Wednesday, December 11, 2013

কাদের মোল্লাকে নিয়ে আমার দেশ পত্রিকার আষাঢ়ে কাহিনী: ড. মোজাম্মেল এইচ খান



কাদের মোল্লা হলেন আমাদের রাজেন্দ্র কলেজের ১৯৬৪-১৯৬৬ এইচএসসি ব্যাচের সবচেয়ে পরিচিত মুখ এবং তিনি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমধিক পরিচিত ব্যক্তি, তা সে যে কারণেই হোক না কেন। এমন কি তিনি আমাদের সে সময়ের আর এক সহপাঠী বেগম জিয়ার বিগত শাসনামালের মন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদকেও পরিচিতির দিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন, যদিও মুজাহিদও একইভাবে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলার অপেক্ষায় রয়েছেন, যদি না সুপ্রীমকোর্ট তার দ-কে উল্টে না দেয়। কাদের মোল্লা শুধু আমার সহপাঠীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার হোমমেট। আমরা দু’ডজনের মতো ছাত্র একটি স্টুডেন্টস হোমে দু’বছর একসঙ্গে বাস করেছি, খেয়েছি এবং নামাজ আদায় করেছি (এটা ছিল সুপারের আদেশে বাধ্যতামূলক)। 

১৯৬৬ সালে আমি ঢাকায় চলে আসি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য। কাদেরের এইচএসসি ফলাফল ভাল না হওয়ায় সে ওই কলেজেই পাস কোর্সে বিএসসি পড়া শুরু করে। বিগত ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়ে দেশবাসীর বহু আকাক্সিক্ষত মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তার যখন যাবজ্জীবন কারাদ- হয় সে পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ডেইলি স্টার পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখি, যেটা ওই পত্রিকার ৯ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

আমি দ্বিতীয়বার তার সম্পর্কে লিখতাম না যদি না অলিউল্লাহ নোমান নামে আমার দেশ পত্রিকার এক বিশেষ প্রতিনিধির লেখা, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ওই পত্রিকার ২০ সেপ্টেম্বরের সংস্করণের কাদের মোল্লাকে নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধ আমার চোখে না পড়ত। পাঠক অচিরেই বুঝতে পারবেন এটাকে নিবন্ধ না বলে আষাঢ়ে কাহিনী বলাই ঠিক হবে। একটা কত বড় মিথ্যা যে কোন এক দৈনিক সংবাদপত্র গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করতে পারে সেটা আমার এ নিবন্ধ না পড়লে কেউ সম্ভবত বিশ্বাস করতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা প্রচারই ওই পত্রিকার সবচেয়ে বড় শক্তি। কোন সভ্য এবং গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের পত্রিকার অবস্থিতির কথা চিন্তাই করা যায় না। নাইন ইলেভেনের পরে যদি এ ধরনের কোন সংবাদপত্র উত্তর আমেরিকায় থাকত তাহলে বিশেষ করে মুসলমানদের পশ্চিমা দুনিয়ায় বাস করা দুষ্কর ও দুঃসহ হয়ে যেত। আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে মিথ্যা কত প্রকার এবং কি কি? আমার উত্তর হবে মিথ্যা তিন প্রকার : মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা এবং আমার দেশ।

আমি ভেবে আশ্চর্যান্বিত হই এ ধরনের একটি সংবাদপত্র প্রকাশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার এবং এর গোয়েবলসীয় সম্পাদকের মুক্তির জন্য আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা রাস্তায় নেমে আসেন। কাদের মোল্লা সম্পর্কে ওই নিবন্ধটি পড়ার পর আমি আমার বিবেক এবং বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সত্য তুলে ধরার মানসে এ নিবন্ধটি লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। এ প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে অনুভব করেছি এ কারণে যে, কাদের মোল্লাকে বহু আকাক্সিক্ষত মৃত্যুদ-ের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্মের বাঙালী সন্তানদের মাঝে দেশপ্রেমের নবজাগরণ ঘটে এবং বিপুলভাবে জননন্দিত গণজাগরণ মঞ্চের অভ্যুদয় ঘটে।

