Wednesday, November 30, 2016

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি নির্বাচনে মুক্তচিন্তার দাবিদারদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা:অশনি সংকেতের বার্তা -সুমি খান

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি নির্বাচন ২০১৭ সমাপ্ত হলো। নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকে , হারজিত থাকে, সেটাই স্বাভাবিক। যারা নির্বাচনে জয়ী হযেছেন, তাদের কারো প্রতি আমার কোন ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে তাদের প্রতি আমার শুভকামনা রইলো । 

নির্বাচনে জয় পরাজয়, হারজিত মেনে নেবার মতো সৎসাহস আমার আছে । যে কোন সৎ, পেশাদার সাংবাদিকের ই সেটা থাকে । এই নির্বাচনে যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা দেশকে ভালোবেসে পেশাদারীত্ব প্রতিষ্ঠায় তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কোন সিন্ডিকেটের কাছে অন্তত মাথা বেচে দেন নি।  ্তআর তা্রই তাঁরা নির্বাচনের রায় তখনি মেনে নেবেন, যখন, সেটা স্বাভাবিক নিয়মে স্বচ্ছভাবে হবে। তারা সেই রায় মেনে নেবার মতো সৎসাহস রাখেন। 
কিন্তু সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি অপশক্তির কোন অপচেষ্টা এই নির্বাচনের মাধ্যমে সফল হয়, সেটা মেনে নেয়া যে কোন শুভশক্তির জন্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে সুনিশ্চিত।আর সেই  বাস্তবতার কিছুটা তুলে ধরার জন্যেই এই লেখার প্রয়াস। এই নির্বাচনে গঠনতন্ত্রের চরম লঙ্ঘন করা হয়েছে , সহযোগী সদস্যদের ভোটার করা হয়েছে। হাতে চিরকূট ধরিয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে-ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন । তাবড় তাবড় সাংবাদিক নেতারা মাঠে নেমেছেন প্রকাশ্যে। 
এই কাজে নাকি তারা মাঠে নেমেছে সেই নভেম্বর ২০১৬ থেকে।যখন 'সুমি খান' বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। ৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সে বার।  তবু যতো গালমন্দ, যতো শাপশাপান্ত সব যেন সুমি খানের জন্যেই প্রযোজ্য। প্রথম দিকে বিস্মিত হয়েছি আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছি, তবু চেষ্টা করে গেছি একনিষ্ঠভাবে এই পেশায় নিয়োজিত সংবাদকর্মীদের জন্যে কাজ করে যেতে। প্রতিকূল বাস্তবতায় অনেকটা এগুলেও শেষ করতে পারিনি অনেক গঠনমূলক কাজ। সেটা যেন অন্যতম 'হাতিয়ার'  হয়েছে অপশক্তির জন্যে।  

 এই নষ্ট, ভ্রষ্ট বাস্তবতা কিছুটা অনুমান করে ও শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে আমি নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থিতা করেছি । 
একটি বছর এই পদে থেকে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছি প্রতিটি কাজে। কোন কাজ বা কোন অনুষ্ঠানে যেন আমি অংশ নিতে না পারি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে কমিটির মূল ক'জন নেতা।
 চরম নারী- বিদ্বেষী অবস্থান থেকে তারা সতর্কতার সাথে আমাকে প্রতিটা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রেখেছে, যা একটু নজর দিলেই প্রত্যক্ষ করা যায়। তারই অংশ 'বেগম' পত্রিকার সম্পাদকের জীবদ্দশায় নূরজাহান বেগমকে নারী দিবসের সম্মাননা দেবার উদ্যোগ ঠেকালো কার্যনির্বাহী কমিটি। নীতিনির্ধারক বা নিয়ন্ত্রকদের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের চুড়ান্ত প্রকাশ ঘটালেন।  ৭৫ বছর সাংবাদিকতা করে নারীদের অগ্রযাত্রায় সমাজকে এগিয়ে নেবার পর ৯৩ বছর বয়সে ও পুরুষতান্ত্রিকতার হিংসার গ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারেননি সাংবাদিকতার অগ্রদূত এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। সেই রূঢ় বাস্তবতায় আমি সুমি খান যে তুচ্ছাতিতুচ্ছ। 

কমিটিতে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততা ঠেকানো সম্ভব না। পেশাদার সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। স্বপ্ন দেখেছি -অনেক আলোর ঝলকানিতে অন্ধকার কেটে যাবে ধীরে ধীরে। কিন্তু না। অন্ধকার তাদের প্রবঞ্চনা, নষ্টামি আর ভ্রষ্টাচারের মিথ্যাচারে ভুলিয়েছেন অনেককে। তবে আশার কথা, যথারীতি সেই ছলনায় ভুলেন নি শুভ শক্তির নিরন্তর লড়াকু সৈনিকেরা। তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আমার।

সৎ সাংবাদিকদের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় আমি নীরব লড়াই করে গেছি নিরন্তর । সাথে ছিল আমার বাবার আদর্শ, আমার মায়ের নিরন্তর লড়াই এবং তীব্র অনুপ্রেরণা। আশৈশব লালন করা সমাজ সংস্কারকদের ত্যাগ এবং তিতিক্ষার দৃষ্টান্ত সামনে রেখে পেশাজীবি সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় উজাড় করে দিয়েছি নিজেকে । অনেক বঞ্চনার আর যন্ত্রনার এ পেশা বেছে নিতে আনন্দ নেই;তবে সততা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মানসিক প্রশস্তি আছে।

আমার স্নেহের ছোট বোন উম্মুল ওয়ারা সুইটি, ঝর্ণা মণি, জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, মোরসালিন মিজানসহ আমার অনেক শ্রদ্ধার এবং স্নেহের ভাইবোনেরা প্রানান্ত সহযোগিতা করেছেন , তাঁদের কাছে আমি বারবার কৃতজ্ঞতা জানাই ।
পরিকল্পিতভাবে আমাকে প্রতি পদে হেনস্থা করেছে যারা,তাদের একজন ( যার কুরুচিপূর্ণ এবং অশ্লীল বাক্যবাণ শুধু মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বা নির্যাতিত দের পরিবারের সন্তানদের প্রতি)। তাতে জোর দিয়েছেন সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ অন্য কেউ কেউ।
এ ব্যাপারে আমাদের নারী সদস্যদের নেতৃত্বস্থানীয়রা কিছুটা জানেন। তার পরও এবারের ডিআরইউ নির্বাচনে তাদের অবস্থান তারা পরিস্কার করলেন।তবে কি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে চরম 'সোচ্চার' এ বোনেরা নিজেদের পুরুষতন্ত্রের কাছে সমর্পনেই বেশী স্বাচ্ছন্দবোধ করেন ? নাকি তারা পুরুষতন্ত্রের কাছে স্বেচ্ছাজিম্মি?
যাঁরা আমার ত্যাগ, সততা ও নিষ্ঠার প্রতি আস্থা রেখেছেন,তাঁদের মূল্যবান ভোট আমার জন্যে নিশ্চিত করেছেন,সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ ।
সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী ভোট দিয়ে এসে আমার কানে কানে বললেন," সুমি , তোমাকেই ভোট দিলাম, তোমার মতো সৎ আর সাহসী সাংবাদিক আর কে আছে বলো তো? আমি তোমাকেই তাই ভোট দিলাম।" আপার স্নেহশীল মন ভালোবাসার তোড়ে বাড়িয়েই বলেছেন নিঃসন্দেহে।আপার মতো অনেকেই আমাকে সমর্থন করে ভোট দিয়েছেন;সঙ্গে সঙ্গে জানিয়েছেন ও আমাকে। তাঁদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।
আমার প্রিয় সাংবাদিক বোনেরা যে যা করেছেন, তাদের ভবিষ্যত তাঁরা নির্ধারণ করেছেন। তাদের সহযোগিতা -অসহযোগিতা সবকিছুর প্রতি, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার বিনম্র কৃতজ্ঞতা ।
ডিআরই্উ নেতৃত্বে অবস্থানকারী এক নেতা বললেন, " সুমি আপা, আপনার বিরুদ্ধে 'প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ' হয়েছে । এটা আমি বারবার বলবো। 'সুমি খান' কে ঠেকাতে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির সাথে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ দাবিদার বেশ কয়েকটি শক্তি (তাদের দূরদর্শীতার প্রতি সন্দেহ করা আমার জন্যে বাতুলতা মাত্র) একাত্ম হয়ে পরিকল্পিত ভাবে 'কাজ' করেছেন । আপনার বিরুদ্ধে'কলাগাছ ' দাঁড় করিয়ে হলেও আপনাকে হারানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে । সেই ষড়যন্ত্রে ও আপনাকে পরাজিত করতে পারেনি; পরাজিত হয়েছে নীতি নৈতিকতা। "
নির্বাচনে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে শারমীন সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রার্থীরা গড়ে ৪০০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছে।
সম্মানিত সদস্য বললেন," আপনি তার চেয়ে ৩৭ ভোট কম পেয়েছেন মাত্র। সেক্ষেত্রে এটা পরিষ্কার হলো, আপনি অনেক মানুষের সমর্থন পেয়েছেন; শুধু একটি চিহ্ণিত গোষ্ঠীর পরিকল্পিত 'নেগেটিভ ভোট' গেছে আপনার বিরুদ্ধে। আপনাকে নারী সাংবাদিকেরা নেগেটিভ ভোট দিয়েছেন। "
শুরু থেকে্ই আমাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার সকল অপচেষ্টা ঠেকিয়ে কিছু কিছু কাজ করে আমি অনেক 'অপরাধ ' করেছি। প্রথম বারের মতো বুদ্ধিজীবি দিবস পালন করেছি, মুক্তিযোদ্ধার এক সন্তানকে অশ্লীল অশালীন ভাষায় আক্রমণ করার পর তার দিকে তেড়ে এলে আমি সামনে দাঁড়িয়ে গেছি তাঁর অপমান লাঞ্ছনা ঠেকাতে ।
অনেকে জানালেন, রাতের পর পর রাত একুশে টেলিভিশনের গলিতে ভোজের আয়োজন করে সংগ্রাম আর নয়াদিগন্তের সাংবাদিকদের নেতৃত্বে 'নির্বাচনী পরিকল্পনা' (?) করেছেন । " আমি শুনে গেলাম কথা গুলো। মেলালাম কিছু ঘটনা - বেশ কয়েক জন সক্রিয় ছিলেন ভোটার দের প্রভাবিত করতে । তাদের মধ্যে ৫ জন ভোট দেবার সময়ে গেটেই দাঁড়িয়ে থাকেন বা অফিস রুমে বসে থাকেন ভোটারদের প্রভাবিত করতে। সাতসকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন তারা। ভেতরে বাইরে সবখানে 'নির্বিকার ' চলে হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন তারা।
ভোট দেবার জন্যে কোলে করে আনা হয়েছে কয়েকজন অশীতিপর বৃদ্ধকে । লাঠি হাতে বৃদ্ধরা এসেছেন অনেক কষ্টে সিঁড়ি দিয়ে উঠে ভোট দিয়েছেন -এঁরা সবাই ইনকিলাব, নয়াদিগন্ত এবং সংগ্রামের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক এবং বিভিন্ন পদে কর্মরত সাবেক কর্মকর্তারা । বেশ বৃদ্ধএক ভোটারের কাছে ভোট চাইলাম আর আমার নাম জিজ্ঞেস করে হাতে লেখা চিরকূট বের করলেন মেলালেন আমার নাম। না, চিরকূটে যে নারী সাংবাদিকের নাম-তা যে আমার নাম নয়। আমার মুখের দিকে কেমন অসহায় চোখে তাকিয়ে বৃদ্ধ ব্যক্তি সিঁড়ি বেয়ে উঠে চলে গেলেন ভোট দিতে।
জাল ভোট দিতে গিয়ে একজন ধরা পড়লো । তার মুখভর্তি দাড়ি। কার পক্ষে ভোট দিতে এসেছে এই জাল ভোটার -সেটা উদ্ধার করা হলেও প্রকাশ করা হয় নি।ধামা চাপা পড়ে গেলো কি?
সমাজে মানুষের অধিকারের লড়াই করতে গিয়ে আমি সংসার ,পড়ালেখা, চাকরি ,নিজের পত্রিকার কাজ সব বিসর্জন দিয়েছিলাম । আমার প্রিয় বন্ধু এবং ছোট বোনেরা বিভিন্ন সময়ে আমার আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসেছেন ,তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি। অনেকে আসেন নি কোন অনুষ্ঠানেই; বরং কটাক্ষ করে নানা রকমের মন্তব্য করেছেন। সেসব বিচক্ষণ নারীবাদী সাংবাদিকদের চিন্তা চেতনা এবং দূরদর্শীতা তাদের উপর ছেড়ে দিলাম। তবে এই নারীদের কেউ কেউ গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদী সৈনিক ও বটে!
একজন মন্তব্য করলেন, "এই 'প্রতিবাদী' নারীরা জামাতের ষড়যন্ত্রের সহযোগী শক্তি হয়ে গেলেন দ্বিধাহীন চিত্তে, বীরদর্পে, বীরত্বের সাথে!! বেশ উৎসবমুখর সাজে উৎসবের আয়োজনে হৈ হৈ রৈ রৈ করে ভোট দিয়েছেন;কাজ করেছেন জামাত মনোনীত প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে। "

