এ উদাসী মন
দুষ্টু মেঘেদের সাথে ছোঁয়াছুয়ি খেলায় ব্যস্ত থাকবে-
গরম ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে ভুলে চুমক দিয়ে
হঠাৎ সংবিত ফিরে পাওয়া ঠোঁটে তখন
ভালবাসা নিও।
দগ্ধ পোড়া লালচে যাতনায়
একটু নয়- ঠিক যতোটা চাও-
প্রাণ ভরে ভালবাসা নিও।
কোন এক মন খারাপের দিনে!!
যদি পারো ছুঁয়ে থেকো এ ভালোবাসা -
অসীমের পানে চলে যাওয়া অবধি-
নিরবধি!
বেলা ১১টা ৪৭ মি.
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫, মঙ্গলবার
এই পাহাড়ি ঢাল  , সিঁড়ি, পর্তুগীজ নিদর্শনের লাইব্রেরি ভবন (অন্যদিন সেই নিদর্শনের ছবি বন্ধুদের জন্যে দেবো)....সব ছুঁয়ে আছে আমার অষ্টাদশীর ছোঁয়া...এইচ এস সি ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্টে চট্টগ্রাম কলেজে ওয়েটিং লিষ্টে নাম ছিল।তার  অপেক্ষা না করে এই পাহাড়ি ঢালের আকর্ষণ আর আমার ভাইয়া এ কলেজ থেকেই এইচএসসি পাশ করেছে -সেই ইমোশান থেকে মহসিন কলেজেই ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানেই আমাদের স্কুলের বন্ধু সানজু, টকি, খায়রুন (জিরাফ) কে পেলাম। পেলাম নতুন বন্ধু সিমাকে। আমরা সাত বান্ধবী তখন পুরো পাহাড়ি এলাকা জুড়ে কলেজ ক্যাম্পাসের এ প্রান্ত ওপ্রান্ত দাপিয়ে বেড়াতাম। ধরাকে যেন সরাজ্ঞান করছিলাম। তবে রাজাকার বাহিনী শিবির অধ্যূষিত চট্টগ্রাম কলেজ এবং মহসিন কলেজের ক্যাম্পাসে আমি  ছুটে বেড়াতাম রাজাকার নির্মূলের শপথে। সাতজনের মধ্যে একমাত্র  আমি স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের আন্দোলনে চট্টগ্রাম শহরের  প্রতিটি স্কুল কলেজের কন্যাদের রাজপথে নামাতে ব্যস্ত। সেনাশাসনের কামান গোলা তুচ্ছ করে মৃত্যু কে পায়ের ভৃত্যে পরিণত করে পায়ে হেঁটে ছুটে বেড়াতাম শহরের এ প্রান্ত থেকে  ওপ্রান্ত।আমার ছয় বান্ধবী আমাকে ক্লাসে কম পেতো; তবু তাদের  অসীম ভালোবাসায় তাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিলাম আমি। ভাবতে হাসি পায়, ক্লাসরুম অনেক মেধাবী ছাত্র থাকলেও  আমরা সেভেন স্টার কোন ছেলের সাথেই কথা বলতাম না! সানজুর মতো রূপবতী বান্ধবী থাকাতেই বোধহয় ক্লাসের ছেলে বন্ধুদের এতো তুচ্ছ করে ভাবতাম অষ্টাদশীতেই! সানজু,  কী বলিস্??

শুধু একটু ভালবাসা দিও -মম


কোন এক খুব ভোরে
পূবের আকাশটা যখন হবে কালচে সাদা
একটু ভালবাসা দিও।

পরম আদরে, তোমার উষ্ণ বুকে টেনে নিও
বিছানার এক কোনে পড়ে থাকা
আমার আধো ঘুমন্ত দেহটাকে।
খুব বেশি না ...শুধু একটু ভালবাসা দিও।

যখন কোন এক গনগন জন্ডিসের মতন হলুদে দুপুরে
চোখের দৃষ্টি যখন প্রখর রোদের প্রতিরোধে
বাধ্য মেয়ের মতন উপন্যাসের বইয়ে মুখ গুঁজবে
পিছন থেকে খুব ছোঁয়ায় চোখ দুটি ধরবে আড়াল করে
তোমার অদ্ভুত মায়াবী গন্ধে
পাগল করা ভালবাসা দিও।
আর কিছু না-
 শুধু একটু ভালবাসা দিও।

যখন কোন ক্লান্ত দুপুর গড়িয়ে বিকাল হবে
আমার এই আনমনা উদাসী মন থাকবে
দুষ্ট মেঘেদের সাথে ছোঁয়াছুয়ি খেলায় ব্যস্ত

গরম ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে ভুলে চুমক দিয়ে
হঠাৎ সংবিত ফিরে পাওয়া ঠোঁটে তখন ভালবাসা দিও।
দগ্ধ পোড়া লালচে যাতনায় খুব বেশি না একটু, -
জাষ্ট একটু ভালবাসা দিও।

কোন এক মন খারাপের দিনে

ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়
বেদনার রাত্রি সঙ্গী হয়ে
করে আলিঙ্গন।
ভালোবাসা সুদূর দিপালিকা
ভালোবাসা কখনও
জানালায় আসা
এক ফালি চাঁদ।
ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়
বিরহে পুড়ে দেহ হয় অঙ্গার।
ভালোবাসা সীমাহীন আকাঙ্ৰা