এবারে দেখা যাক আমার দেশ প্রতিনিধি কাদের মোল্লার অতীত সম্পর্কে কি লিখেছে। 

‘আদালতের বাইরে চাউড় রয়েছে আবদুল কাদের মোল্লা রাজাকার নন, ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আবদুল কাদের মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন সমাপ্ত করেছেন। তাঁর ডিপার্টমেন্টে তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এত বড় কসাই রাজাকার হয়ে থাকলে ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপটের সঙ্গে অধ্যয়ন সমাপ্ত করার কথা নয়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত উদয়ন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। কসাই রাজাকার হয়ে থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের পর পর তখনই উদয়ন স্কুলে চাকরি পাওয়ারও কথা নয়। তখন শেখ মুজিবুর রহমানের দাপুটে শাসন চলছিল। এত বড় কসাই রাজাকার শেখ মুজিবের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম তারপর উদয়ন স্কুলে চাকরি প্রাপ্তি! বিষয়টা যেন কেমন লাগে। 

আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রীর একটি স্টেটমেন্ট অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরিও দিয়েছিলেন। সেটা সত্য হয়ে থাকলে আর আবদুল কাদের মোল্লা কসাই রাজাকার হলে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে চাকরি দিলেন কেমন করে! রাজাকার হলে তো অন্তত তাঁকে চাকরি দেয়ার কথা নয়। এছাড়া ১৯৭৭ সালে আবদুল কাদের মোল্লা রাইফেলস্ স্কুল এ্যান্ড কলেজে চাকরি করেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তখন পর্যন্ত কিন্তু আবদুল কাদের মোল্লা এত বড় কসাই রাজাকার ছিলেন বলে কেউ শোনেননি।’
১৯ সেপ্টেম্বর তারিখে কাদের মোল্লার পরিবার দেশবাসীর উদ্দেশে এক আবেদন করেছে। দেখা যাক, ওই আবেদনে তার শিক্ষা এবং অতীত সম্পর্কে কি বলা হয়েছে। 

‘তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ১৯৬৯ সালে। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে শেখ মুজিবর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের পরে আবদুল কাদের মোল্লা গ্রামের বাড়িতে চলে যান এবং যুদ্ধের পুরো সময় তিনি গ্রামেই অবস্থান করেন। ১৯৭২ সালে তিনি পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এসে শহীদুল্লাহ হলে অবস্থান করে অধ্যয়ন অব্যাহত রাখেন ও ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৭৯ সালে জনাব আবদুল কাদের মোল্লা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।’ 

পাঠক লক্ষ্য করুন, কাদেরের পরিবারের বিবরণে তিনি ১৯৭২ সালে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ‘তাঁর ডিপার্টমেন্টে তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন’ এ ধরনের কোন দাবি নেই; বরঞ্চ তিনি যে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন সে কথাই বলা হয়েছে। এমন কি তিনি যে কোন ডিগ্রী পেয়েছেন সেটার কোন উল্লেখ নেই। তেমনিভাবে ‘যুদ্ধের পুরো সময় তিনি গ্রামেই অবস্থান করেন’ সে কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন সেটার কোন উল্লেখ নেই। তেমনিভাবে ‘শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরিও দিয়েছিলেন’ সেটাও কাদেরের পরিবার উল্লেখ করেনি। 