ডিআরইউ প্রেসিডেন্ট জামালউদ্দিন এবং সেক্রেটারী রাজু আহমেদ তাদের প্রার্থী দিনার সুলতানাকে জিতিয়ে আনার জন্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদা ডলি ( গণজাগরণের যোদ্ধা প্রকৌশলী রাজীব, নীলাদ্রি সহ ব্লগারদের হত্যার পর যে সাংবাদিক অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ মনগড়া রিপো্র্ট লিখেছে নিহতদের ব্যক্তিজীবন কটাক্ষ করে।) কে অভিনন্দন জানালেন। জামায়াতের এক সংগঠক দিনার সুলতানাকেে বললেন, "আমরা এই নির্বাচনে যে পোস্টে যাকে চেয়েছিলাম, প্রত্যেককে সেই পোষ্টে জয়ী করেছি; আপনি জিতেছেন- আমি খুব খুশি, খুব খুব খুশী । " এ বক্তব্য অনেক বার্তা দেয় !
নারী বিষয়ক সম্পাদক পদটির প্রতি চরম অশ্রদ্ধা অনেক নারী সাংবাদিকের। এমন কথাও অনেকে বলেছেন, তারা ঘেন্না করেন। নারী সমাজ এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকার রাখার জন্যে গঠনতান্ত্রিক ভাবে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি বিলুপ্ত করার পক্ষে ও তারা জোরালো মত দেন। অবার লাগে, আমরা কতোটা আত্মঘাতী হলে এমন কথা বলতে পারি। নিজেদের দায়িত্বশীলতার প্রতি চরম অবমাননা করেও 'নারীবাদী' হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন বেশ অহংকারের সাথে। তবু তাদের প্রতি আমার শুভকামনা রইলো ।
মেলানো যায় ঘটনা পরম্পরা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আইরিন নিয়য়াজি মান্নার বিরদ্ধে নয়াদিগন্ত পত্রিকার লুৎফা শাহানা কে হঠাৎ দাঁড় করানো হয়। মান্না এর আগে একটি বছর প্রানান্ত কাজ করেছে । লুৎফা শাহানা কে জয়ী করে ৩/৪ মাসের মধ্যে আমেরিকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। অনেকে বলেন, এমনই চুক্তি ছিল লুৎফা শাহানার সঙ্গে । ২০১৬ সালে আমাকে নির্বাচিত করে নারী সাংবাদিকদের মধ্যে যারা ডিআরইউতে সক্রিয়, তারা। একই ভাবে সেবার আমার বিরুদ্ধে অনেককে অনুরোধ করে ও কাউকে পান নি তখনকার প্রভাবশালী নেতারা। এবার ও 'সুমি খান' এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী প্রার্থী খুঁজে বেড়ায় । কে্উ কে্উ বলে ,সুমি খানকে সরিয়ে বাম সংগঠনের এক কর্মীকে নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে নিশ্চিত করা হয়, তাকে বিদেশে পাঠানোর চুক্তি ও করা হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় এ পদে আসতে হলে তাকে আরো ২ বছর অপেক্ষা করতে হবে। নিউজরুমে বসে হতাশায় আর বিষন্নতায় ডুবে গেলো বেচারী; তার আর বিদেশে যাওয়াই হলো না।ব্যর্থ হলেও থেমে রইলো না কালো শক্তি । আবার হন্তদন্ত হয়ে মাঠে নামলেন প্রভাবশালী সেই নেতারা। যে করেই হোক সুমি খান কে 'হঠাতে ' হবে। বেশ ভালো একটা 'প্রার্থী' পাওয়া গেলো। প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের অংশ এক নেতার স্ত্রী । তার স্বামীর অনুসারীরা সবাই মাঠে নামলেন । দুর্জনেরা বলে, খালেদা জিয়ার দৃষ্টান্ত দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও আসতে পারে, সে যে কোন পর্যায়েই হতে পারে।
তাকে অনেকে অনেক ভাবে বললো , আগামী বার তাকে একক প্রার্থী করা হবে , এবার যেন তিনি প্রার্থীতা থেকে সরে যান। তিনি বললেন, কারা তাকে প্রার্থী করেছে তিনি জানেন না। তবে খুব চাপে আছেন। আরো বললেন, আগামীতে কখনো তিনি ডিআরইউতে আসবেন না। যে সংগঠন কে তিনি ধারণ ই করেন না, সেই সংগঠনে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির সহায়ক হয়ে দায়িত্ব নিতে রাজী হয়ে গেলেন মতায়নে বেশ এগিয়ে রয়েছেন বামেরা ও -এই গুঞ্জন কি তবে আবারো সত্য প্রমাণিত হলো?


নির্বাচনে ব্যাপক খাটাখাটনি করলেন যারা 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির দাবিদার' সেই সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমার প্রশ্ন এই । সাথে রাখলেন বামনেতা স্বামীর সকল সহযোগীকে। তাহলে নির্বাচনে কারা জয়ী হলো? এ্ই বাস্তবতায় যারা আনন্দিত, ভেবে দেখুন -এ কোন অশনি সংকেত নয় তো? কারো কারো আশঙ্কা, 'প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের' ধারাবাহিকতার টার্গেট জাতীয় নির্বাচন নয় তো?

