Saturday, February 21, 2015

এই একুশে-সুমি খান

এই একুশে বোমা পেট্রোলে
বামে আর ডানে বিশ-
এই একুশে পিতৃপুরুষ
নিঃশ্বাসে ফিসফিস্!


এই একুশে দুই বাংলার
 মিথ্যা কাঁটাতার
এই একুশে পদ্মা  গঙ্গা
তিস্তা সমাচার!


এই একুশে নাইদেশলোক
ছিটমহলে জিৎ-
এই একুশে নষ্ট মানুষ
নিজের ফাঁদেই চিৎ!


এই একুশের দিনজুড়ে
শুধু নিকষ হাহাকার-
রক্তবীজের ঋণ শুধে দিতে
তুমি
আমি একাকার!


বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট,২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
ঢাকা

Friday, February 20, 2015

হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার


‘‘হরতাল’’ একটি গণতান্ত্রিক অধিকার, আমরা তার সাথে ১০০% একমত।... একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ‘‘হরতাল’’ পালনের সুযোগ থাকবে এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু ‘হরতাল’ এর নামে দুর্বৃত্তরা লিপ্ত হয় সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে এবং গাড়ি ভাংচুর করে, আগুন দিয়ে, মানুষকে হত্যা করে, বোমা ফাটিয়ে, ট্রেন লাইন উপড়ে ফেলে, গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করে যে ভাবে ‘‘হরতাল’’ পালনে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করা হয়, সেটা গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে না।

 ‘‘হরতাল’’ এর সঠিক প্রয়োগ এবং হরতালের কার্যকারিতার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্যে এবং হরতালের নামে সহিংসতার সুযোগ কমানোর জন্যে কিছু সুনির্দিষ্ট ‘নীতিমালা ও আইনি বিধান প্রণয়ন’ এর জন্যে সরকারের কাছে আবেদন ও দাবী জানাবার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।আমাদের মহান সংবিধান এবং মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ঘোষণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই নিতিমালা ও আইনি বিধান প্রণিত হলে একদিকে যেমন ‘হরতাল’ আহ্বান করার গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা পাবে তেমনি অন্যদিকে সাধারন মানুষের ‘হরতাল’ না করার গণতান্ত্রিক অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সাথে হরতালের নামে সহিংসতাও বন্ধ হবে এবং সহিংসতায় অংশগ্রহণকারীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে। 
 
 আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, ৩ দিন ব্যপী, বিকেল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত, একুশে বইমেলার উত্তর প্রবেশপথে (টি এস সি এর পুর্ব দেয়াল) “হরতালের নীতিমালা ও আইনি বিধান প্রণয়ণ” শীর্ষক একটি প্রদর্শনী, জনমত জরিপ ও জনসংযোগ এর কর্মসুচির আয়োজন করা হয়েছে।
“হরতাল আমার গণতান্ত্রিক অধিকার, সহিংসতা চাই না। হরতাল নিষিদ্ধ না করেও সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব। কথা দিচ্ছি, দেশ সহিংসতা মুক্ত হবে”
কর্মসুচিতে থাকবে,
১) হরতাল সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সম্বলিত “তথ্য প্রদর্শনী”।
২) “হরতাল এর সহিংসতা বন্ধে নীতিমালা ও আইনি বিধান প্রণয়ন” বিষয়ক প্রস্তাবনা বিতরণ।
৩) “হরতাল এর সহিংসতা বন্ধে নীতিমালা ও আইনি বিধান” বিষয়ক জনমত জরিপ।

শুয়োরাধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন কিউসির ওহীবাণী


লন্ডন থেকে শুয়োরাধিকার রক্ষার জন্যে ওহীবাণী নাজিল করছেন ব্রিটিশ আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন কিউসি। জোর গলায় দাবী করছেন, ৭১রে মুক্তিযোদ্ধারাই মূলত যুদ্ধাপরাধ করছে, ওদের বিচার না করে বৃদ্ধ ইসলামী নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলানো মানবতার লঙ্ঘন। এই সার্টিফিকেট পায়া দেশের আপামর শুষিলসমাজের নেতায়া থাকা মানবতার দণ্ড দাঁড়ায়া গেছে, ম্যা ম্যা করে আকাশবাতাস মুখরিত করে তুলতেছে তারা, বিরোধীদলকে শেষ করে দিতেই এই প্রহসনের বিচার, ৪৪ বছর পর বানোয়াট অভিযোগ আনা হইছে এই বৃদ্ধ মানুষগুলার উপর, কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ নাই...