কাদেরের পরিবার কিছু তথ্য গোপন করেছে টাইম লাইন মেলানোর জন্য।
এইচএসসি ফলাফলে কাদের গড়পড়তা ছাত্রের থেকে নিচে ছিল যার ফলে সরাসরি সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেনি। যার ফলে সে রাজেন্দ্র কলেজেই বিএসসি পড়ে (১৯৬৬-১৯৬৮) এবং ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাস কোর্সে এমএসসিতে ভর্তি হয় যেটা তার পরিবারের দেয়া সময়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যাচ্ছে, যদিও তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী সে এসএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। অথচ কাদের আমাদের সঙ্গে এসএসসি পাস করেছে ১৯৬৬ সালে। তাহলে এর মাঝে দুই বছরের বেশি সময় তিনি কি করেছেন? তার পরিবার বলেছে সে স্বাধীনতার পর পরই ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসে এবং ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সেখানে অধ্যয়ন করে। এ বক্তব্যের প্রথম অংশটুকু সত্য নয় এবং যে কোন পাঠকই বুঝতে পারবেন দুই বছরের এমএসসি ডিগ্রীর জন্য ৮ বছর (১৯৬৯-১৯৭১, ১৯৭২-১৯৭৭) বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করার হিসাব মেলানো যায় না।
আমাদের ব্যাচের সবাই ১৯৭২ সালের মধ্যেই এমএ বা এমএসসি ডিগ্রী শেষ করে। প্রকৃত ঘটনা হলোÑ ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের পর কাদের আত্মগোপন করে এবং ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান যখন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন তখন সে আত্মগোপনতা থেকে বেরিয়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তি হয় এবং ১৯৭৭ অবধি সে ছাত্র ছিল।
কাদেরের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আমার দেশ প্রতিনিধির কল্পনাটা এ রকম: ‘আবদুল কাদের মোল্লা ছাত্রজীবনে দীর্ঘ সময় প্রগতির দাবিদার ছাত্র ইউনিয়ন করেছেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নেতা ছিলেন তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা রাশেদ খান মেনন ও মতিয়া চৌধুরী। স্বাধীনতার পর পর কিন্তু আবদুল কাদের মোল্লার নেতা মতিয়া চৌধুরী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানিয়েছেন। কিন্তু হালে তিনি বড় আওয়ামী লীগার। আর তাঁরই এক সময়ের রাজনৈতিক অনুজ আবদুল কাদের মোল্লা হলেন কসাই রাজাকার! রাশেদ খান মেনন এবং মতিয়া চৌধুরী তাদের রাজনৈতিক অনুজ সম্পর্কে কী বলবেন! তারা কী বুকে হাত রেখে বলতে পারবেন আবদুল কাদের মোল্লা তাদের ছাত্র রাজনীতির অনুজ ছিলেন না!’
ভাবছি গাঁজায় কতটুকু টান দিলে এ ধরনের কল্পনা করা যায়। আসল তথ্য হলো আমাদের সময়ে (১৯৬৪-১৯৬৬) রাজেন্দ্র কলেজে সরকার সমর্থিত এনএসএফ ছাড়া আরও দুটি ছাত্র সংগঠন ছিল। সবচেয়ে শক্তিশালীটি ছিল প্রগ্রেসিভ স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, পিএসএফ (ছদ্মাবরণে ছাত্র ইউনিয়ন) এবং ছাত্রলীগ। আমাদের ধারণা ছিল পিএসএফ কমিউনিস্টপন্থী এবং ছাত্রলীগ কমিউনিস্টবিরোধী। প্রচ- কমিউনিস্টবিরোধী হিসেবে কাদের (এবং মুজাহিদ) ছাত্রলীগের সমর্থক ছিল। আমিও একই ছাত্র সংগঠনের সমর্থক হওয়াতে আমাদের মাঝে আরও একটু বেশি সখ্য ছিল। ১৯৬৭ সালে (আমি তখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র) মুজাহিদের (ওর বাবা মাওলানা আবদুল আলী ছিলেন ফরিদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি) নেতৃত্বে রাজন্দ্র কলেজে ইসলামী ছাত্রসংঘের পত্তন হয় এবং কাদের এবং আমাদের দু’জনেরই আর এক হোমমেট বন্ধু হাফিজ (রাজবাড়ী কলেজের অধ্যাপক) তখন ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগদান করে এবং দু’জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ছাত্র রাজনীতি বজায় রাখে। আমাদের তখনকার সহপাঠীদের মধ্যে দু’জন জাতীয়ভাবে পরিচিত। তাদের একজন হলেন বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং অন্যজন হলেন বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. সিএস করিম। তাদের কাছে আমার দেয়া তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। 