Thursday, November 17, 2016

Bangladesh Santal Village Grab- Speech By Prof. Dr Abul Barkat

Bangladesh Santal Village Gobindaganj Landgrabe Victim 001

Tuesday, November 8, 2016

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বেগম খালেদা জিয়ার সবর্শেষ টেলি সংলাপ

Friday, October 28, 2016

Loitta Shutki Vorta- bangladeshi Vorta Recipe

Wednesday, October 5, 2016

ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান কি ভারতের পক্ষে ভাল? -স্বপন দাশগুপ্ত

গত দু’সপ্তাহ ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান। কেবলমাত্র রাগ বা ক্ষোভ নয়, সকলেই চিন্তিত আক্রমণরত পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আর প্রসঙ্গত এই মুহুর্তে আমার মনে পড়ছে, পাকিস্তানের কুখ্যাত আইএসআই (Inter-Services Intelligence)-এর সাবেক প্রধান হামিদ গুলের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপচারিতার বিষয়টি।



সালটা ১৯৯৯। ওয়াশিংটন ডিসি-তে ব্লেয়ার হাউস চুক্তির কিছু পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে বাধ্য হয়ে রাজি হতে হয় জম্মু-কাশ্মীরের কার্গিল সেক্টরে হামলা থামাতে। ইসলামাবাদের (প্রথম ও একবারই গেছি ওখানে) আবাহাওয়ায় তখন হতাশা এবং ইতিবাচক, এই দু’ধরণের অনুভূতির মিশ্রণ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিংটনে তদানীন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের তলব এবং আমেরিকার ভৎসনার মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের চুক্তিতে সাক্ষর করা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল ইসলামাবাদে, আবার একইসঙ্গে সেখানকার একাংশ আশান্বিত হতে শুরু করেছিলেন, ফের লাহোর বাস যাত্রা শুরু হবে এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপিত হবে। 
ভারতে তখন লোকসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে এবং পাকিস্তানের তথাকথিত ‘ভারত বন্ধু’রা মনে করেছিলেন কংগ্রেস সেবারে সরকার গঠন করবে।

ইসালামাবাদ থেকেই আমি হামিদ গুলকে ফোন করলাম (ফোন নম্বরটা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন এক বিদেশি সাংবাদিক) একটা ছোট্ট সাক্ষাৎকারের জন্য। রাওয়ালপিন্ডিতে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না । কারণ, এই শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার অনুমতি ছিল না;আর কোনও সামরিক এলাকায় তো যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

অনেক পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ, আমলা এবং সামরিক প্রধানদের বক্তব্য শুনেছি, যাঁরা অবসর গ্রহণের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারের অংশ নেন। শ্রোতারা তাঁদের বক্তব্য শুনতে পছন্দও করে। 
অবশ্যই তাঁরা কখনও একপেশে বক্তব্য রাখেন না। আমার সৌভাগ্য যে হামিদ গুল এই গোষ্ঠীভুক্ত নন। 
তিনি আমাকে  যা বললেন এবং কাশ্মীর ও আফগানিস্তানের জেহাদিদের সামনে যে উত্তেজক ভাষণ রাখেন তার মধ্যে খুব একটা ফারাক ছিল না।


 আইএসআই-এর সাবেক প্রধান হামিদ গুল প্রথমে সৌজন্য প্রকাশ করছিলেন; কিন্তু তিনি রাগে ফুটছিলেন।তাঁর সমস্ত রাগ উপচে পড়ছিল ‘মেরুদন্ডহীন’ পাকিস্তানি প্রশাসনের ওপর। 

কারণ, সেই সময় পাকিস্তানি সরকার আমেরিকার চাপের কাছে সম্পূর্ণভাবে নতি স্বীকার করে বসে আছে। তিনি খুব জোরের সঙ্গে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বলতে পারেন ভারত আন্তর্জাতিক মহলে এতটা প্রভাব খাটাতে পারে কেন? তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের জোরের জায়গাটা হল দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থান। 
কোনও আন্তর্জাতিক শক্তিই ভারতের বাজারকে কিংবা বিপুল অর্থনৈতিক পরিসরকে অগ্রাহ্য করতে পারে না।
 যতদিন অর্থনীতির শক্তি হিসেবে ভারতের কদর থাকবে ততদিন পাকিস্তান তাদের ‘ঐতিহাসিকভাবে শত্রু’ দেশের থেকে অসুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

ওই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কী করণীয় ছিল? হামিদ গুলের মতে, কার্গিল যুদ্ধ দেখিয়ে দিল এটাই পাকিস্তানের একমাত্র এবং দীর্ঘায়িত পদক্ষেপ হওয়া উচিত।
পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে ভারত কোনও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। অতীতেও পাকিস্তান আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছিল এবং ভারতকে বিভিন্ন সময় রক্তাক্ত করেছিল। 
গুল এই মনোভাবকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে দিলেন তাঁর নিজের যুক্তিতে।

তাঁর মতে, পাকিস্তানকে নিশ্চিত করতে হবে যে, ভারতের ঐক্য যেন কোনওভাবেই সুরক্ষিত না থাকতে পারে। 
আয়তনগতভাবে ভারত যে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে তা নষ্ট করতে হবে। ভারতের ভাঙন নিয়ে তাঁর এই কৌশলগত অবস্থান একজন ভারতীয় সংবাদিককে তিনি নির্দ্বিধায় জানিয়েছিলেন।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পাকিস্তান তার বৃহৎ আয়তনের প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি নিয়ে বিচলিত। পাকিস্তানের নীতিপ্রণেতারা মনে করতেন, ভারতের একতা আসলে কৃত্রিম এবং অচিরেই ‘হিন্দু একতা’র কারণে ভারত টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।
 দুর্ভাগ্যবশত ভারত টিকে গেছে।
কিন্তু পাকিস্তান ১৯৭১ সালে ভেঙে পড়েছিল। আর তখন থেকেই ঢাকায় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর লজ্জাজনক আত্মসমর্পনের প্রতিশোধ নেওয়াটাই পাকিস্তানের কৌশলগত দর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
পাকিস্তান সর্বদাই কাশ্মীরের জন্য লালায়িত ছিল। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার পর ভারতকে টুকরো টুকরো করা পাকিস্তানিদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

ভারতে অল্প সংখ্যক নির্বোধ বুদ্ধিজীবী আছেন যাঁরা মনে করেন, পুরো জম্মু-কাশ্মীর না হলেও নিদেনপক্ষে কাশ্মীর উপত্যকা পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। তাঁরা এও মনে করেন, এর ফলে সত্তর বছরের পুরনো বিবাদ মিটে যাবে সহজেই, আর প্রতিরক্ষা বাবদ একটা বড় খরচ বেঁচে যাবে, সেই অর্থ দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে কাজে লাগবে।

আমার মতে তাঁরা দু’দিক দিয়ে ভুল। প্রথমত, কাশ্মীর কোনওভাবেই পাকিস্তানের একমাত্র চাহিদা নয়।
 এক্ষেত্রে ১৯৫০ সালে মুসলিম লীগের এক নেতার বক্তব্য মনে পড়ে যাচ্ছে।  যিনি বলেছিলেন- কাশ্মীর হল ‘সাম্প্রতিক চাহিদা’।পাকিস্তানের বৃহত্তর উদ্দেশ্য হল ভারতকে টুকরো টুকরো করে দেওয়া- অষ্টম শতাব্দীর খন্ডিত ভারতের ইতিহাস থেকে এই ভাবনার উদয় হয়েছে পাকিস্তানের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে।
 দ্বিতীয়ত, এই ভারতভাগের তত্ত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইসলামি মতবাদের উন্মেষের জোরালো তাত্ত্বিক যোগ রয়েছে। ইসলামি আধুনিক মতবাদের ধারকরা আজ সংখ্যায় নগণ্য।
 ইসলামি রাষ্ট্রগুলোতে একটি জনমত গড়ে উঠছে যারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারে বিশ্বাস করে।তাঁরা চায় চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা, যাতে এই উপমহাদেশে তাঁরা খলিফার স্বপ্নরাজ্য বানাতে পারে।

ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দিয়ে চলেছে পাকিস্তান ।এই সন্ত্রাসবাদী হামলা এ দেশের বিচ্ছিন্নকারী শক্তিগুলিকে মদত দিচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। 
এত প্ররোচনার মুখেও ভারত সরকার চুপ করে থাকতে বাধ্য হয়।কারণ, আন্তর্জাতিক মহলের সতর্ক বাণী ভারত জানে, তাই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশই সতর্কতা অবলম্বন করছে। 
কিন্তু এই অসহায়ত্ব সাধারণ মানুষ মেনে নিতে রাজি নয় ।তারা ক্ষোভে ফুঁসছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের একের পর এক সমস্যা এবং পাঠানকোট ও উরি হামলার পর।

কোনও সন্দেহ নেই এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিশেষ নজরদারি এবং নিপুণ রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োজন হয়। 
যদিও দীর্ঘ মেয়াদী চিন্তাভাবনা থেকে দেখলে পাকিস্তানকে প্রতিরোধ করা উচিত এবং তা শুধুমাত্র কূটনৈতিক ভাবে নয়।
 ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি অনুযায়ী ভারত আস্থা রেখেছিল গণতান্ত্রিক, স্থায়ী এবং ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের উপর। কারণ, ভারত চিরকালীন দ্বন্দ্বের অবসান চেয়েছিল। কিন্তু এখন এই ধারণা বদলে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

