Wednesday, August 6, 2014

স্বপ্ন উড়ানের কাউন্টডাউন শুরু কলকাতার

স্বপ্ন উড়ানের কাউন্টডাউন শুরু কলকাতার

শুধুই তোমার জন্যে -১ - সিদ্ধার্থ শর্মা

শুধুই তোমার জন্যে .....(১)
--------------------------------------
বহুদিন পরে এভাবে আদর মাখা মৌগুঞ্জনি বিকেল দেখলাম। গুটি গুটি করে অস্তমিত হোলো ক্লান্ত সূর্য । সে জানেনা ভালোবাসাকে ভালবাসার এক নারীকে আমার কাছে সে কিভাবে দিয়ে গেল। বহু তপস্যা করে, বহু কবিতা লিখে, পাতার পর পাতা উপন্যাস লিখে কোনো মানুষ যার সন্ধান পায়না, মিঠে জলতরঙ্গ গোধুলি ঝিম ঝিম ঝিমলী সেই আস্বাদ দিয়ে গেল। সাইট থেকে আজ ফেরবার পথটা যে কি আরামে কি সুখে কি উত্ফুল্লতায় ড্রাইভ করেছি, মরুভূমিতে যে এত জল, এত সুধা, এত রস লুকিয়ে আছে তা অনুভব করতে পেরে এতযে সুখ পেয়েছি, মনের একটা ব্লক কাটিয়ে যে কি মুক্তির আনন্দ, এ কি আর শব্দে প্রকাশ করা যায়? যায়না! কিন্তু সে ঠিক বুঝে নেই। ভালোবাসাতে শুরু হয় আমার সোনালী ভোর শেষ হয় নশিলি রাতে - অনুকম্পা নয়, প্রতিরোধ নয়, দ্বিধা নয়, শুধু সম্পর্পনের ভাবনাতে একজন পুরুষ এক নারীর কাছে শিশুর মত. মনে হচ্ছিল দুহাতে কোমর জড়িয়ে বুকে মুখ গুঁজে রয়েছি - কি নরম, কি পেলব, কি মসৃন ওই সৌন্দর্য্যময়ী । কত আবেগ, কত সোহাগাকাঙ্খা তার পরতে পরতে, রোমে রোমে চুম্বনে কি নেশা উফফ! জানিনা যারা পড়ছেন, তারা কতটা বুঝছেন আমার এই যাত্রা বিবরণীর স্বাদিত সুখ। মনে হোলো এই সুখ গেঁথে রাখতে শব্দ পিয়ানো নিয়ে বসি, সুর তুলি মুগ্ধতার ।
খুলে দিয়েছিলাম উইনডোপেন, ঝলকী হাওয়া চুলকে করে দিয়েছে এলোমেলো, মনে হয়েছে বৃন্তসুধায় মধুকর আস্বাদের সময় শাপলা শালুক ফুলকুমারীর নরম হাতের আঙ্গুলের স্পর্শ এইভাবেই পেয়ে থাকে। ভোমরা কানে ফুল যেন, চুপিচুপি বলে যায় - ভালবাসতে তোমায় হৃদয় আরও আরও কাছে চায় - বাঁধতে পিঞ্জরায়। ফ্রেমে বেঁধে আছি আমি, কিন্তু ফ্রেম থেকে বের হবার এক অমিত ইচ্ছে মনকে চাড়া দিয়ে যায়। ভালবাসা ধর্ম, জাত পাত, বয়স, সামাজিক অবস্থান, দেশ কাল গন্ডী সব ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়, গভীরতায় পৌঁছুতে পারলে এর অনাস্বাদিত সুখ কিছুটা আমাদের অনুভূত হয়. সমুদ্রের ধারের ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ গভীর প্রশান্তিতে নিমগ্ন ভাস্কর্য সুখে সমাহিত । কত যে কথা হারিয়ে গেছে, সময়ের অন্তরালে - কত অনুভবে পাওয়া হয়নি ভালবাসা, সে বুঝতে পারি । অনুভবে এলো তার হৃদয় পিঞ্জরে বাজা জলতরঙ্গ সুর, ইছেমতির ছল ছলাৎ। কি অদ্ভূত সে! কি সুন্দর! কি অপূর্ব ভালোবাসাকে ভালবাসা। এসেছে সে আমার কাছে প্রেমের মালা হাতে, সর্বস্ব অর্পিতা সোনাবউমনি, সে পেয়েছে শুধু কাছে পেতে, ঝিনুকী মুক্তো মাধুরী কেবল জানে ভালোবেসে যেতে। মধুর পরশে মন ভরিয়ে দিলে প্রিয়তমা, মধুর আবেশে রাতের আকাশের জোছনা শ্যামা, অনপূর্বা নরম দূর্বা অনন্যতমা।
I 'm becoming yours' gradually, since I met you, let me touch your eyes - let my heart call you, let my become your necklace. Let the nature become our close close companion for ever.