মোয়াজ্জেম হোসেন খান ছিলেন পাকশী রেলওয়ে কন্ট্রোলার। কিন্তু সবাই তারে জয় বাঙলার লোক হিসেবেই চিনতো। যুদ্ধের শুরুতেই বড় ছেলে তহুরুল আইসা বলল, আব্বা, যুদ্ধে গেলাম, ফিরুম কিনা জানি না, তবে ফিরলে দেশটারে স্বাধীন কইরাই ফিরুম। মোয়াজ্জেম বাঁধা দিতে যায়া ত্থাইমা গেলে, বুকে পাথর বাঁধলেন, ছেলে গেল মুক্তিযুদ্ধে। ১২ই এপ্রিল শান্তিকমিটির সহসভাপতি আবদুস সুবহান পাকিস্তানী মিলিটারিরে শেরশাহ রোডে আইনা বলল, ইয়ে হ্যায় গাদ্দার কা ঘর, সালে জয় বাঙলা কা আদমি হ্যায়। প্রান বাঁচাইতে মোয়াজ্জেম,স্কুল শিক্ষক মোতালেব, নাজমুলসহ প্রায় ২০-২৫ জন আশ্রয় নিলেন ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। আল্লাহর ঘর মসজিদে নিশ্চয়ই তাদের মারবে না ওরা, শত হইলেও মুসলমান তো। মাওলানা আবদুস সুবহান রাজাকারগুলারে নিয়া টাইনা বাইর করল মানুষগুলারে মসজিদ থেইকা, টানতে টানতে নিয়া গেল পাশের রেলওয়ে ডিপোতে। তারপর ইসলাম কায়েমের নামে আল্লাহু আকবর বইলা জবাই করল নিরস্ত্রমানুষগুলারে, তারা নাকি ইসলামের শত্রু। রক্ষা পাইল না পাবনার সুজানগরের ৪০০ মানুষ, আল্লাহর নামে ইসলাম কায়েমের কথা বইলা তাদের গুলি কইরা, জবাই কইরা বেয়নেট দিয়া খোঁচাইতে খোঁচাইতে মেরে ফেলা হইল সুবহানের নির্দেশে। আজকে ৪৪ বছর পর অবশ্য শুষিলসমাজের কাছে এইগুলা প্রোপ্যাগান্ডা মাত্র...
আমার নানা মোহাম্মদ আলী প্রামানিক ছিল জয় বাঙলার লোক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি মানুষটারে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবাই ভালবাসতো। ২রা মে যখন সুবহান পাকি মিলিটারি নিয়া সাহাপুর গ্রামে হামলা চালাইল, তখন নানা বাড়ি ছিল না। ১৬টা ফ্যামিলির বিশাল যৌথ পরিবার ছিল নানাদের, সবাইরে এক লাইনে দাড় করানো হইল। তারপর মেয়েগুলারে আলাদা করে সবার সামনেই ঝাপায়া পড়ল শুয়োরগুলা, ছিঁড়ে-খুবলে খাইতে লাগলো। নানার ছোট্ট একটা বোন ছিল, পেট থেকে যোনি পর্যন্ত বেয়নেট দিয়ে এক টানে ছিঁড়ে ফেলা হইল।বাকিদের গুলি করে বাড়িতে আগুন ধরায়া দেওয়া হইল। গ্রামের বেশিরভাগ ছিল হিন্দু পরিবার, প্রথমে রাজাকাররা গনিমতের মাল হিসেবে প্রত্যেকটা বাড়ি লুট করল, তারপর ব্রাশফায়ার কইরা মারলো সবাইরে, শেষে বাড়িতে আগুন ধরায়া দিল। নানা এসে দেখে, সব পুড়ে ছাই। সহ্য করতে পারে নাই, একটা দা হাতে ঝাপায়া পড়ছিল পাকি শুয়োরগুলার উপর। ব্রাশফায়ার কইরা মারার পর সুবহান তার শরীর থেকে চামড়া ছিলে গাছে টাঙ্গায়া রাখছিল, সবাইরে দেখায়া বলছিল, এইটা হইল গাদ্দারের শাস্তি, ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে এই পরিনতি হবে...
আমার নানু তখন ঝোপের আড়ালে লুকায়ে, সব দেখেও কিচ্ছু করতে পারল না। আম্মু তখন পেটে, নয়টা মাস... কি কষ্ট, কি যন্ত্রণা... আমার মা কোনোদিন তার বাবাকে দেখে নাই, আব্বু বলে কারোর কোলে ঝাপায়া পড়ার সুযোগ পায় নাই কোনোদিন, ভাইয়ের সংসারে মানুষ হইছে, বাবার আদরটুকু পাওয়ার সৌভাগ্য হয় নাই, নীরবে কেঁদে গেছে শুধু...
তাই আজকে যখন শুষিলসমাজ পাকিস্তানী শুয়োরের মতো ঘোঁত ঘোঁত করে বৃদ্ধ মানুষদের ফাঁসিতে ঝোলানোর নিন্দা জানায়, মাথার রক্ত চড়ে যায়। মসজিদের মধ্যে ঢুকেও বাঁচতে পারে নাই মোয়াজ্জেমরা, ইসলামের নামে তাদের জবাই করছিল সুবহান, চামড়া ছিলে গাছে ঝুলায়া রাখছিল মোহাম্মদ আলীর, আজকে যখন সেই সুবহানরে ইসলামের সেবক বানায়া ইসলাম ধ্বংসের প্রতিবাদ জানায় কিছু শুয়োরের বাচ্চা, মাথার ভিতরে হঠাৎ আগুন ধইরা যায়। আলাদা করে ফেলতে ইচ্ছা করে এই জারজ শুয়োরগুলার প্রতিটা কোষ... খুনি হইতে ইচ্ছা করে খুব... খুনি হইতে ইচ্ছা করে...
- Rahman Raad

ধ্রুব সত্য হয়ে এসো - সুমি খান



জন্ম-মৃত্যুর মতো ধ্রুব সত্য হয়ে এসো
হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ছুঁয়ে জাগালে ঘুমন্ত হৃদপিন্ড
বুকের ভেতর নামালে সুখের ঝর্ণাধারা-
আঁজলা ভ'রে ভালোবাসা নিলে
ধ্রুবজ্যোতি আমার
দ্বিধার দ্বৈরথেই তোমায় গ্রহণ করলাম-


তোমার অখণ্ড আকাশ
 আর অনন্ত নীলিমা দিলে -
হাতে এনে দিলে দূরের কপোতাক্ষ
সবুজ অসীমের চর্যাপদ !