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের দলের ধারাবাহিকতায় কাদের এবং মুজাহিদ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত দিকে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে আলবদর বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হলে দু’জনেই সেটার নেতৃত্ব দেয়। ১৬ ডিসেম্বরের পর দু’জনেই আত্মগোপনে যায় এবং ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান যখন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন তখন আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসে। 

১৯৭৩ সালের প্রথমার্ধে আমি যখন উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে আসি তখন জানতাম না কাদের কোথায় আছে। ১৯৭৯ সালে আমি দেশে বেড়াতে গেলে একদিন যখন ঢাকার মগবাজারের রাস্তা দিয়ে হাঁটছি তখন পেছন থেকে একজন আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘তুই কি মোজাম্মেল? আমি কাদের।’ আমার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘কাদের, তুই বেঁচে আছিস?’ কাদেরের উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ, আমি ভালভাবে বেঁচে আছি এবং এখন আমি দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক। তোর জয় বাংলা এখন এদেশ থেকে নির্বাসিত; ফিরে এসেছে আমাদের জিন্দাবাদ এবং এটা এখন প্রচ-ভাবে জাগ্রত।’ যেহেতু কাদের সত্য কথাই বলেছিল, সেহেতু আমি ওর কথার কোন জবাব দিতে পারিনি। কয়েক সপ্তাহ পরে আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাই তখন সংবাদপত্রে পড়লাম প্রেসক্লাবে একটি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিল কাদের মোল্লা; একেই বলে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! 

অবশ্য স্বাধীন বাংলাদেশে কাদের এবং মুজাহিদ যত সম্মানে সম্মানিত হোন না কেন, ১৯৬৪-১৯৬৬ সালে রাজেন্দ্র কলেজে তার সতীর্থরা দেশ তথা মানবতার বিরুদ্ধে তাদের অপকর্মের কথা ভোলেনি বা ক্ষমা করেনি। কয়েক বছর আগে মুজাহিদ যখন ত্রিশ লাখ শহীদের পবিত্র রক্তে কেনা আমার প্রিয় দেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে চলছিলেন, তখন আমাদের ওই ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কাদের এবং মুজাহিদের উপস্থিতিক নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দীর্ঘজীবী হোক আমার সতীর্থরা, দীর্ঘজীবী হোক আমার প্রিয় দেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

লেখক : কানাডা প্রবাসী অধ্যাপক

Monday, December 9, 2013

যুগ যুগান্তরে পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রেরণা রোকেয়া- সুমি খান

 ১৮৮০ সালের ৮ ডিসেম্বর রোকেয়ার জন্ম। ১৯০৪ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে রোকেয়া লিখেছিলেন, "পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষরা কেবল গায়ের জোরেই মেয়েদের বঞ্চিত করেছেন সকল ন্যায্য অধিকার থেকে।  প্রবল সব বাধা অগ্রাহ্য করে যখনই কোন ভগিনি  মস্তক তুলিয়াছেন , অমনি ধর্মের দোহাই  বা শাস্ত্রের বচন-রূপ অস্ত্রাঘাতে তাহার মস্তক চূর্ণ হইয়াছে.... আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্যে পুরুষগণ এই ধর্মগ্রন্থ গুলি ঈশ্বরের আদেশ বলিয়া প্রচার করিয়াছেন।এই ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষরচিত বিধিব্যবস্থা ভিন্ন কিছুই নহে।  মুনিদের বিধানে যে কথা শুনিতে পান, কোন স্ত্রী-মুনির বিধানে হয়তো তার বিপরীত চিত্র দেখিতে পাইতেন। ধর্ম আমাদের দাসত্বের বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করিয়াছে; ধর্মের দোহাই দিয়া পুরুষ এখন রমনীর উপর প্রভূত্ব করিতেছে।"
এ কালে ও রোকেয়ার এ বাণীর সত্যতা দেখতে পাই আমরা  হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ  শফীর 'তেঁতুল তত্বে'।