Tuesday, August 5, 2014

তোমার দীক্ষায় আমার যতো স্পর্ধা -- ৭৩ তম প্রভাতের নৈর্বেদ্য- সুমি খান


যে তুমি শিখালে -

যেই মানব তুমি-সেই মানব আমি-
যদ্যপি চন্ডাল কন্যা-
সেই মানবের আমি কন্যা!
রাজার বংশে দাসী জন্মায় অসংখ্য-আমি সে দাসী নই -
তুমিই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনুধাবন করলে-

আমি নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।

  বলতে শেখালে -পূজা করি মোরে রাখিবে ঊর্ধ্বে
                                  সে নহি নহি-

                   হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে
                                  সে নহি নহি!
তোমার দীক্ষায় আমার যতো স্পর্ধা !
                    তোমারি স্পর্ধায় উচ্চারিলাম-
যদি  পার্শ্বে রাখ মোরে
                                  সংকটে সম্পদে,
                   সম্মতি দাও যদি কঠিন ব্রতে
                                  সহায় হতে,
                             পাবে তবে তুমি চিনিতে মোরে।
বিদ্রোহী কবি ঠিক ঠিক বলে-
তুমিই একাকী রণ-দুন্দুভি বাজালে গভীররোলে-

কুসুমে কুসুমে চরণচিহ্ণ এঁকে গেছো কবি-
সাতের দশক পেরিয়ে আটের দশকেও চির অমর তুমি-
লিখন তোমার ধুলায় হয়নি ধুলি!
 তোমার খেয়াতরী বাইতে হয় না, তুমি যে নিত্য বিরাজ করো -
আমাদের সকল বেচাকেনা আর লেনাদেনায়!

তানপুরাটার তারগুলায়  ধুলা জমেছে ,
ঘরের দ্বারগুলায় কাঁটালতা উঠেছে-সত্যি,
ঘনঘাসের ফুলের বাগান বনবাসের সজ্জা পরেছে  বটে-
দীঘির ধারগুলায়  শ্যাওলা এসে ঘিরেছে-
আর তাইতো তোমায় আরো বেশী করে মনে রেখেছে সবাই!

তেমন করে আর বাঁশি বাজে না কবিগুরু,
তেমন দিন ও কাটে না গো আর!
ঘাটে ঘাটে খেয়ার তরী আর ভরে উঠে না-
গরু চরে বটে , রাখাল আর খেলে না গো তেমন! তোমার পায়ের চিহ্ণ আর পড়েনা !
 আর তাইতো তুমি আছো  ৭৩ তম প্রভাতে ও -
সকল খেলায় করছো খেলা-
করবে খেলা  সেই তুমি-
তোমায় মনে না রেখে পারি কী করে , বলো?


শতবর্ষ পরেও তোমার কবিতা-গল্প -ছোটগল্প পড়ে যাই বারেবার-
নতুন নামে নয়-তোমার নামেই তারার পানে চেয়ে চেয়ে
তোমারেই ডাকি -
নতুন বাহুডোরে ও তুমিই আছো-
চিরসত্য, চিরবন্ধু চিরনির্ভর কবিবর
বিশ্বজয়ী -বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!!