আদিম শিকড় উপড়ে ফেলে
বৃক্ষের মতো
জন্ম-মৃত্যুর মতো
ধ্রুব সত্য হয়ে এসো-
অতিক্রান্ত অতীতের সব স্মৃতি সব ছায়া নিশ্চিহ্ন করে
শুদ্ধতার অগ্নিস্নান শেষে
এসো
ভালোবাসার অভিষেকে।


বসন্তের নির্জন দুপুরের বৃষ্টিধারা-
গোধূলির মায়াবি আলোয়
 তোমার নীরব চোখের চাওয়া
ধ্রুপদ স্বপ্নের মায়াবিনী আলোয় ভেসে যায়

 নিবিড় অপলকে
অপরূপ বিকেলের কাছে
দিনশেষে করতলে গুঁজে দিলে
জ্বলজ্বলে শুকতারা !!


বিকেল ৩টা ২২ মিনিট,২১শে ফেব্রুয়ারী ,২০১৫
ঢাকা

Thursday, February 19, 2015

পূর্ববঙ্গের ভাষা-আন্দোলনের প্রথম উপস্থাপক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে সশ্রদ্ধ স্মরণ-জ শ তিমির

'সময় খুবই কম। তোমাদের কিছু কথা বলা দরকার। আমার বেঁচে থাকার খুবই প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের জন্য, কিন্তু মনে হচ্ছে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। আমার বন্ধু কন্যার (ইন্দিরা গান্ধী) সাথে এই মুহূর্তে দেখা হওয়াটা খুবই প্রয়োজন ছিল- কিন্তু এখন যদি আমি এখান থেকে চলে যাই তাহলে মিলিটারিরা আমাকে খুঁজে না পেলে আশপাশের সব লোককে মেরে ফেলবে, আগুন দিয়ে সব জ্বালিয়ে দেবে। আমাকে না পেলে নিরপরাধ মানুষগুলির প্রাণ যাবে। সেটা তো হতে পারে না। আই অ্যাম ট্রাপড।'  'আমাকে নিতে এসে মিলিটারিরা দুটো জিনিস করতে পারে, তারা আমাকে ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে গিয়ে আমাকে দিয়ে বিবৃতি দেয়ানোর চেষ্টা করাতে পারে- আর তাই যদি করে তাহলে তাদের আমি একটা কথাই বলবো-To stop kill these unarmed people, তখন তারা আমার ওপর অত্যাচার করবে এবং মেরে ফেলবে ওখানেই। আরেকটা ব্যাপার হতে পারে- মিলিটারিরা আমাকে এখানেই গুলি করে মারতে পারে।'  'আমার অনুরোধ, তোমরা আমার মৃতদেহ বারান্দায় ফেলে রেখো যাতে সবাই আমার মৃতদেহ দেখে মনে সাহস পায়, বিদ্রোহ করবার জন্য।'
পুত্রবধূ, ছোট ছেলে দীলিপ দত্ত ও দৌহিত্রী অ্যারোমা দত্তদের ৭১ এ কথাগুলা বলেছিলেন পার্লামেন্টারিয়ান, ডাকসাইটে আইনজীবী মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক, বাবু ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
সেই কালরাতে গীতার একটা স্তবক কয়েকবার উপস্থিত সবাইকে পড়ে শোনান , 'দেশের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন দিলে সে মরে না, সে শহীদ হয় এবং সে অবিনশ্বর।' 'ওরা আজ রাতে আমাকে নিতে আসবে, যা বলেছি তাই করার চেষ্টা করবে তোমরা কিন্তু কেউ কাঁদবে না।' চারদিকে পিনপতন নীরবতা। রাত দেড়টার দিকে হঠাত্‍ বিকট আওয়াজ হতে লাগল সদর দরোজায়। তখন কারো বুঝতে বাকি রইল না কারা এসেছে।কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে নির্মম অত্যাচারের পরে হানাদার পাক বাহিনী তার হাঁটু ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে,অবশেষে মতান্তরে ১৪ এপ্রিল/২১ মার্চ তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং  তাঁর ছেলে দীলিপ দত্তকে অকথ্য নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছিল। 