 এ কথা গুলো সবার জানা । তবু এখানে প্রসঙ্গক্রমে তুলে ধরছি। কারণ, অনেকেই এই কথা গুলোই ধর্মের বাণী এবং বেদবাক্য হিসেবে নিয়েছেন। এর মধ্যে অনেক নারী ও আছেন। তরুণ- তরুণী ও আছেন।  শফি  ইসলাম ধর্মের দোহাই দিয়ে কর্মজীবি নারী কে ঘরের চার দেয়ালে বন্দী রাখার 'নির্দেশ' দিয়েছেন ।  তার মতে, নারীদের কাজ হলো, আসবাবপত্রের যত্ন নেয়া, সন্তান লালন পালন করা এবং ঘরের মধ্যে থাকা। এক ওয়াজ মাহফিলে এসব কথা বলে  তার ওয়াজের শ্রোতাদের আরো বলেছেন,"আপনার মেয়েকে কেন গার্মেন্টসে দিছেন? ফজরে ৭-৮ টায় চলে যায়, রাত ৮-১০ টা ,বারটায়ও আসে না, কোন পুরুষের সঙ্গে ঘুরাফিরা করতেছে, তুমিতো জান না, কত জ্বেনার মধ্যে মুকতালা হচ্ছে। তোমার মেয়ে  জ্বেনা কইরা কইরা টাকা রোজগার করতেছে, কি বরকত হইবে? আপনার মেয়ে স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে পড়তেছে। আরে, ক্লাস ৪/৫ পর্যন্ত লেখা পড়া করান, যাতে বিবাহ শাদী দিলে স্বামীর টাকা পয়সার হিসাব রাখতে পাইরবে, এমত এতটুকু।" আরো  অশ্লীল ভাষায় বলেছেন ,মেয়েরা হইলো তেতুলের মত। দেখলেই দীলের মইধ্যে লালা বাইর হয়। তেতুল গাছের নিছে দিয়া গেলে জিফরায় লালা আসে। এই মহিলাদের সঙ্গে লেখাপড়া কইরতেছেন দিল ঠিক রাখতে পাইরবেন না। যতই বুজুর্গ হউন মহিলাকে দেখলে, তাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলে তোমার দিলের মইধ্যেও কূভাব আইসা যাবে, খারাপ খেয়াল এইটা মনের জ্বেনা, দিলের জ্বেনা, দিলের জ্বেনা, হইতে হইতে এইটা আসল জ্বেনায় পরিনত হবে। কেউ যদি বলে,আমি বূড়া মানুষ, হুজুর মহিলাকে দেখলে আমার দিল খারাপ হয় না, কূ খেয়াল দিলের মইধ্যে আসে না, তা হলে আমি বইলবো’ এই ভাই, তোমার ধ্বজভঙ্গ বিমার আছে, তোমার পুরুষত্ব নস্ট হইয়্যা গ্যাছে। সেই জন্য মহিলা দেখলে তোমার কূভাব আসে না। আপনার বিবি ‘যাদের সঙ্গে বিবাহ হতে পারে……………..তাদের কাউকে দেখা দিতে পারবে না। আপনার বিবি যদি দেখা দেয় তবে যদি আপনে বাধা না দেন তবে আপনার জন্য বেহেস্ত হারাম হইয়া যাবে।”

 এমন ভয়ংকর আত্মবিনাশী বক্তব্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কোন প্রয়াস আমরা দেখিনি। এতো নারী সংগঠন আছেন, তাদের দাতাখোশ ভূমিকার কারণে আজ তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের  সচেতন করার বদলে  নারী দের হেজাবী করে জঙ্গীবাদে সক্রিয় ভাবে মাঠে নামাতে সক্ষম হচ্ছে হিজবুত তাহরীর আর হিজবুত তাওহীদ সহ অসংখ্য জঙ্গী সংগঠন। হাতে তাদের বিপুল অর্থ। লক্ষ্য একটিই -বাঙ্গালী  কৃষ্টি এবং সংস্কৃতির বিনাশ। 
এ প্রসঙ্গে রোকেয়ার বাণী ," আমাদের সব কার্যের সমাপ্তি বক্তৃতায়, সিদ্ধি করতালি লাভে..." 