২২ শ্রাবণ , ১৪২১
৬ আগষ্ট ২০১৪

তোমার দীক্ষায় আমার যতো স্পর্ধা -- ৭৩ তম প্রভাতের নৈর্বেদ্য- সুমি খান



যে তুমি শিখালে -

যেই মানব তুমি-সেই মানব আমি-
যদ্যপি চন্ডাল কন্যা-
সেই মানবের আমি কন্যা!
রাজার বংশে দাসী জন্মায় অসংখ্য-আমি সে দাসী নই -
তুমিই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনুধাবন করলে-

আমি নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।

  বলতে শেখালে -পূজা করি মোরে রাখিবে ঊর্ধ্বে
                                  সে নহি নহি-

                   হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে
                                  সে নহি নহি!
তোমার দীক্ষায় আমার যতো স্পর্ধা !
                    তোমারি স্পর্ধায় উচ্চারিলাম-
যদি  পার্শ্বে রাখ মোরে
                                  সংকটে সম্পদে,
                   সম্মতি দাও যদি কঠিন ব্রতে
                                  সহায় হতে,
                             পাবে তবে তুমি চিনিতে মোরে।
বিদ্রোহী কবি ঠিক ঠিক বলে-
তুমিই একাকী রণ-দুন্দুভি বাজালে গভীররোলে-

কুসুমে কুসুমে চরণচিহ্ণ এঁকে গেছো কবি-
সাতের দশক পেরিয়ে আটের দশকেও চির অমর তুমি-
লিখন তোমার ধুলায় হয়নি ধুলি!
 তোমার খেয়াতরী বাইতে হয় না, তুমি যে নিত্য বিরাজ করো -
আমাদের সকল বেচাকেনা আর লেনাদেনায়!

তানপুরাটার তারগুলায়  ধুলা জমেছে ,
ঘরের দ্বারগুলায় কাঁটালতা উঠেছে-সত্যি,
ঘনঘাসের ফুলের বাগান বনবাসের সজ্জা পরেছে  বটে-
দীঘির ধারগুলায়  শ্যাওলা এসে ঘিরেছে-
আর তাইতো তোমায় আরো বেশী করে মনে রেখেছে সবাই!

তেমন করে আর বাঁশি বাজে না কবিগুরু,
তেমন দিন ও কাটে না গো আর!
ঘাটে ঘাটে খেয়ার তরী আর ভরে উঠে না-
গরু চরে বটে , রাখাল আর খেলে না গো তেমন! তোমার পায়ের চিহ্ণ আর পড়েনা !
 আর তাইতো তুমি আছো  ৭৩ তম প্রভাতে ও -
সকল খেলায় করছো খেলা-
করবে খেলা  সেই তুমি-
তোমায় মনে না রেখে পারি কী করে , বলো?


শতবর্ষ পরেও তোমার কবিতা-গল্প -ছোটগল্প পড়ে যাই বারেবার-
নতুন নামে নয়-তোমার নামেই তারার পানে চেয়ে চেয়ে
তোমারেই ডাকি -
নতুন বাহুডোরে ও তুমিই আছো-
চিরসত্য, চিরবন্ধু চিরনির্ভর কবিবর
বিশ্বজয়ী -বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!!

২২ শ্রাবণ , ১৪২১
৬ আগষ্ট ২০১৪

সত্য কবি -কাজী নজরুল ইসলাম (বিশ্বকবির প্রয়াণে নিবেদিত নজরুলের কবিতা)

অসত্য যত রহিল পড়িয়া, সত্য যে গেল চ’লে
বীরের মতন মরণ-কারারে চরণের তলে দ’লে।

যে-ভোরের তারা অরুণ-রবির উদয়-তোরণ-দোরে
ঘোষিল বিজয়-কিরণ-শঙ্খ-আবার প্রথম ভোরে,
রবির ললাট চুম্বিল যার প্রথম রশ্মি-টীকা,
বাদলের বায়ে নিভে গেল হায় দীপ্ত তাহারি শিখা!

মধ্য গগনে স্তব্ধ নিশীথ, বিশ্ব চেতন-হারা,
নিবিড় তিমির, আকাশ ভাঙিয়া ঝরিছে আকুল-ধারা
গ্রহ শশী তারা কেউ জেগে নাই, নিভে গেছেসব বাতি,
হাঁক দিয়া ফেরে ঝড়- তুফানের উতরোল মাতামাতি!

হেন দুর্দিনে বেদনা-শিখার বিজলি-প্রদীপ জ্বেলে
কাহারে খুঁজিতে কে তুমি নিশীথ-গগন-আঙনে এলে?

বারে বারে তব দীপ নিভে যায়, জ্বালো তুমি বারে বারে,
কাঁদন তোমার সে যেন বিশ্বপিতারে চাবুক মারে!