সরদার ফজলুল করিম এর এক সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম, যেখানে তিনি বলেছিলেন, দেশ ভাগের ফলে ভারত ও পাকিস্তানে একটি করে কনস্টিটিউয়েন্ট গঠন করা হয়েছিল। ভারতে এক-দুই বছরের মধ্যে কনস্টিটিউশন তৈরির কাজ শেষ হয়ে গেল। কিন্তু পাকিস্তানে তখনো আলোচনা চলছে। একটা এসেমব্লি হলো। ওই অ্যাসেমব্লি সদস্যরা কোন কোন ভাষায় কথা বলতে পারবে তা অ্যাসেমব্লির মধ্যে লেখা থাকে। সেখানে লেখা ছিল, মেম্বারস মে স্পিক ইন উর্দু অ্যান্ড ইংলিশ। কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেমব্লিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের মধ্যে তখন মনে হয় নেতৃস্থানীয় ছিলেন শ্রীশ চট্টোপাধ্যায়, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। এই ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত অ্যাসেমব্লির এক সভায় প্রথম বাংলা ভাষার প্রশ্নটি তুলেছিলেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত তখন কুমিল্লা কোর্টের একজন বড় উকিল ছিলেন। দ্যাট ওয়াজ দি সাবমিশন অব ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ইন নাইনটিন ফরটি এইট। ’৪৮-এর মার্চ মাসেই মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঢাকায় এলেন এবং রেসকোর্সে বক্তৃতা দিলেন।জিন্নাহর কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজছে। ‘চুপ করো, বৈঠ যাও, খামস সে শুনো।’ রাষ্ট্রভাষার প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন : ‘উর্দু অ্যান্ড উর্দু অ্যালোন শ্যাল বি দি স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ অব পাকিস্তান।’ ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের মার্চ - এই কয় মাসেই পাকিস্তান সম্পর্কে মোহমুক্তি হয়েছিল ছাত্রদের। এই মোহমুক্তিটা একটা এগ্রেসিভ রূপ নিল ১৯৫২ সালে। সে জন্য আমি মনে করি এবং অনেকেই এটা বলেছেন যে, ভাষা-আন্দোলনের প্রথম শহীদ বা সৈনিক যদি আমরা কাউকে বলতে চাই তবে বলা উচিত - তিনি হচ্ছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি হচ্ছেন পূর্ববঙ্গের ভাষা-আন্দোলনের প্রথম উপস্থাপক''।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় এবং তখন থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন।বড় ছেলে সঞ্জীবের ডাকনাম ছিল ‘খেপু’ -তাই তাকে কখনও খেপু, কখনও সঞ্জীব ’ বলে চিঠিতে সম্বোধন করেছেন। ''অনেক দৈব ঘটনা আমার জীবনে ঘটিয়াছে। তা সত্ত্বেও পরবর্তীকালের পৃথিবীর ঘটনার আবর্তনে ভগবানের প্রতি বিশ্বাস হারাইয়া ফেলিয়াছি। আনুষ্ঠানিক ধর্মের প্রতি আমার কোন শ্রদ্ধা নাই; তবে নীতিধর্মের প্রতি আমি এখনও বিশ্বাস হারাই নাই''। (সঞ্জীব দত্তকে লেখা চিঠি ০৭/১২/১৯৬৯)চিঠির একস্থানে কতিপয় হিন্দু নেতৃবৃন্দের এর কথা আছে, সেখানে তিনি উপস্থিত থাকলেও সম্মেলনের বক্তব্যের সাখে একমত হন নাই। এখানে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের কথাটি উঠে এসেছে: ‘সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।’ ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী সকল মানুষের সম অধিকার প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রীয় জীবনে ও সমাজ জীবনে। এই ব্যবস্থায় শ্রেণী ও সাম্প্রদায়িক সঙ্কীর্ণতার কোন স্থান নেই। তাঁর উপদেশ ছিল  সংখ্যালঘুদের উচিত নিজেদের কোন দল গঠন না করে সংখ্যাগরিষ্ঠ   রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয়া ও যুক্ত নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা।

কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত  একটি সেমিনারে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কে যা বলেছিলেন তা হলো, তিনি যে শুধু যে ধমান্ধতামুক্ত ছিলেন, তা নয়; ছিলেন তিনি যুক্তিবাদী, বাস্তবতালগ্ন এবং জনকল্যাণকামী।  এখানে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে লিয়াকত আলী খান গং যখন পাকিস্তানকে মুসলিম রাষ্ট্র ঘোষণা করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়ার উপযুক্ত ঘোষণা করেছেন উর্দুকে, ধীরেন্দ্রনাথ তাঁর বক্তৃতায় কখনো ধর্মসম্প্রদায়িক পরিচয়ের প্রশ্নটি তোলেন নি। গণপরিষদের ভাষণে ধীরেন্দ্রনাথ চলে গিয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকা এবং আম-মানুষের সমস্যা সম্পর্কে বলতে। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন, এবং ভাষণের সংশ্লিষ্ট অংশ সম্পর্কে লিখেছেন : তিনি পূর্ব পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতির কথা তুলে ধরে বলেন সেখানে যখন একজন সাধারণ মানুষ পোষ্ট অফিসে যায় এবং একটি মানি অর্ডার ফর্ম নেয় তখন দেখতে পায় যে তা উর্দু বা ইংরেজী ভাষায় ছাপা, বাংলা ভাষায় নয়। গ্রামের একজন গরীব কৃষক যখন তার পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে টাকা পাঠাতে চায় তখন তা ইংরেজি ও উর্দূ ভাষায় ছাপা বলে তাকে দূরবর্তী শহরে যেতে এবং ঐ মানিঅর্ডার অনুবাদ করিয়ে টাকা পাঠাতে হয়। যখন কোনো গরীব কৃষক একখন্ড জমি কেনাবেঁচা করতে চায় এবং স্ট্যাম্প ভেন্ডার এর কাছে যায় তখন বুঝতে পারে না যে এ স্ট্যাম্প ন্যায্যমূল্য অনুযায়ী কি না কারণ, ঐ স্ট্যাম্পের মূল্য বাংলায় ছাপা নেই, রয়েছে ইংরেজি বা উর্দুতে। (ধীরেন্দ্রনাথ স্মারকগ্রন্থ, পৃ: ১৫৫)। 
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের  সক্রিয়  জীবনপথ, অসাম্প্রদায়িক যাপন , জনঘনিষ্ঠতা , দৃষ্টির প্রসার ও প্রখরতা, সাহসের  দিকে আমরা পুঁজি খুঁজতে পারি । 
(সুত্র : সরদার ফজলুল করিম, কাজল বন্দোপাধ্যায়, অজয় রায়, নেট ) 