রোকেয়া পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে চালিয়েছিলেন সার্বিক আক্রমণ। তিনি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছেন পুরুষতন্ত্রের তৈরি নারী ও পুরুষের ভাবমূর্তি; বর্জন করেছেন নারীপুরুষের প্রথাগত ভূমিকা; তুলনাহীনভাবে আক্রমণ করেছেন পুরুষতন্ত্রের বলপ্রয়োগসংস্থা ধর্মকে। রোকেয়া পরে ধর্মের সাথে কিছুটা সন্ধি করেছেন আত্মরক্ষার জন্যে; নইলে তাঁকে ও তাঁর আদর্শকে অত্যন্ত বিপন্ন করে তুলতো মুসলমান পিতৃতন্ত্র। তিনি এমন এক পিতৃতন্ত্রের সদস্য ছিলেন, যেখানে পুত্র মাকে শেখায় সতীত্ব।

ড. হুমায়ুন আজাদ তাঁর ‘নারী’ গ্রন্থের পুরুষতন্ত্র ও রোকেয়ার নারীবাদ অধ্যায়ে বেগম রোকেয়াকে এভাবেই নারীবাদী হিসাবে উপস্থাপিত করেছেন। তাঁর চোখে বেগম রোকেয়া ছিলেন পৃথিবীর এক শ্রেষ্ঠ নারীবাদী। পিতৃ ও পুরুষতন্ত্রকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে রোকেয়া একে বিপর্যস্ত করে রেখে গেছেন বলেই তিনি মনে করেছেন।

খুব সহজভাবে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন এমন অনেক কথাই বলেছেন বেগম রোকেয়া। তাঁর এই কথাগুলো শুধু নারীমুক্তির জন্য নয় দেশের মুক্তি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যও তিনি বলেছেন। এখানে বেগম রোকেয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি ব্লগের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

: অশিক্ষিত স্ত্রীলোকের শত দোষ সমাজ অম্লানবদনে ক্ষমা করিয়া থাকে। কিন্তু সামান্য শিক্ষাপ্রাপ্ত মহিলা দোষ না করিলেও সমাজ কোনো কল্পিত দোষ শতগুন বাড়াইয়া সে বেচারীর দোষ ঐ শিক্ষার ঘাড়ে চাপাইয়া দেয় এবং শত কন্ঠে সমস্বরে বলিয়া থাকে স্ত্রীশিক্ষাকে নমস্কার!

: শিশুকে মাতা বলপূর্বক ঘুম পাড়াইতে বসিলে, ঘুম না পাওয়ায় শিশু যখন মাথা তুলিয়া ইতস্ততঃ দেখে তখনই মাতা বলেন, ঘুমা শিগগির ঘুমা! ঐ দেখ জুজু! ঘুম না পাইলেও শিশু অন্তত চোখ বুজিয়া পড়িয়া থাকে। সেই রুপ আমরা যখন উন্নত মস্তকে অতীত ও বর্তমানের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, অমনই সমাজ বলে, ঘুমাও ঘুমাও ঐ দেখ নরক! মনে বিশ্বাস না হইলেও অন্তত আমরা মুখে কিছু না বলিয়া নীরব থাকি।

: বাস্তবিক অলংকার দাসত্বের নিদর্শন ভিন্ন আর কিছুই নহে। যদি অলংকারকে দাসত্বের নিদর্শন না ভাবিয়া সৌন্দর্যবর্ধনের উপায় মনে করা যায়, তাহাই কী কম নিন্দনীয়? সৌন্দর্যবর্ধনের চেষ্টাও কি মানসিক দুর্বলতা নহে।

: আমরা উপার্জন করিব না কেন? আমাদের কী হাত নাই, না পা নাই, না বুদ্ধি নাই? কি নাই? যে পরিশ্রম আমরা স্বামীর গৃহকার্যে ব্যয় করি, সেই পরিশ্রম দ্বারা কি স্বাধীন ব্যবসা করিতে পারিব না?