কী ধন খুঁজিছ? কে তুমি সুনীল মেঘ-অবগুন্ঠিতা?
তুমি কি গো সেই সবুজ শিখার কবির দীপাম্বীতা?
কী নেবে গো আর? ঐ নিয়ে যাও চিতার দু-মুঠো ছাই!
ডাক দিয়ো না ক’, মূর্ছিতা মাতা ধুলায় পড়িয়া আছে,
ডাক দিয়ো না ক’, শূন্য এ ঘর, নাই গো সে আর নাই,
গঙ্গা-সলিলে ভাসিয়া গিয়াছে তাহার চিতার ছাই!

আসিলে তড়িৎ-তাঞ্জামে কে গো নভোতলে তুমি সতী?
সত্য-কবির সত্য জননী ছন্দ-সরস্বতী?
ঝলসিয়া গেছে দু’চোখ মা তার তোরে নিশিদিন ডাকি’,
বিদায়ের দিনে কন্ঠের তার গানটি গিয়াছে রাখি’
সাত কোটি এই ভগ্ন কন্ঠে; অবশেষে অভিমানী
ভর-দুপুরেই খেলা ফেলে গেল কাঁদায়ে নিখিল প্রাণী!

ডাকিছ কাহারে আকাশ-পানে ও ব্যাকুল দু’হাত তুলে?
কোল মিলেছে মা, শ্মশান-চিতায় ঐ ভাগীরথী-কূলে!
ভোরের তারা এ ভাবিয়া পথিক শুধায় সাঁঝের তারায়,
কাল যে আছিল মধ্য গগনে আজি সে কোথায় হারায়?
সাঁঝের তারা সে দিগন্তের কোলে ম্লান চোখে চায়,
অস্ত-তোরণ-পার সে দেখায় কিরণের ইশারায়।

মেঘ-তাঞ্জাম চলে কার আর যায় কেঁদে যায়দেয়া,
পরপার-পারাপারে বাঁধা কার কেতকী-পাতার খেয়া?
হুতাশিয়া ফেরে পূরবীর বায়ু হরিৎ-হুরীর দেশে
জর্দা-পরীর কনক-কেশর কদম্ব-বন-শেষে!

প্রলাপ প্রলাপ প্রলাপ করি সে আসিবে নাআর ফিরে,
ক্রন্দন শুধু কাঁদিয়া ফিরিবে গঙ্গার তীরে তীরে!

‘তুলির লিখন’ লেখা যে এখনো অরুণ-রক্ত-রাগে,
ফুল্ল হাসিছে ‘ফুলের ফসল’ শ্যামার সবজি-বাগে,
আজিও ‘তীর্থরেণু ও সলিলে’ ‘মণি-মঞ্জুষা’ ভরা,
‘বেণু-বীণা’ আর ‘কুহু-কেকা’-রবে আজো শিহরায় ধরা,
জ্বলিয়া উঠিল ‘ অভ্র-আবির’ ফাগুয়ায় ‘হোম শিখা’,-
বহ্নি-বাসরে টিট্‌কারি দিয়ে হাসিল ‘হোমন্তিকা’-
এত সব যার প্রাণ-উৎসব সেই আজ শুধু নাই,
সত্য-প্রাণ সে রহিল অমর,মায়া যাহা হ’ল ছাই!

ভুল যাহা ছিল ভেঙে গেল মহাশূন্যে মিলালো ফাঁকা,
সৃজন-দিনের সত্য যে, সে-ই রয়ে গেল চির-আঁকা!
উন্নতশির কালজয়ী মহাকাল হ’য়ে জোড়পাণি
স্কন্ধে বিজয়-পতাকা তাহারি ফিরিবে আদেশ মানি!

আপনারে সে যে ব্যাপিয়া রেখেছে আপন সৃষ্টি-মাঝে,
খেয়ালী বিধির ডাক এল তাই চ’লে গেল আন্‌-কাজে।

ওগো যুগে যুগে কবি, ও-মরণে মরেনি তোমার প্রাণ,
কবির কন্ঠে প্রকাশ সত্য-সুন্দর ভগবান।

ধরায় যে বাণী ধরা নাহি দিল, যে-গান রহিল বাকী
আবার আসিবে পূর্ণ করিতে, সত্য সে নহে ফাঁকি!