১৯৮২ সালে কাদের সিদ্দিকীকে লেখা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক চিঠি

 
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চিঠিটি কাদের সিদ্দিকীকে লিখেছিলেন ১৯৮২ সালের ১৫ অক্টোবর।এতদিন পর কাদের সিদ্দিকী ঐ চিঠিটি প্রকাশের উদ্দেশ্য কী ,তা জানা না থাকলেও চিঠিটি পড়লে আমরা অজানা এক শেখ হাসিনাকে জানা যায়-
ঐতিহাসিক এই চিঠিটিতে অসাধারন শব্দচয়ন, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের প্রত্যয়, '৭১ এর ঘাতকদের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার ঘৃণা আর  ক্ষোভ , স্বাধীনতাবিরোধীদের সমূলে ধ্বংস সহ  আগামীর  বাংলাদেশ কেমন হবে সেটাই প্রকাশ পেয়েছে-

 
 ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হন।  এরপর তিনি ভারতের শিমলায় যান পুত্র সজীব
ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কে দেখতে। তারা সেখানে স্কুলে পড়তেন।
সে সময়  কাদের সিদ্দিকী ভারতের কলকাতায় নির্বাসিত ছিলেন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলে কাদের সিদ্দিকী সশস্ত্র
বিদ্রোহ করে ভারতে নির্বাসনে যান। 

কাদের সিদ্দিকীকে লেখা  শেখ হাসিনার চিঠি ..................
 
‘জানি খুব রেগে আছ। মনে হয় দূর থেকেও তোমার রাগ দেখতে পাই। আমার
সঙ্গে তো শুধু রাগ অভিমানই করলে আবার
এও জানি যত রাগই কর না কেন আপার সামনে এলে সব রাগ পানি হয়ে যেতে বাধ্য।
চিঠি দেই না দেখে এটা ভেব না যে, মনে করি না।
সব সময় মনে করি। খবরও যে পাই না তা নয়, খবরও পাই।’
‘তাছাড়া ঢাকায় অনেক ভিড়ের মাঝে আমি ভীষণ একা।
প্রায়ই পরশ-তাপসদের (মনি ভাইয়ের বাচ্চারা) কাছে যাই একটু সান্ত্বনা পাই।
কি যন্ত্রণা নিয়ে যে আমি সেখানে থাকি কাউকে বলতে পারব
না।
যখনই অপারগ হই দম বন্ধ হয়ে আসে। এখানে চলে আসি। তাছাড়া অনেক আশা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম।’
‘আজ দেশ বিরাট সঙ্কটের মুখে—স্বাধীনতা বিরোধী চক্র কিভাবে শক্তি সঞ্চয় করেছে …যেখানে সমগ্র দেশ, সমগ্র বিশ্বজাতি জাতির পিতা বলে মানে সেখানে কয়েকটা ক্ষমতা দখলকারীরাই মানতে রাজি নয়…’ ‘যে লক্ষ্য সামনে রেখে স্বাধীনতা চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, সে স্বাধীনতা লক্ষ্য থেকে আজ অনেক দূরে দেশ চলে গেছে।
১৫ই আগস্টের যে ষড়যন্ত্র দেশ ও জাতিকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্র। আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার হারিয়েছি, সেই অধিকার আজও আদায় করতে পারলাম না।
যখন দেশ ও জাতি এই সঙ্কটের সম্মুখীন তখন একটি দল—সব থেকে একটি সংগঠিত দল—জাতির পিতার হাতে গড়া স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক
দলের কি ভূমিকা হওয়া উচিৎ? এখানে আমার দায়িত্ব বড়? না দেশ ও জাতির স্বার্থ বড়? একটি দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে কত ‘আমি’কে বিসর্জন দিতে হয় তবেই
না লক্ষে পৌঁছানো যায়। কিন্তু আমাদের দলের কি ভূমিকা কি চেহারা আমি পেয়েছি?’
‘কারো বাড়া ভাতে ছাই ঢালতে আমি যাই নাই।  আমি ‘জাতির পিতার’ মেয়ে—সেই হিসাবে শুধু সেই হিসাবেই যে ভালবাসা যে সম্মান আমি এই বয়সে পেয়েছি।সারাজীবন আমার বাবা সাধনা করেছেন, ত্যাগ করেছেন তারই দানে আমি সমগ্র জাতির ভালবাসা,
সম্মান পেয়েছি—আমার আর পাবার কি আছে? আমি এখন দিতে চাই।’
 