গুল তাঁর উগ্র চিন্তাভাবনা থেকে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছিলেন ভবিষ্যৎ-এ পাকিস্তান কোন পথে যাবে। আদর্শগতভাবে দেখলে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীন সমস্যা নিয়ে ভারতের মাথা ঘামানো উচিত নয়। 
যখন পাকিস্তানের নিজের দেশের দর্শন’ই তাদের নিজেদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না, তখন ভারতের কি ‘ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান’ এই তত্ত্বে আস্থা রাখা উচিত ?  হামিদ গুল-তত্ত্ব ভারতও প্রয়োগ করতে পারে।

লেখক- প্রবীণ সাংবাদিক ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার  সাংসদ

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, না কি সিন্ধ-বালোচিস্তানে ছায়াযুদ্ধ?-সুবীর ভৌমিক


Subir Bhoumik  with sumi khan and Adam Dawla at Dhaka
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’এর কৌশল কি সঠিক, না কি পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ, বালোচিস্তানে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটা অনেক বেশি কার্যকরী হবে? বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে বেশি করে আলোচনা প্রয়োজন।

কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী অঞ্চল উরিতে যখন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সেনাছাউনিতে ফিদায়েঁ হামলা চালিয়ে ১৭ জন ভারতীয় সেনা জওয়ানকে হত্যা করল, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হুমকির সুরে বলেন- ‘‘এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।’’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই ঘটনার জন্য দ্রুত পাকিস্তানকে দায়ী করে বলেন- ‘‘পাকিস্তান সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।’’

মোদীর উপদেষ্টারা এবং মন্ত্রীসভার সদস্যরা পাকিস্তানে পাল্টা হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করে দেন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ’দের সঙ্গে বসে প্রাক্তন কূটনীতিবিদ ও মেজর জেনারেলরা আলোচনা করতে থাকেন। ভারতের পাকিস্তানের উপর পাল্টা হামলা চালানো উচিত হবে কি হবে না, এই বিষয়ে। যদিও তাঁরা সকলেই একমত যে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের মদত যোগাচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে একের পর এক প্যানেল বসছে, গরম গরম আলোচনা চলছে। একটি চ্যানেলে প্রাক্তন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘ভারতকে নিজস্ব ফিদায়েঁ বাহিনী তৈরী করতে হবে’’। এই বক্তব্যে কট্টরপন্থী ভারতীয়রাও চমকে গিয়েছিলেন। জেনারেল রায়চৌধুরির বক্তব্যকে সেদিন টেলিভিশন চ্যানেলে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্যরাও যেমন মেনে নেননি তেমনি পোড়খাওয়া কূটনীতিবীদরাও ওই বক্তব্যকে সমর্থন করেননি।

পাকিস্তান নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় এবং মাস দুয়েক আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রপন্থী বুরহান ওয়ানির মৃত্যু নিয়ে কাশ্মীর অগ্নীগর্ভ হয়ে ওঠায়, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে যে- ইসলামাবাদের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া বৃথা।
 দিল্লি চাপ তৈরি করছে যদি আলোচনা করতেই হয়, তাহলে কেবল আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। 
এদিকে এই মুহুর্তে কাশ্মীরের মানুষের ভারত সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানও পরিষ্কার করে বলছে, আলোচনায় কাশ্মীর ইস্যুকেই প্রাধান্য দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দে‍ওয়া ভাষণকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কেন নরেন্দ্র মোদী পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং বালোচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উত্থাপন করলেন!
 ইন্দিরা গান্ধী থেকে মনমোহন সিং পর্যন্ত কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘসময় ধরে অশান্ত থাকা বালোচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থাগুলির যোগাযোগ রক্ষা করায় বিরোধিতা করেননি, কিন্তু তাঁরা কেউ প্রকাশ্যে এই বিষয়টি কখনও উত্থাপন করেননি। 
আর এখন অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো বালোচ ভাষায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই পরিষেবা মোবাইল অ্যাপস-এর মাধ্যমেও পাওয়া যাবে। 
বালোচ নেতা ব্রাহমদুগ বুগতি, যাঁর বাবা পারভেজ মুসারফের আমলে বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন, তিনি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বসে নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান (বালোচিস্তানের ইস্যুগুলিকে উত্থাপন করার জন্য) এবং দেশে ও দেশের বাইরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সেনাবহিনীকে কাঠগড়ায় তোলেন। সম্প্রতি ভারতের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘে বালোচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উত্থাপন করেন, আবার পাকিস্তান ভারতের কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তোলে।

অবাক হই না যখন, ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার কুলভূষণ যাদবকে, পাক-সেনাবাহিনী আটক করে এবং বালোচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার জন্য ভারতকে দোষারোপ করে। 
ইসলামাবাদের অভিযোগ পাকিস্তানের সবচাইতে বড় প্রদেশ বালোচিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানোর জন্য কুলভূষণ যাদবকে ভারত নিয়োগ করেছিল। যদিও ভারত এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে বলে, কুলভূষণ বর্তমানে একজন ব্যবসায়ী, পাক-গুপ্তচরেরা ইরান থেকে তাঁকে অপহরণ করে এবং জোর করে তাঁকে ভারতের বিরুদ্ধে বলিয়ে নেয়। 
কাশ্মীর নিয়ে ভারত যতটা উদ্বিগ্ন, বালোচিস্তান নিয়ে পাকিস্তানের ততটাই চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। পাকিস্তানের এই প্রদেশটি কেবলমাত্র খনিজ সম্পদে সম্বৃদ্ধ নয়, এখানে রয়েছে সমুদ্র বন্দর গদর। চিন এই বন্দরটি নতুন করে সাজাচ্ছে। প্রস্তাবিত ৪৬বিলিয়ন ডলারের চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (CPEC) ক্ষেত্রে গদর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিনের সিংকিয়াং প্রদেশের সঙ্গে গদর বন্দরের সংযোগ স্থাপন হলে আরবসাগরে ড্রাগনদের প্রবেশ সহজ হবে। ফলে এটি পাকিস্তানের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের মস্ত বড় ক্ষেত্র।
CPEC প্রকল্পের প্রস্তাবিত সড়কপথ।


কিন্তু বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রস্তাবিত এই করিডরটির বিরোধিতা করছে, তারা নিয়মিত প্রকল্প নির্মাণকারী পাকাস্তানী কর্মী, আধিকারিকদের উপর হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক নির্মাণকারীদের উপর, যারা CPEC-র সঙ্গে যুক্ত। পাকিস্তানের যে সংস্থাটি কাজটি করছে তারা ভারতের ‘বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন’-এর সমতুল্য একটি সংস্থা। ২০১৪ সাল থেকে (মোদী ক্ষমতায় এসেছিলেন যে বছর) বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় ৪৪জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছে, ১০০জনের উপর কর্মী গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। অধিকাংশ হামলা চালানো হয়েছে বালোচিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্ফারণ ঘটিয়ে। হ্যাঁ এই হামলাগুলি অবশ্যই উরিতে ভারতীয় সেনা ছাউনিতে ফিদায়েঁ হামলা বা গত জানুয়ারিতে পাঠানকোটে ভারতীয় বিমানঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার মতো উচ্চমার্গের নয়। কিন্তু এই হামলাগুলি পাকিস্তানের অর্থনীতির উপর সরাসরি আঘাত হানছে। কাশ্মীর ভারতের কাছে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনও প্রদেশ নয়। ভরতের একমাত্র মুসলিম প্রধান রাজ্য কাশ্মীরে বিক্ষোভ, আন্দোলনের মোকাবিলা করতে হচ্ছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে, যাতে পাকিস্তানের দ্বিজাতিতত্ব ভুল প্রমানিত হয়। কাশ্মীরের বনজ সম্পদ ও পর্যটন অর্থনৈতিকভাবে ভারতের কাছে যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার থেকে খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ বালোচিস্তান অর্থনৈতিকভাবে পাকিস্তানের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বালোচিস্তানের হামলার খবর খুব একটা সংবাদমাধ্যমে আসে না, কারণ এই প্রদেশে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত। তবে পাকিস্তান CPEC’র প্রকল্পটি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সামরিক ও অসামরিক এজেন্সিগুলি এই প্রকল্পে কর্মরতদের জন্য নিরাপত্তা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে চিনের কর্মীদের জন্য। পাকিস্তান সূত্রে খবর, CPEC প্রকল্পে কর্মরত ৭০৩৬ জন চিনা কর্মীর জন্য ১৪৫০৩ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করেছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু সামরিক এবং অসামরিক নিরাপত্তাবাহিনীকে নিয়ে কৌশল স্থির করতে বিশেষ নিরাপত্তা বিভাগকে (SSD) যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। SSD’র নর্দান ডিভিশন (খুনজেরাব পাস থেকে রাওয়ালপিন্ডি পর্যন্ত) সুরক্ষিত। কিন্তু সাউদার্ন ডিভিশন যেটা রাওয়ালপিন্ডি থেকে গদর পর্যন্ত বিস্তৃত সেখানে সমস্যা রয়েছে। পাকিস্তানের ঐতিহ্যশালী ‘ডন’ পত্রিকায় সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে লেখা হয়েছে- ‘‘এই ইস্যুগুলোর দ্রুত সমাধান না হলে, CPEC’র প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমার উপর প্রভাব পরবে, যা গভীর চিন্তার বিষয়।’’