: আমরা যদি রাজকীয় কার্যক্ষেত্রে প্রবেশ করিতে না পারি, তবে কৃষিক্ষেত্রে প্রবেশ করিব। ভারতে বর দুর্লভ হয়েছে বলিয়া কন্যাদায়ে কাঁদিয়া মরি কেন? কন্যাগুলিকে সুশিক্ষিতা করিয়া কার্যক্ষেত্রে ছাড়িয়া দাও, নিজের অন্নবস্ত্র উপার্জন করুক।

: কার্যক্ষেত্রে পুরুষের পরিশ্রমের মূল্য বেশী, নারীর কাজ সস্তায় বিক্রয় হয়। নিন্মশ্রেণীর পুরুষ যে কাজ করিলে মাসে ২ টাকা বেতন পায় ঠিক সেই কাজ স্ত্রীলোকে করিলে ১ টাকা পায়। চাকরের খোরাকী মাসিক ৩ টাকা আর চাকরাণীর খোরাকী ২ টাকা।

: পর্দা অর্থে ত আমরা বুঝি গোপন হওয়া বা শরীর ঢাকা ইত্যাদি- কেবল অন্তঃপুরের চারি প্রাচীরের মধ্যে থাকা নহে। এবং ভালমতে শরীর আবৃত না করাকেই বেপর্দা বলি। যাঁহারা ঘরের ভিতর চাকরদের সম্মুখে অর্ধ নগ্ন অবস্থায় থাকেন, তাঁহাদের অপেক্ষা যাঁহারা ভালমত পোষাক পরিয়া মাঠে বাজারে বাহির হন, তাঁহাদের পর্দা বেশী রক্ষা পায়।

: ভগিনীগণ! চক্ষু রগড়াইয়া জাগিয়া উঠুন- অগ্রসর হউন! বুক ঠুকিয়া বল মা, আমরা পশু নই। বল ভগিনী, আমরা আসবাব নই। বল কন্যে, আমরা জড়োয়া অলংকার-রুপে লোহার সিন্দুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নই; সকলে সমস্বরে বল আমরা মানুষ।

: মুসলমান মতে আমরা পুরুষের অর্ধেক। অর্থাৎ দুইজন নারী একজন নরের সমতুল্য। অথবা দুইটি ভ্রাতা ও একটি ভগিনী একত্র হইলে আমরা আড়াই জন হই।

: আমাদের ধর্মমতে বিবাহ হয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা। তাই খোদা না করুক বিচ্ছেদ যদি আসে, তবে সেটা আসবে উভয়ের সম্মতিক্রমে। কিন্তু এটা কেন হয় এক তরফা, অর্থাৎ শুধু স্বামীর দ্বারা?

: হুকুর হুকুর কাশে বুড়া
হুকুর হুকুর কাশে
নিকার নামে হাসে বুড়া
ফুকুর ফুকুর হাসে।

: ঐ যে চটকল আর পাটকল- এক একটা জুট মিলের কর্মচারিগণ মাসিক ৫০০-৭০০ টাকা বেতন পাইয়া নবাবী হালে থাকে, নবাবী হালে চলে, কিন্তু সেই পাট যাহারা উৎপাদন করে, তাহাদের অবস্থা এই যে, পাছায় জোটে না ত্যানা! ইহা ভাবিবার বিষয় নহে কী? আল্লাহতালা এতো অবিচার কিরুপে সহ্য করিতেছেন?

: সর্ব অঙ্গেই ব্যথা ওষুধ দিব কোথা?