 ‘আমি সবই হারিয়েছি, চরম মূল্য দিয়েছি। আমার আর হারাবার কিছু নাই। চরম ত্যাগের মনোভাব নিয়েই যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল, তা পালন করতে গিয়েছিলাম (স্বপ্নেও কখনও ভাবি নাই যে এত বড় গুরুদায়িত্ব আমার উপর পড়বে) কিন্তু সেখানে গিয়ে কি পেয়েছি—সব থেকে বেশী সাহায্য সহযোগিতা যাদের কাছ থেকে পাব
আশা করেছিলাম সেখানে বড় ফাঁক। 
এই এক বছরের ঘটনা কিছু বিশ্লেষণ করলেই দেখবে, বুঝবে। যার যা যোগ্যতা কর্মদক্ষতা তার মধ্য দিয়েই উঠবে কিন্তু একজনকে ছোট করে খাটো করে আর একজন উঠবে সেটা তো হয় না।’  ‘আর এখানে তো আমরা দিতে এসেছি। কিন্তু সে মনোভাব কোথায়? অনেক খোঁজ-খবর পেয়েছি—দলের ভিতরেও এজেন্ট আছে স্বাধীনতা বিরোধীচক্রেরই এজেন্ট তারাই দলের ইমেজ নষ্ট করবার জন্য— যাতে এগোতে না পারে সে জন্য, মূল
লক্ষে যাতে পৌঁছাতে না পারে তারই জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ সচেতনভাবে কেউ অবচেতনায় সাহায্য করছে। বুঝতেও পারছে না—আত্মচিন্তায় এতটুকু চেতনাও হচ্ছে না যে কি সর্বনাশ দেশ ও জাতির জন্য করে যাচ্ছে।’ ‘আজকের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে সকলকে এক থাকতে হবে, বৃহৎ স্বার্থে কাজ করতে হবে—আজকে সে সময়
নয় যে, ব্যারোমিটার দিয়ে কে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কতটুকু বিশ্বাসী তা মাপার সময় এখন নয়। সেটা বোঝা যাবে ভবিষ্যতে কাজের মধ্যে দিয়ে কিন্তু কিছু কার্যকলাপ এভাবেই চলছে। তাতে গোটা দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। একটা স্থবিরতা এসে যাচ্ছে সে চেতনা কারো নেই। তার উপর সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, যারা এই ধরনের কথা তুলে দলকে এগোতে দিচ্ছে না তারা কি সত্যিই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী না কি জীবনেও যাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়িত হতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় নিমগ্ন, সেই প্রশ্নই আজ মনে আসে।  
 'গতবারই একটা কথা বলেছিলাম, ভীষণ একা আমি। শাঁখের করাতের ভিতর দিয়ে চলছি। তবে নিরাশ নই যা ঘটছে আমার বিশ্বাস একদিন না একদিন সফলকাম হবই।
হত্যার প্রতিশোধ নেবই। ২/৪টা খুনী মারলেই হবে না।  মূল থেকে উপড়াতে হবে সেটা মনে রেখো '। ‘যারা বঙ্গবন্ধুর গায়ে হাত দিতে সাহস করে তাদের দুর্বল ভাবলে চলবে না।  মাটির অনেক গভীরে তাদের শিকড় গাড়া সেটা মনে রাখতে হবে। যাক্, অনেক বকবক করলাম। মনের কথা আমি খুব কমই বলি। স্মৃতি রোমন্থনই বেশী করি, আজ অনেক কথা লিখলাম…’
ইতি : আপা
১৫/১০/৮২

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পুরষ্কার:১২ জন স্বঘোষিত খুনীকে কূটনৈতিক পদ দেন জিয়া

 ১৯৭৬ সালের ৮ই জুন বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী ১২ জন স্বঘোষিত খুনীকে কূটনৈতিক
পদে নিয়োগ দেন
জিয়া।
 
সেই খুনীরা হলোঃ

 ১)লেঃ কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, প্রথম সচিব,চীন।
২)লেঃ কর্নেল আজিজ পাশা, প্রথম সচিব,আর্জেন্টিনা।
৩)মেজর মহিউদ্দীন, দ্বিতীয় সচিব, আলজেরিয়া।...

৪)মেজর শাহরিয়ার, দ্বিতীয় সচিব,ইন্দোনেশিয়া।
৫) মেজর বজলুল হুদা, দ্বিতীয় সচিব, পাকিস্তান।
৬)মেজর রশীদ চৌধুরী, দ্বিতীয় সচিব,সৌদি আরব।
৭) মেজর নূর, দ্বিতীয় সচিব, ইরান।
৮)মেজর শরিফুল হোসেন, দ্বিতীয় সচিব, কুয়েত।
৯)ক্যাপ্টেন কিসমত হোসেন, তৃতীয় সচিব,আবুধাবি।
১০) লেঃ খায়রুজ্জামান, তৃতীয় সচিব, মিসর।
১১) লেঃ নজমুল হোসেন, তৃতীয় সচিব, ক্যানাডা।
১২) লেঃ আবদুল মজিদ, তৃতীয়. সচিব, সেনেগাল।

--- অনেকেই বলে শুনি যে ( আমি মুজিব আর জিয়া দুজনকেই সম্মান করি ) , তাদের
কাছে জানতে চাই তোমরা কি উপরের এগুলো জেনে বলো, নাকি না জেনে ?
না জেনে বললে জানার অনুরোধ রইলো!