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেওয়ার ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ায় কোনও নতুন ঘটনা নয়। উত্তর ঔপনিবেশিক সময় থেকে এই ঘটনা চলে আসছে। ভারতের কশ্মীর ভূখন্ডের দখল যেনতেন প্রকারে নেওয়ার মানসিকতা থেকে পাকিস্তান শুরু থেকেই জঙ্গি অনুপ্রবেশে মদত দিতে শুরু করে। ১৯৪৭-৪৮ এবং ১৯৬৫ সালে কাশ্মীরে বড় ধরনের জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটায় পাকিস্তান। ভারত মোক্ষম জবাব দেয় ১৯৭১ সালে। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি গেরিলা বাহিনীকে মদত দেয় এবং সেনা অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ গঠনে সাহায্য করে। পরোক্ষভাবে আমেরিকার সম্মতিতে তিব্বতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ১৯৬৬ সাল নাগাদ ভারত আশ্রয় এবং প্রশিক্ষণ দেয়। এর পাল্টা হিসাবে উত্তরপূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে অস্ত্র সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে চিন। প্রখ্যাত ভারতীয় গুপ্তচর বিশেষজ্ঞ বি রমন তাঁর লেখা ‘Kaoboys of R&AW’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, সিন্ধ প্রদেশের বিক্ষোভকে কিভাবে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ব্যবহার করেছে এবং তার পাল্টা হিসাবে পাকিস্তান কিভাবে পাঞ্জাবের খালিস্তান আন্দোলনকারীদের সাহায্য করেছিল। ১৯৭০-৮০ দশকে চট্টগ্রামের বুদ্ধধর্মালম্বী গেরিলা বাহিনী ‘শান্তি বাহিনী’কে মদত দেওয়ার পাল্টা হিসাবে বাংলাদেশ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত এবং আশ্রয় দিতে শুরু করে। আর শ্রীলঙ্কায় এলটিটিই’কে ভারতের মদত দে‍ওয়ার ঘটনাতো ইতিহাস।

এক বছর আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল পাকিস্তানকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘‘তোমরা মুম্বইয়ের মতো আরেকটি ঘটনা যদি ঘটাও, তাহলে তোমাদের বালোচিস্তান হারাতে হবে।’’ ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রাক্তন প্রধান সেই সময় কাজ করেছেন, যখন দিল্লি খরচ বাঁচানোর জন্য শত্রু দেশগুলির ভূখন্ডে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত যোগাত। পাকিস্তান পরমাণু হামলার যে হুমকি প্রতিনিয়ত দিয়ে চলেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই মুহুর্তে ১৯৭১-এর কায়দায় চিরাচরিত পদ্ধতিতে যুদ্ধ করা কার্যত অসম্ভব। আবার এখন যে আন্তঃসীমান্ত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক-এর কথা বলা হচ্ছে, বারংবার এই পন্থা অবলম্বন করলে তার ফল হতে পারে ভয়ানক। বরং পাকিস্তানের গোলমেলে অঞ্চলগুলিতে (বালোচিস্তান, সিন্ধ, গিলগিট-বাল্টিস্তান) ভারত ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে গেলে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যু থেকে পিছু হটতে বাধ্য হবে।
লেখক- প্রবীণ সাংবাদিক BBC, " Insurgent Crossfire" (1996) বইটির লেখক।

Saturday, October 1, 2016

ভারত প্রতিশোধ নিলো-সার্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত - মুহম্মদ শফিকুর রহমান

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরির সামরিক ঘাঁটিতে পাকিস্তান থেকে ঢুকে ১৮ জন ভারতীয় সেনা হত্যার প্রতিশোধ নিল ভারত। বুধবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অভ্যন্তরে ৫০০ মিটার হতে দুই কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে অন্তত ৮টি জঙ্গীঘাঁটি ধ্বংস করে দেয় এবং ৯ পাকিস্তানী সেনা ও অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গীকে হত্যা করে ফিরে আসে।

পাকিস্তান কর্তৃক উরি হামলার ১১ দিন পর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকস’ নামে ভারত এ সেনা আক্রমণ চালাল। ফলে দুই দেশের সম্পর্কতো খারাপ হলোই, পাশাপাশি সার্বিক বিচারে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সমঝোতা জোট সার্কের ভবিষ্যতও অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। আসন্ন সার্ক সম্মেলনে (পাকিস্তানে) ভারত যোগ দিচ্ছে না, সঙ্গে ভুটানও। বাংলাদেশ আগেই ঘোষণা করেছে যাচ্ছে না। বাংলাদেশের না যাওয়ার অনেক যৌক্তিক কারণ রয়েছে :

১. পাকিস্তান এরই মধ্যে জঙ্গীরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

২. বাংলাদেশে যত জঙ্গী তৎপরতা হয়েছে তার সবকটির পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে।

৩. ১০ ট্রাক অস্ত্রের পেছনে পাকিস্তান জড়িত।

৪. ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল সেই আর্জেস গ্রেনেডও পাকিস্তানে তৈরি।

৫. বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধেও পাকিস্তান অনধিকার হস্তক্ষেপ, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির বিরুদ্ধে নিন্দা বিবৃতি দিয়েছে। এমনকি পাকিস্তান পার্লামেন্টও নিন্দাপ্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আমরা মনে করি পাকিস্তানের কোন এখতিয়ারই নেই। এই পাকিস্তান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সঙ্গে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। জীবন বাঁচাতে অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করে। সেদিন তারা বলেছিল, নেতৃস্থানীয় যুদ্ধাপরাধী ১৯৫ পাকি আর্মির বিচার করবে দেশে নিয়ে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা তা করেনি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাপ্য সম্পদ ফেরত দেয়নি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আটকেপড়া পাকিস্তানীদের ফেরত নিয়ে যায়নি।

৬. সম্প্রতি গুলশানের হলি আর্টিজন রেস্তরাঁয় জঙ্গী হামলা ও বিদেশীদের হত্যার পেছনেও পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৭. বাংলাদেশের জঙ্গী সংগঠন জামায়াত-শিবির, হিযবুল মুজাহিদীন, হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লা বাংলা টিম, আনসারুল ইসলাম, হামযা ব্রিগেডÑ এসবের পেছনেও পাকিস্তানের অর্থ-অস্ত্র যোগান রয়েছে।

৮. বাংলাদেশের জঙ্গীরা পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় পাচ্ছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক কাজ করেছে বলে আমরা মনে করি। এটি বাংলাদেশের সুদূরপ্রসারী কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশ জঙ্গী দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে কাজ করে চলেছে। জঙ্গীদের প্রতি এতটুকু ছাড়ও দিচ্ছে না। সেদিক থেকে ভারত কর্তৃক পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অভ্যন্তরে ঢুকে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে (সার্জিক্যাল স্ট্রাইকস) জঙ্গী দমন সঠিক নীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে বলে সবাই মনে করে। বাংলাদেশ নিজ দেশে নয়, যেখানে জঙ্গী তৎপরতা দমনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, সেখানেই এ দেশের সমর্থন থাকবে। এটাই স্বাভাবিক এবং নীতি। অবশ্য কেবল বাংলাদেশ নয়, আমেরিকাও ভারতের পদক্ষেপকে সমর্থন করছে।

অবশ্য হাস্যকরভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ভারতের অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন একদিকে, আরেকদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকস’ একটি বিভ্রম। মিথ্যা প্রভাব সৃষ্টির জন্য ভারত এটি রটাচ্ছে। আবার তারা এটাও বলেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর গোলাগুলিতে এক ভারতীয় সৈন্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাকিস্তান বাহিনী তিনটি ভারতীয় গুরুত্বপূর্ণ চৌকি ধ্বংস করে দিয়েছে।

অভিযানের পর ভারতীয় এক সেনাকর্তা রণবীর সিং প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে অভিযানের কথা জানিয়ে বলেছেন, বেশকিছু জঙ্গীঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে, ৮০ জনের মতো জঙ্গীকে হত্যা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতর থেকে লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অভিযানের আগেই কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, কাশ্মীরের রাজ্যপাল এনএন ভোরা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী, উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারীকে অভিযান সম্পর্কে জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ওই দিনই ভারতে নিযুক্ত কূটনীতিকদের অভিযান সম্পর্ক অভিহিত করেন। কংগ্রেস প্রধান শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধীও এ অভিযানে মোদি সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি সব দলের সভা ডেকেছেন।

তবে এটা ঠিক, মাথা গরম পাকিস্তানের হুমকি-ধমকি চলছেই। পাকি-প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাদের পরমাণু অস্ত্র ‘শোপিস’ নয়। এর অর্থ তারা পরমাণু বোমা ফাটাবেন? কিন্তু পাকিস্তান ভুলে যায় এটা ১৯৪৫ নয়, এটা ২০১৬ সাল এবং একতরফাও নয়, ভারতের হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। অন্যান্য সামরিক ক্ষমতার দিক থেকে ভারত অপেক্ষাকৃত শক্তিধর। তাছাড়া এরই মধ্যে সিন্ধু ভাগীরথী শতদ্রু বিপাসায় অনেক পানি গড়িয়েছে, অনেক ভাঙ্গাগড়ার খেলা হয়েছে, দেশ ভেঙ্গেছে, দেশ গড়েছে। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানের জনগণ স্বাধীনতার আওয়াজ তুলেছে। পাকিস্তান এখন তারা নতুন মিত্র খোঁজার চেষ্টা করছে। তুরস্ক এখন তাদের পরম মিত্র। অবশ্য আগেও ছিল। একযোগে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। কিন্তু যে তুরস্ক নিজ দেশেই জঙ্গীবাদ ঠেকাতে গলদগর্ম হচ্ছে তার সঙ্গে মিত্রতা এক অবাস্তব অলাভজনক কূটনীতি। অবশ্য পাকিস্তান এসব বোঝে না। একটা সাজেশন পাকিস্তানকে দেয়া যায়, মধ্যপ্রাচ্যে দৌড়াদৌড়ি করেও লাভ হবে না। তারা নিজেরাই এখন ভাঙচুরে অংশ নিয়ে যে ভুল করেছে তা অনুধাবন করতে পারছে, আফসোস করছে। বরং পাকিস্তানের উচিত আমেরিকার নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দেয়া। দুই পাগলে মিলবে ভাল। কিন্তু এখানেও প্রবলেম আছে, ট্রাম্পের জয়লাভের সম্ভাবনা নিবু নিবু বাতির মতো ক্ষীণ।