সব বুঝি ওগো, হারা-ভীতু মোরা তবু ভাবি শুধু ভাবি,
হয়ত যা গেল চিরকাল তরে হারানু তাহার দাবি।
তাই ভাবি,আজ যে শ্যামার শিস খঞ্জন-নর্তন
থেমে গেল, তাহা মাতাইবে পুনঃ কোন্‌ নন্দন-বন!

চোখে জল আসে, হে কবি-পাবক, হেন অসময়ে গেলে
যখন এ-দেশে তোমারি মতন দরকার শত ছেলে।

আষাঢ়-রবির তেজোপ্রদীপ্ত তুমি ধূমকেতু-জ্বালা,
শিরে মণি-হার, কন্ঠে ত্রিশিরা ফণি-মনসার মালা,
তড়িৎ-চাবুক করে ধরি’ তুমি আসিলে হে নির্ভীক,
মরণ-শয়নে চমকি’ চাহিল বাঙালী নির্নিমিখ।

বাঁশীতে তোমার বিষাণ-মন্দ্র রণরণি/ ওঠে জয়
মানুষের জয়, বিশ্বে দেবতা দৈত্য সে বড় নয়!
করোনি বরণ দাসত্ব তুমি আত্ম-অসম্মান,
নোয়ায়নি মাথা, চির জাগ্রত ধ্রুব তব ভগবান,
সত্য তোমার পর-পদানত হয়নি ক’ কভু, তাই
বলদর্পীর দন্ড তোমায় স্পর্শিতে পারে নাই!

যশ-লোভী এই অন্ধ ভন্ড সজ্ঞান ভীরু-দলে
তুমিই একাকী রণ-দুন্দুভি বাজালে গভীররোলে।
মেকীর বাজারে আমরণ তুমি র’য়ে গেলে কবি খাঁটি,
মাটির এ-দেহ মাটি হ’ল, তব সত্য হ’ল না মাটি।

আঘাত না খেলে জাগে না যে-দেশ, ছিলে সে-দেশের চালক,
বাণীর আসরে তুমি একা ছিলে তূর্য-বাদক বালক।
কে দিবে আঘাত? কে জাগাবে দেশ? কই সে সত্যপ্রাণ?
আপনারে হেলা করি’ করি মোরা ভগবানে অপমান।

বাঁশী ও বিষান নিয়ে গেছ, আছে ছেঁড়া ঢোলভাঙা কাঁসি,
লোক-দেখানো এ আঁখির সলিলে লুকানো রয়েছে হাসি।

যশের মানের ছিলে না কাঙাল, শেখোনি খাতির-দারী,
উচ্চকে তুমি তুচ্ছ করোনি, হওনি রাজার দ্বারী!
অত্যাচারকে বলনি ক’ দয়া, ব’লেছ অত্যাচার,
গড় করোনি ক’ নিগড়ের পায়, ভয়েতে মানোনি হার।

অচল অটল অগ্নিগর্ভ আগ্নেয়গিরি তুমি
উরিয়া ধন্য ক’রেছিলে এই ভীরুর জন্মভূমি।

হে মহা-মৌনী, মরণেও তুমি মৌন মাধুরী পি’য়া
নিয়েছ বিদায়, যাওনি মোদের ছল-করা গীতিনিয়া!

তোমার প্রয়াণে উঠিল না কবি দেশে কল-কল্লোল,
সুন্দর! শুধু জুড়িয়া বসিলে মাতা সারদার কাল।

স্বর্গে বাদল মাদল বাজিল, বিজলী উঠিল মাতি’,
দেব-কুমারীরা হানিল বৃষ্টি-প্রসূন সারাটি রাতি।
কেহ নাহি জাগি’, অর্গল-দেওয়া সকল কুটীর-দ্বারে
পুত্রহারার ক্রন্দন শুধু খুঁজিয়া ফিরিছে কারে!

নিশীথ-শ্মশানে অভাগিনী এক শ্বেত-বাস পরিহিতা,
ভাবিছে তাহারি সিঁদুর মুছিয়া কে জ্বালালো ঐ চিতা!
ভগবান! তুমি চাহিতে পার কি ঐ দু’টি নারী পানে?
জানি না, তোমায় বাঁচাবে কে যদি ওরা অভিশাপ হানে!