দ্বিধান্বিত সময়-মম

তোমার বক্ষযুগল উম্মুক্ত করার সময়
বক্ষবন্ধনী উপরে উঠাবে, না নীচে নামাবে,
তা নিয়ে কাটে তোমার দ্বিধান্বিত সময়!
হাল্কা কপট রাগ দেখিয়ে তুমি সীমিত করতে চাও সময়
কিন্তু চক্ষু যুগল বুঁজে আসে তোমার সুখের আবেশে
অপেক্ষায় থাকো আমার -

কখন সিক্ত হবে আমার ঠোঁটের পরশে
তুমি হাল্কা কেঁপে ঊঠো
তোমার গহীনে জোয়ার ভাঁটার টান শুরু হয়
তুমি ক্ষনে ভাঙ্গো- আবার পরক্ষনেই গড়ো
আমার দন্তমুলের কারুকাজ যখন রাঙ্গায়
তোমার হৃদপিন্ডের উপরিভাগের মাংস পিন্ডকে
তুমি তখন হারিয়ে যাও স্বপ্নীল আবেশে
তোমার কানগুলি কাঁপা কাঁপা আহবান জানায়
তোমার বুকের অমৃত সুধা মুখে নিয়ে

মরতে চায় এ যুগের কোন্ পাগল প্রেমিক
তার জানা নাই এসপারা গাস, কেভিয়ার
বা গন্ধম ফল ও এর চাইতে সুস্বাদু ছিল কিনা
তুমি যদি সেখানে লাগাও হেমলক বা সায়নাইড এর নির্জাস-
তাতেও পরোয়া নাই আমার
কারন আমার পরম চাওয়াই যে ওইভাবে তোমার সুধা পানরত মৃত্যু
কিন্তু আজরাঈল এর কি সাধ্য আছে জান নেবার??

Monday, February 16, 2015

আকাশ ভেঙ্গে সৃষ্টিছাড়া বৃষ্টি- সুমি খান

আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি -
আমি ভিজতে ভিজতে ফুটপাত -
তারপর গাড়ির দরোজা খুলে সিটে বসতে বসতে
মুছে নেই এলোমেলো বৃষ্টিভেজা চুল
আমার আজন্ম সাধ -
স্টিয়ারিংয়ে তোমার হাতে হাত রেখে বৃষ্টি দেখবো-
প্রিয় বন্ধু আমার!
শাহবাগ পেরিয়ে ছবির হাট-
একটু থামো -
তোমার হাত ধরে মোল্লার মেঠো পথে হেঁটে চলা-
ছায়াবৃক্ষে আড়াল হলো বৃষ্টির তেরছা জল গুলো-
যেমন সৃষ্টিছাড়া বৃষ্টি !
তুমি ও তেমনি সৃষ্টিছাড়া-
আমার হাত ধরে টেনে নিলে তোমার ড্রাইভিং সিটের পাশে-
হাওয়ায় হাওয়ায় লাগে টান-
সিগারেটের ধোঁয়ার কুন্ডলি-
তোমার মাতাল ঘ্রান
আমি উন্মাতাল!!
খেয়াল ই করিনি কখন -
গাজীপুর ন্যাশনাল পার্কে ছুটে গেলো তোমার গাড়ি-
শুধু বৃষ্টি-
 শুধু মেঘলা আকাশ-
আর কামিনী -জুঁই -বকুলের গন্ধে বিভোর আমি
 বৃষ্টি ভেজা ছাদ দেখে
 ফিরে যাই অতীত বন্দনায়-
কারণ,
 তুমি চাও আমি শুধু স্বপ্নে থাকি-
আর চাও ইস্কাটনে বৃষ্টি!!


বেলা ১২টা ১০ মি.১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ মঙ্গলবার

 

প্রাণ ভরে ভালবাসা নিও-সুমি খান

প্রাণ ভরে ভালবাসা নিও-সুমি খান
খুব ভোরে পূবের আকাশটা
লাল আভায় ভরে দিলো প্রাণ মন -
ভালবাসা নিও।
জন্মের শুভক্ষণে ...

বিছানার এক কোণে পড়ে থাকা তোমার আধো ঘুমন্ত দেহটা
পরম আদরে, আমার উষ্ণ বুকে টেনে নিলাম -
সবটুকু ভালোবাসা শুধু তোমার জন্যে !