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে সাহসী, মেধাবী, দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ তো দূরে থাক, পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন না। যে দেশে বেনজির ভুট্টোর মতো জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান, একটু লেখাপড়া করতে চেয়ে মালালা ইউসুফজাই গুলিবিদ্ধ হয়ে দেশান্তরী হন, সেখানে কোন শান্তিকামী মানুষ পা রাখতে পারেন না। ওটা বর্বর দেশ, ওখানে সভ্য মানুষের স্বাধীনতা নেই।

তবে হ্যাঁ, পাকিস্তানকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই পাকিস্তান ১৯৭১ সালে আমাদের সঙ্গে হেরেছে, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধেও আমাদের একাত্তরের মতো নাকে খত দিয়ে বেঁচেছে। ১৯৯৯ সালে ভারতের সঙ্গে কারগিল যুদ্ধেও একই পরিণতি ভোগ করেছে।

আজ এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশের উচিত হবে পাকিস্তানকে একঘরে করে দেয়া। অবশ্য সে প্রক্রিয়া বেশ আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। এরই মধ্যে দেশটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

আমাদের পাকিস্তানকে হিসাবে নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই এ কথা সর্বজনবিদিত। এমনকি উন্নত দেশের লোকেরা স্বীকার করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় পাকিস্তানকে অনেক নিচে ফেলে দিয়েছে, অনেক দেশকেই পেছনে ফেলেছে। এমনকি অর্থনীতিবিদ নোবেল লরিয়েট প্রফেসর অমর্ত্য সেনের ভাষায় কোন কোন সূচকে ভারতকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনের পাশাপাশি প্লেনের মতো টেকআপ করছে।

তাছাড়া আমরা কেন ভুলে যাব যে, এই পাকিস্তান ১৯৭১ সালে আমাদের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, ৫ লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে, হত্যা করেছে। এখনও তাদের সেদিনের সহযোগী রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এখন কাজ হলো সেসব যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগী এখানকার কুসন্তানদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে সার্বিক সমর্থন সহযোগিতা করা। আমাদের এখনকার কাজ এসব বিষবৃক্ষকে মূলসহ উৎপাটন করে বাংলার মাটি পবিত্র করা, যা শেখ হাসিনা করে চলেছেন। তবে দুঃখজনক ঘটনা হলোÑ একটি টিভি টকশোতে দেখলাম একজন বিএনপি নেতাকে সাম্প্রতিক ভারত কর্তৃক পাকি নিয়ন্ত্রণ কাশ্মীর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে জঙ্গীনিধন সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছেন ‘আমাদের সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য করতে হবে।’ এর অর্থই হলো পাকিস্তানের প্রতি মৌন সমর্থন। অবশ্য এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিএনপির সাম্প্রতিক দল পুনর্গঠনেও দেখা গেছে পাকিপন্থীরা প্রাধান্য পেয়েছেন। এমনকি মৃত্যুদন্ড ও আমৃত্যু কারাভোগের সাজাপ্রাপ্ত ও সাজা কার্যকর হওয়া দুই রাজাকারের সন্তানকে দলের নির্বাহী কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জিয়া রাজাকার-এ-আযম গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরত এনে নিষিদ্ধ জামায়াতকে পুনরুজ্জীবিত করে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের বিষবৃক্ষের চারাগাছটি লাগিয়েছিলেন। যা মিলিটারি এরশাদ ও হাফ মিলিটারি খালেদার নার্সিংয়ে আজ ডালাপালা ছড়িয়ে গোটা বাংলাদেশকে আচ্ছন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশরত্ন শেখ হাসিনা সেই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলছেন ও মূলোৎপাটন করে চলেছেন। আর বিএনপি নেত্রী এখনও জঙ্গীবাদের বিষবৃক্ষের চাড়া খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাছাড়া যে পাকিস্তান এখনও জঙ্গী বানিয়ে বিদেশে পাঠাচ্ছে, প্রতিবেশী দেশে হামলা চালাচ্ছে, সেই পাকিস্তানের সঙ্গে কারও সম্পর্ক রাখা ঠিক নয়। পাকিস্তানের হাতে আজ সার্কেরও যেন অন্তিমযাত্রা শুরু হলো।

সর্বশেষ যে কথাটি বলতে চাই পাকিস্তানের জাতির পিতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ তার দ্বিজাতি তত্ত্ব, অর্থাৎ আমি মুসলমান আমার জন্য আলাদা রাষ্ট্র, হিন্দুদের জন্য হিন্দু স্থান এভাবে দুই দেশ সৃষ্টির মাধ্যমে হাজার বছরের ভারতকে দ্বিখ-িত করে যে ক্ষতটি সৃষ্টি করে যান, তা আজও শুকায়নি, বরং ক্যান্সারের মতো মাঝে মধ্যেই নতুন ক্ষত সৃষ্টি করে চলেছে। আমরা বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে সেই ক্ষতকে ক্যান্সারে রূপ নেয়া থেকে বাঁচিয়েছি। তাছাড়া পাকিস্তান ও ভারত বহু ভাষাভিত্তিক দুই সংস্কৃতির দেশ; আমাদের পাশে ভারত হলেও লাগোয়া পশ্চিমবাংলা, ত্রিপুরা এবং অসমের একাংশ একই ভাষা সংস্কৃতি লালন করছি। আমাদের মধ্যে এই সম্পর্ক কোনদিন টুটবার নয়।

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি -জাতীয় প্রেসক্লাব

Sunday, May 15, 2016

Tagorespeare Jukebox | Jayati Chakroborty I Srikanta Acharya

Aamar Rabindranath | Aparna sen ( আমার রবীন্দ্রনাথ...অপর্ণা সেন)