: আমরা উত্তমার্ধ তাহারা নিকৃষ্টার্ধ, আমরা অর্ধাঙ্গী, তাহারা অর্ধাঙ্গ। অবলার হাতেও সমাজের জীবন-মরনের কাঠি রহিয়াছে। যেহেতু না জাগিলে সব ভারত ললনা এ ভারত আর জাগিতে পারিবে না। প্রভুদের ভীরুতা কিংবা তেজস্বীতা জননীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। তবে শারীরিক বলের দোহাই দিয়া অদুরদর্শী মহোদয়গণ যেন শ্রেষ্ঠত্বের দাবি না করেন।

: অন্তত পক্ষে বালিকাদিগকে প্রাথমিক শিক্ষা দিতেই হইবে। শিক্ষা অর্থে আমি প্রকৃত সুশিক্ষার কথাই বলি। গোটা কতক পুস্তক পাঠ করিতে বা দু'ছত্র কবিতা লিখিতে পারা শিক্ষা নয়। আমি চাই সেই শিক্ষা যাহা তাহাদিগকে নাগরিক অধিকার লাভে সক্ষম করিবে, তাহাদিগকে আদর্শ ভগিনী, আদর্শ গৃহিনী এবং আদর্শ মাতা রুপে গঠিত করিবে।

 সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে  প্রধানমন্ত্রী  বলেন, ‘খামোখা মানুষ খুন করে, মানুষ পুড়িয়ে সারা দেশে সহিংসতা চালাচ্ছেন। বেগম রোকেয়ার জন্মদিনে হরতাল দেওয়া হচ্ছে। যদি বাসে আগুন দেওয়া বন্ধ হতো, সহিংসতা না হতো, বিরোধীদলীয় নেত্রী আলোচনায় আসতেন, তাহলে ওই দুই নারী বা মহিলা হিসেবে গালি খেতে হতো না।’ খালেদা জিয়ার সাথে আলোচনা করে রাজনৈতকি  চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বহুবার তাঁর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফোন করার পর যে শ্রুতিমধুর কথা শুনেছি, এমন কথা জীবনেও শুনিনি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো  বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেক নারীর অগ্রগতি ছাড়া সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই পারে সমাজের গুণগত পরিবর্তন আনতে। এ সময় নারীর উন্নয়নে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।বিরোধীদলীয় নেতা আলোচনায় এলে, সহিংসতা বন্ধ হলে 'দুই নারী ' বা 'মহিলা ' হিসেবে গালি খেতে হতো না বলে আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। 
সত্যিই কি খালেদা জিয়ার কাছে  নারীর অধিকার অথবা মানবাধিকারের কোন মূল্য আছে? একাত্তর , মুক্তিযুদ্ধ, তিরিশ লাখ শহীদ অথবা  ১ কোটি  দেশছাড়া  শরণার্থী - কোনকিছুর  মূল্য  নেই সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রীর। তিনি যতোটা নিজের স্বকীয়তা  প্রকাশ করেছেন, অনেক বেশি আত্মম্ভরীতা তার প্রকাশভঙ্গীতে- যাতে বারবার তার জনগণের প্রতি দায়িত্বহীনতা , জবাবদহিতিার অভাব প্রকাশ পায় অনেক বেশি। তার কাছে জনগণ বরাবরই  'ব্লাডি সিভিলিয়ান' ! একজন ক্ষমতাশালী নারী কী করে পুরুষতন্ত্রের ধারক হতে পারেন, তার ই চিত্র্র  খালেদা জিয়ার কর্মকান্ডে আমরা দেখতে পাই বারবার।   এ কারণে ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও নারীর প্রতিকূল সমাজ বাস্তবতা পরিবর্তনের কোন চেষ্টা তার মধ্যে দেখা যায়নি কখনো। 
তবু আমরা আশা  করি, যুগ যুগান্তরে ও রোকেয়ার প্রতিটি বাণী সত্য এবং শ্বাশ্বত! বারবার আমরা ফিরে যাই তার জীবনদর্শনের কাছে।