যখন কোন এক গনগন জন্ডিসের মতন হলুদে দুপুরে
চোখের দৃষ্টি যখন প্রখর রোদের প্রতিরোধে
বাধ্য মেয়ের মতন উপন্যাসের বইয়ে মুখ গুঁজবে
পিছন থেকে খুব ছোঁয়ায় চোখ দুটি ধরবো আড়াল করে
পাগল করা ভালবাসা নিও। 


 আর কিছু না শুধু একটু ভালবাসা নিও।

যখন কোন ক্লান্ত দুপুর গড়িয়ে বিকাল হবে -
 আনমনা এ উদাসী মন
দুষ্টু মেঘেদের সাথে ছোঁয়াছুয়ি খেলায় ব্যস্ত থাকবে-
গরম ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে ভুলে চুমক দিয়ে
হঠাৎ সংবিত ফিরে পাওয়া ঠোঁটে তখন
ভালবাসা নিও।
দগ্ধ পোড়া লালচে যাতনায়
একটু নয়- ঠিক যতোটা চাও-
প্রাণ ভরে ভালবাসা নিও।
কোন এক মন খারাপের দিনে!!
যদি পারো ছুঁয়ে থেকো এ ভালোবাসা -
অসীমের পানে চলে যাওয়া অবধি-
নিরবধি!
বেলা ১১টা ৪৭ মি.
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫, মঙ্গলবার
এই পাহাড়ি ঢাল  , সিঁড়ি, পর্তুগীজ নিদর্শনের লাইব্রেরি ভবন (অন্যদিন সেই নিদর্শনের ছবি বন্ধুদের জন্যে দেবো)....সব ছুঁয়ে আছে আমার অষ্টাদশীর ছোঁয়া...এইচ এস সি ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্টে চট্টগ্রাম কলেজে ওয়েটিং লিষ্টে নাম ছিল।তার  অপেক্ষা না করে এই পাহাড়ি ঢালের আকর্ষণ আর আমার ভাইয়া এ কলেজ থেকেই এইচএসসি পাশ করেছে -সেই ইমোশান থেকে মহসিন কলেজেই ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানেই আমাদের স্কুলের বন্ধু সানজু, টকি, খায়রুন (জিরাফ) কে পেলাম। পেলাম নতুন বন্ধু সিমাকে। আমরা সাত বান্ধবী তখন পুরো পাহাড়ি এলাকা জুড়ে কলেজ ক্যাম্পাসের এ প্রান্ত ওপ্রান্ত দাপিয়ে বেড়াতাম। ধরাকে যেন সরাজ্ঞান করছিলাম। তবে রাজাকার বাহিনী শিবির অধ্যূষিত চট্টগ্রাম কলেজ এবং মহসিন কলেজের ক্যাম্পাসে আমি  ছুটে বেড়াতাম রাজাকার নির্মূলের শপথে। সাতজনের মধ্যে একমাত্র  আমি স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের আন্দোলনে চট্টগ্রাম শহরের  প্রতিটি স্কুল কলেজের কন্যাদের রাজপথে নামাতে ব্যস্ত। সেনাশাসনের কামান গোলা তুচ্ছ করে মৃত্যু কে পায়ের ভৃত্যে পরিণত করে পায়ে হেঁটে ছুটে বেড়াতাম শহরের এ প্রান্ত থেকে  ওপ্রান্ত।আমার ছয় বান্ধবী আমাকে ক্লাসে কম পেতো; তবু তাদের  অসীম ভালোবাসায় তাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিলাম আমি। ভাবতে হাসি পায়, ক্লাসরুম অনেক মেধাবী ছাত্র থাকলেও  আমরা সেভেন স্টার কোন ছেলের সাথেই কথা বলতাম না! সানজুর মতো রূপবতী বান্ধবী থাকাতেই বোধহয় ক্লাসের ছেলে বন্ধুদের এতো তুচ্ছ করে ভাবতাম অষ্টাদশীতেই! সানজু,  কী বলিস্??

শুধু একটু ভালবাসা দিও -মম


কোন এক খুব ভোরে
পূবের আকাশটা যখন হবে কালচে সাদা
একটু ভালবাসা দিও।

পরম আদরে, তোমার উষ্ণ বুকে টেনে নিও
বিছানার এক কোনে পড়ে থাকা
আমার আধো ঘুমন্ত দেহটাকে।
খুব বেশি না ...শুধু একটু ভালবাসা দিও।

যখন কোন এক গনগন জন্ডিসের মতন হলুদে দুপুরে
চোখের দৃষ্টি যখন প্রখর রোদের প্রতিরোধে
বাধ্য মেয়ের মতন উপন্যাসের বইয়ে মুখ গুঁজবে
পিছন থেকে খুব ছোঁয়ায় চোখ দুটি ধরবে আড়াল করে
তোমার অদ্ভুত মায়াবী গন্ধে
পাগল করা ভালবাসা দিও।
আর কিছু না-
 শুধু একটু ভালবাসা দিও।

যখন কোন ক্লান্ত দুপুর গড়িয়ে বিকাল হবে
আমার এই আনমনা উদাসী মন থাকবে
দুষ্ট মেঘেদের সাথে ছোঁয়াছুয়ি খেলায় ব্যস্ত

গরম ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে ভুলে চুমক দিয়ে
হঠাৎ সংবিত ফিরে পাওয়া ঠোঁটে তখন ভালবাসা দিও।
দগ্ধ পোড়া লালচে যাতনায় খুব বেশি না একটু, -
জাষ্ট একটু ভালবাসা দিও।

কোন এক মন খারাপের দিনে

ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়
বেদনার রাত্রি সঙ্গী হয়ে
করে আলিঙ্গন।
ভালোবাসা সুদূর দিপালিকা
ভালোবাসা কখনও
জানালায় আসা
এক ফালি চাঁদ।
ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়
বিরহে পুড়ে দেহ হয় অঙ্গার।
ভালোবাসা সীমাহীন আকাঙ্ৰা