Friday, May 13, 2016

তাপিত পিপাসিত বিপন্ন মানবজাতিকে রক্ষায় একাত্ম হোক শুভশক্তি -সুমি খান

..আবারো চাপাতির কোপ- এবার প্রত্যন্ত জনপদে নিরীহ বৌদ্ধ ভিক্ষুর ঘাড়ে! রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যিনি চন্ডালকন্যা প্রকৃতির হাতের জলকে ও পবিত্র জ্ঞানে গন্ডুষ ভরে পান করে বলেন, কল্যাণ হোক তব কল্যাণী"। 
  সমাজে অচ্ছ্যুৎ চন্ডাল কন্যা প্রকৃতি কুয়া থেকে জল তুলছিল -এমন ভিক্ষুর পিপাসা মেটানোর আহ্বানে দ্বিধাগ্রস্ত প্রকৃতি। তার জল যে অশুচি, কী করে এই পিপাসিত ভিক্ষুর পিপাসা মেটাবে- অসহায় বোধ করে  প্রকৃতি! 
এগিয়ে এলেন ভিক্ষু নিজেই। প্রকৃতিকে  সাহস দিয়ে বলেন, " যেই মানব আমি , সেই মানব তুমি -সেই মানবের কন্যা -জল দাও আমায় জল দাও, আমি তাপিত পিপাসিত-আমায় জল দাও..." অনেক তো হলো! আর কতো রক্ত আর কতো প্রাণ হানি? এবার অন্তত আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সস্তা সরকারবিরোধী শ্লোগান না ফেণিয়ে সমস্যর গভীরে যেতে হবে। 
এই চিহ্ণিত শক্তি আআর আপনার ছত্রছায়াতেই শক্তি পাচ্ছে । ঠেকান তাদের! এমবি জঙ্গী সরকারী দল থেকে নমিনেশন পায় কার সূত্রে? কোন কোন মন্ত্রী চোখ বুজে সেই নমিনেশন শীর্ষ নেতা পর্যন্ত পৌছে দেন? কার স্বার্থে? সেসব মন্ত্রীরা উচ্চশিক্ষিত হতে পারেন, তারাও কি একদিন বিএনপি'র নমিনেশনের জন্যে দৌড়ঝাঁপ করেন নি?কোন কোন জেএমবি নেতার বড়ো ভাই প্রভাবশালী সাংবাদিক-যার ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশের শীর্ষ পত্রিকা টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদকেরা।
 সেই সম্পাদনা টীম থেকে তাদের বন্ধুর ভাইকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে বারণ করে দেন প্রতিবেদককে। জেএমবি -জামাত-শিবিরের একনিষ্ঠ নেতার 'ভাই সাংবাদিক' নিজেই ফোন করেন যেন তার ভাইকে 'একটু দেখে' রাখেন সেসব সাংবাদিক । 
তার কোন সংবাদ প্রকাশ না পায়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা সংবাদ সম্মেলনে অবাধ যাত্রী এই সাংবাদিক টকশোতে এই সরকার এবং শেখ হাসিনার কঠিন সমালোচক- কৈ তিনি তো তার ভাইকে ঠেকান নি জঙ্গী জেএমবি করা থেকে বা বাংলা ভাইয়ের সাথে চিরসঙ্গী হওয়া থেকে ও সরান নি-অথবা ১০ বছর যখন তার ভাই শিবিরের বাগমারা শাখার সভাপতি ছিলেন এই মোল্লাকে তার ভাই তো ঠেকান নি - এখন এ্বই মোল্লা বাগমারা আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ এনামুলের পারসোনাল সেক্রেটারী। 
আওয়ামী লীগ নেতা- নারী-অর্থ-সব কিছুতে এই জেএমবি জামাত নেতার সহজগম্যতা ! কে ঠেকায় তাকে -দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম তো তার হাতের মুঠোয়! এই জামাত জেএমবি নেতাই তো  এলাকার সরকারী নমিনেশন নিয়ন্ত্রন করেন, সমর্থন পান শীর্ষ মন্ত্রীদের। 
নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখি কি আমরা? যতো দোষ হাসিনার ( তার হাতে যদি রিমোট কন্ট্রোল থাকতো-যা দিয়ে ঘাতক আর তাদের এই দোসরদের নিমেষে মিলিয়ে দেবেন) -খুব সহজ হয় রাষ্ট্রনায়ককে দোষ দেয়া নিজেরা কিভাবে জামাত জেএমবি'র পৃণ্ঠপোষকতা করছি-একবার ও নিজেদের অপরাধ থেকে সরে আসার চেষ্টা করছি?  এই প্রত্যন্ত জনপদের বৌদ্ধভিক্ষুর গলায় কারা চাপাতির কোপ দিলো? খুব কঠিন কি খুঁজে বের করা?  রাবি অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক মুকুলের ঘাতকেরা শিবির নেতা-কিন্তু নাম গোপন রাখতে হবে -বলছে পুলিশ! কেন? 
রাজশাহী চিরকাল জামাত জেএমবি নিয়ন্ত্রিত থাকবে -চট্টগ্রাম জামাত নিয়ন্ত্রিত থাকবে -সারা দেশ জামাত নিয়ন্ত্রিত থাকবে -জনপ্রতিনিধিরা তাদের পুষবে আর বগল বাজাবে -আমরা ফেসবুকে হাসিনা আর সরকারের বিরুদ্ধে ফেণিয়ে যাবো...এভাবেই নিঃশেষিত হবে বাংলা আর বাঙ্গালী ? হতে পারে না-সত্য বলার সাহস নিয়ে দায়িত্বশীলতার সাথে একাত্ম হতে হবে আমাদের! ঐ চাপাতি ঠেকাতে হবে সহস্র সবল শ্রমজীবি দেশ প্রেমিকের হাত দিয়ে! 
ঠেকাতে হবে কলুষিত নষ্ট রাজনীতিকদের এক হয়ে জিনিয়ে নিতে হবে শুভশক্তিকে । তার জন্যে সবার আগে প্রয়োজন সকল বিচ্ছিন্নতা ভুলে শুভ শক্তির সৎ মানুষ আর সংস্কৃতি সেবিদের একাত্মতা। 
 এই তাপিত পিপাসিত জাতিকে রক্ষায় সকল শুভশক্তিকে একাত্ম হতে হবে-তবেই আমরা প্রমাণ করতে পারি বাংলা এবং  বাঙ্গালী চিরজীবি!

Sunday, May 1, 2016

তবু সিনায় সিনায় লাগে টান-পুড়ে যায় জ্বলে যায় বন্ধুতা- সুমি খান

ভারত -বাংলাদেশের নাগরিকদের শেকড়ের একই টান-
একই গঙ্গা -পদ্মার আবাহনে সিনান।
তবু সিনায় সিনায় লাগে টান-
পুড়ে যায় জ্বলে যায় চিরবন্ধুতার সেতারের তিন তার-
গেয়ে ওঠে  রক্তস্নাত বিরহী কন্ঠের  রাগসঙ্গীত...বহে যায়  কাল নিরবধি ।
এমনই এক আত্মকথনের  দিনলিপি আজ তুলে ধরি পাঠকের কাছে।

First of all ,my  gratitude to past and present Indian High commissioners and Asst High commissioners of India .But Sorry to say here,very unfortunately present Indian High Commission or Asst High Commission officers behave extremely non professional. Some of them even told, when they (staff/officers of visa office deny the order of the hn'ble High commissioner or Asst high commissioner,And even  Said, "...they (Hn'ble HC /AHC should have to know -they (HC/AHC) don't have any power" . This bad practice is the reality.

Who  behave to visa applicants (Specially who are Secular or Anti Racism activists ) as if the applicants are their Subordinate!
বাংলাদেশ থেকে পেশাগত কাজে বা চিকিৎসার জন্যে বা  পড়ালেখা, স্কলারশীপ,ফেলোশীপ অথবা আমন্ত্রিত হয়ে ভারতে যাচ্ছেন অনেকে- অন্যান্য দেশে ও যান অনেকে।
তবে  অনেকে বলেন, এসব স্কলারশীপ , ফেলোশীপ বা  ভিসা দেবার জন্যে বা হাইকমিশনের বিশেষ দিবসের আমন্ত্রিতদের তালিকায়  প্রথম সারিতে থাকেন  কওমী মাদ্রাসা, জামাত শিবিরের খঞ্জরধারী ঘাতকেরা, তাদের অনুসারী -যারা চরম ভারত-বিরোধী  পাকিপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তি বা ভারতের বৈরি রাজনীতিক, তারা।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনা  এখানে তুলে ধরা হলো। অনেকের সাথে মিলে যেতে পারে এ ঘটনা। সেটাই বাস্তব।
সাধারণ কোন পেশাদার , স্থায়ী ঠিকানার থেকে অনেক দূরে থাকেন।
কর্মক্ষেত্র ছেড়ে ভিসা নিতে  ভারতীয় হাইকমিশন বা সহকারী হাইকমিশনে যেতে পারছেন না।
ভারতীয় ভিসার ফর্ম পূরণ করতে হলেও অনেক হ্যাপা। সেসব নিয়ে বড়ো বাণিজ্য। এ নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে ভারতীয় হাইকমিশনকে । কিছুদিন এসব ঝামেলা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও, একই পরিস্থিতিই রয়ে গেছে। একটি কম্পিউটার নিয়ে বসে যে কারো  শত শত টাকা থেকে  লক্ষ টাকা হয়ে যায়; শুধু ভিসা ফর্ম পূরণের সিন্ডিকেটের অংশ যদি তিনি হন। যাই হোক্ , ভিসা ফরম অনলাইনে সহজলভ্য না হলে এদের দ্বারস্থ হতেই হবে। সেভাবে ভিসা ফরম ও পূরণ হলো।
 হাইকমিশনে ফোন করে  যোগাযোগ করলেন ভিসা প্রার্থী । দীর্ঘক্ষণ কথা হলো  এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে। তাঁর কথামতোই পরদিন সকালে  ভিসাপ্রার্থীর সন্তানকে পাঠানো হলো হাই কমিশনে। কিন্তু  আগের দিন দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও  পরদিন সকালে সেই কর্মকর্তা আর ফোন ধরলেন না।
 ভিসা প্রার্থীকে বাধ্য হয়ে সম্মানিত সহকারী হাইকমিশনারের কাছে ফোন করতে হলো। বেশ বিনয়ের সাথে তিনি সাড়া দিলেন এবং ভিসাপ্রার্থীর সন্তানকে ডেকে নিয়ে ফর্মটি দেখলেন।সব যথাযথ দেখে সহকারী হাইকমিশনার নিজে দায়িত্ব নিয়ে দ্রুততার সাথে সেই ভিসা ফরমে  স্বাক্ষর করে নির্দেশনা দিলেন প্রসেস করার জন্যে।
হা হতোস্মি!
প্রধান কর্তাব্যক্তির স্বাক্ষর আছে বটে , তাতে কী? কে তার স্বাক্ষর বা নির্দেশের তোয়াক্কা করেন?
টোকেন দিতে সাড়ে ৩ ঘন্টার বেশী লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হলো ভিসাপ্রার্থীর সন্তানকে।
প্রচন্ড দাবদাহে কোন কাজ থেমে নেই । হয়রানি ও থেমে নেই।
সকাল ১১টা থেকে যতোবার ই ফোন করা হয়, "হয়ে যাচ্ছে" বলেও নানান টালবাহানা । এভাবে বেলা ৩টা বাজে প্রায়।ভিসাপ্রার্থীর মা ও  বাইরে প্রতীক্ষারত । বেলা দ্বিপ্রহর পেরিয়েছে সেই কবে।
ভিসাপ্রার্থী 'অপরাধী'র মা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং আজীবন সংগ্রামী। তিনি এর কয়দিন আগে মাত্র নিউমোনিয়া থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
সহকারী হাইকমিশনার এসব  কিছু না জানলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেটা খুব ভালো করেই জানতেন। তবে তাতে কি? ভিসা দেয়া কি মুখের কথা?  অসুস্থ হলে কী হবে, তিনি তো তাঁর সন্তানের  ভিসাটি নিতে গিয়েই 'অপরাধ 'করেছেন।
তাঁর আরো অপরাধ অবসর জীবনে আরাম না করে, অসুস্থ শরীরে বিশ্রাম না নিয়ে নিপীড়িত বঞ্চিতদের আইনী এবং আর্থিক সহযোগিতা দেন নিয়মিত।বেশ কয়েকটি দরিদ্র পরিবারের সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াচ্ছেন। আশ্রয়হীনদের আশ্রয় দেবার ব্যবস্থা করেন। - সেই নিপীড়িত বঞ্চিতরা দূর দূরান্ত থেকে অপেক্ষা করে আছেন তাদের এই ত্রাতার জন্যে। মাঝে একদিন হাইকমিশন বন্ধ ছিল। এভাবে পরপর তিন/চার দিন- প্রতিদিনই ধর্ণা দেয়া, প্রতিদিনই  ঘন্টার পর ঘন্টা হিটওয়েভে অপেক্ষা করা নিয়ম হয়ে গেলো।
এক পর্যায়ে রিসেপশন থেকে বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হলো, " স্যারের সিগনেচার থাকার পরও এতোক্ষণ আপনার ছেলেকে লাইনে  দাঁড় করিয়ে রাখা হলো ? " এর আগের দিন যিনি কথা বলেছিলেন, তাকে এতোক্ষণে পাওয়া গেলো , জবাব দিলেন, "আসলে হয়েছে কি, স্যারের সাথে কথা বলেছেন তো, আমাদের তো আর কিছু করার থাকে না। এসব আমাদের কাজ ও নয়। " তিনি যে কোন ভাবেই সাড়া দেন নি। আগের দিন তার নির্দেশনা মতো  সময়ে ফর্ম পাঠানোর পর ও তিনি এড়িয়ে গেছেন-কী কারণে এড়িয়ে গেছেন, তাও বললেন না।  বেশ সচেতন ভাবেই এড়িয়ে গেলেন পুরো বিষয়টা।
আবারো ভিসাপ্রার্থীর মাতা গেলেন সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের গেটে।কিন্তু  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেউ ফোন ধরলেন না। প্রায় ২ ঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হলো ভিসাপ্রার্থীর মায়ের। পরে শেষ বিকেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফোন করে প্রশ্ন করলেন, পাসপোর্টটি নিতে কেউ যায় নি কেন।জানালেন, পরদিন তাদের অফিস  বন্ধ।
বন্ধের পরদিন আবার বৃহস্পতিবার । ভিসাপ্রার্থীর মাতা আবারো গেলেন।
 শুধু তো পাসপোর্টটি নেয়া, এ আর কতোক্ষণের কাজ । দেড় ঘন্টার পথ যাওয়া আসায় তিন থেকে চার ঘন্টা । এর পর  পাসপোর্টটা দিলেই অফিসে ফিরে আসা।
কিন্তু সহকারী হাইকমিশনের গেটে অপেক্ষা করতে করতে রিসেপশানে  বারবার ফোন করলেন সেই মানবাধিকার সংগঠক এবং মুক্তিযোদ্ধা নারী , সমাজের নিপীড়িতদের সেবা করা যার ব্রত। জানতে চাইছেন, সম্মানিত কর্মকর্তাদের কখন দয়া হবে, করুণা হবে- পাসপোর্টটি দেবেন তারা। কিন্তু না। সাড়া নেই।
সন্তানের চিকিৎসা করতে জরুরী ভাবে ভারতে যাওয়ার কথা , তাই অধীর হয়ে প্রতীক্ষার প্রহর গুণেন মা- পাসপোর্টটি কখন ভিসাসহ হাতে পাবেন।
না, সেই কর্মকর্তার সময় নেই কথা বলার । তিনি অফিসে ঢুকেই সব শুনেছেন। পাসপোর্টটি তো তারই ড্রয়ারে। সেটা বের করে পিয়নকে দিয়ে পাঠানোর সময় কোথায় তাঁর? যদিও  তিনিই বলেছেন আসতে; থাকনা বাইরে অপেক্ষমান।  তাঁর কল রিসিভ করা বা তাঁকে ভেতরে ডেকে বসবার যোগ্যতা কি আর এসব 'মহিলা' রাখেন? তিনি তো  কোন ব্যবসায়ী নেত্রী নন। অথবা জামাত বা ভারতবিরোধী কোন জোটের নেত্রী নন।
তুচ্ছ এসব বিষয় না ভেবে বড়োকর্তার রুমে মিটিংয়ে চলে গেলেন  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ।
বাইরে অপেক্ষমান সেই মুক্তিযোদ্ধা মানবাধিকার সংগঠক মায়ের উদ্বেগ -তাঁর সাহায্য-সহযোগিতা প্রত্যাশী দীর্ঘক্ষণ প্রতীক্ষারত নিরীহ নিপীড়িতদের জন্যে।তাঁর অফিসে ফিরে যেতেও কমপক্ষে দু'আড়াই ঘন্টা লাগবে। সেই দরিদ্র মানুষগুলোকে তো আবার কাজে ফিরে যেতে হবে। সেও তো অনেক দূর গ্রাম।এই অসহায় মানষগুলোকে তো ফিরিয়ে দেয়া যায় না। দীর্ঘক্ষণ প্রতীক্ষাও করানো যায় না।
ভিসাপ্রার্থী সন্তান সকাল থেকে হাইকমিশনে  অনেকবার ফোন করার পর বারবার ই জবাব এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আসেন নি। এক পর্যায়ে জবাব এলো, "বলা যাচ্ছে না কিছু, মাত্র মিটিংয়ে বসেছেন...বাবু। আপনি  সকাল থেকে চারবার ফোন করেছেন, আপনার মা চারবার ফোন করেছেন -সবই বলেছি। তিনি তো মিটিংয়ে বসে গেছেন।"
 বাধ্য হয়ে চরম রূঢ়ভাষায় ভিসাপ্রার্থীকে এর জবাবে বলতে হয় , "যথেষ্ট হলো।এতো হয়রানির আর প্রয়োজন নেই , পাসপোর্টটি দয়া করে ড্রেনে ফেলে দিতে বলবেন তাঁকে। আমার মা  অসুস্থ । তাঁকে এই প্রখর দাবদাহে অপেক্ষা করানোর আর প্রয়োজন নেই ।এই সংবাদ প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। "
 অপারেটর এ কথা জায়গামতো পৌছে দিলে দ্রুততার সাথে ফিরতি কল এলো।বেশ দায়িত্ব নিয়েই তিনি তার 'দয়াপরবশতা'র কথা জানান।সেই সাথে পাসপোর্টটি গেটে পৌছে দেন।
তিনি জানান, তিনি দয়া করেছেন পাসপোর্টটি রেখে ।
 এই চিত্র প্রমাণ করে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করা  সাম্প্রতিক সময়ে একটু বেশি অপরাধ।
ভিসা চাইতে গেলেই তা কর্মকর্তারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন বারবার ।
তবে  বিস্ময়কর হলেও এমন অনুযোগ ও রয়েছে  ,এই হয়রানি কখনো কোনকালে বিএনপি বা জামাত নেতা কর্মীদের সাথে হয় না।
 বরং তারা বিশেষ ভাবে আমন্ত্রিত হন দূতাবাসের সকল অনুষ্ঠানে।
এই আমন্ত্রিতদের তালিকা বেশ বড়োই হয়। যে তালিকায় 'খুঁটিহীন'  নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক বা আজীবন সংগ্রামী  বা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বা শহীদ পরিবার অনুপস্থিত ।
কারণ হয়তো এরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ভোটার বা সেক্যুলার ভোটার । যাদের এদেশের রাজনীতিবিদরা  'পকেট' মনে করেন। ভারতের ভিসা অফিসের কর্মকর্তারা ও কি তাই মনে করেন?
 বিশাল ভুল করছেন তারা।
ভিসা প্রার্থী বা তাদের পরিবারের সাথে এমন অন্যায় আচরণ কখনো কাঙ্খিত হতে পারেনা। আর তা নিয়ে যখন আরো উদ্ধত আচরণ, সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।
তা চরম অন্যায়, যে অন্যায়ের কোন ক্ষমা নেই।
ভারত বাংলাদেশের বন্ধুদেশ। এ দেশের সাথে বাংলাদেশের জন্ম জন্মান্তরের অকৃত্রিম বন্ধন । আর তাই এদেশের ভিসাাপ্রার্থীদের সাথে কোনোা হীনমন্যতার সুযোগ নেই ।এ ধরণের অন্যায় আচরণের প্রমাণ এবং  রেকর্ড অনেক।সব কিছুরই শেষ থাকে।  এ অন্যায় আচরণের ও শেষ থাকতে হবে।...

 গেদে সীমান্ত পথে যাবার ভিসা পাওয়া বা  ট্রেনের টিকেট পাওয়া আবার সোনার হরিণ-তাই বলে যাওয়া-
"Missed the appointment of Doctor ...Just Delaying to go Madras to take the followup treatment..
Need the train travel access .
But again the staffs will ask to wait unlimited time ...nobody can assure, when it will go to the end...!!"
স্বগতোক্তি ভেসে আসে ,"  গরীবের আর কী আছে আত্মসম্মান ছাড়া? সেটাই যদি হারাতে হয়,আর থাকেটা কি?? তার চেয়ে বাবুসাহেবেরা তোমরাই থাকো তোমাদের চিহ্নিত শত্রু যমদূত  বন্ধুদের নিয়ে। আমরা  নাহয় গেলাম না ভারত। ভিসা চাওয়ার অপরাধে যে আচরণ তোমরা আমাদের দাও, তার চেয়ে  এদেশে ভুল চিকিৎসায় আজীবন পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুই  মঙ্গল..." 

Friday, April 29, 2016

Best of Nilima Sen | Rabindra Sangeet | Rabindra Sangeet Audio Jukebox