Sunday, June 11, 2017

জয় সত্যের হয় কি সবসময়?

১১ জুন ,২০০৮ সকালেই জানতাম  সেদিন মুক্তি পাচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা।  আমি তখন একুশে টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি। আমাকে আমার আরো ২ সহকর্মী সহ সাবজেল এ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হলো।  ভারপ্রাপ্ত বার্তা প্রধান কে বললাম আমার পর্যবেক্ষণ-কোথায় কোথায় যেতে পারেন আপা । সুধা সদনে একজন, সাবজেলের সংসদ ভবনে একজন। আমি সাবজেলের দক্ষিণ গেটে সাত সকাল থেকে অপেক্ষা করতে করতে হঠাৎ বুঝতে পারলাম আমার স্যালওয়ারের ডানদিকে কোমরের সেলাই টা খুলে গেছে । আড়ং য়ের স্যালওয়ার স্যুট টা সেদিন সম্ভবত দ্বিতীয়বারের মতো পরেছি। কামিজের ফাড়া দিয়ে  সালওয়ারের সেলাই খোলে যাওয়া অংশ টা দেখা যাচ্ছে। কামিজের ডান দিকের ফাড়াটা একহাতে  জোড়া লাগিয়ে রাখলাম। এদিকে বাম হাতে মোবাইল। ফাকে ফাকে অফিসে আর সোর্সের সঙ্গে কথা  চলছে। চোখ পড়লো রাস্তার উল্টো দিকে আড়ংয়ে । হাতে ১ হাজার টাকা ছিল শুধু। ভাবছিলাম, সারাদিনের ব্যাপার, কী করে এভাবে থাকবো। অনেক সময়ে শুধু প্যান্ট বা সালওয়ার বিক্রি করে আড়ংয়ে। এখানে আছে কিনা , দেখি। রাস্তা পেরিয়ে গেলাম, ক্যামেরা পারসন কে বলে গেলাম।  ব্যস খবর চলে গেলো অন্য সহকর্মীদের কানে। তারা সোজা বার্তা প্রধানকে নালিশ জানালো। বার্তা প্রধানের তলবি ফোন এলো, " সুমি আপা, কোথায় আপনি? " বরলাম আছি..ভাই এখানেই। " আপনি নাকি আড়ংয়ে ঘুরতে গেছেন?" বললাম , আড়ং তো রাস্তার উল্টো দিকেই । তাছাড়া আমি জানি  আপা এখনো বেরোন নি। আর বেরোলেও এদিকে বের হবেন না হয়তো। আমি জানবো কোন দিক থেকে কোথায় যাবেন। " কঠিন ধমকে বলা হলো, "  আপনি ওখানেই যদি থাকবেন- এখনি আমার ফোন ধরে সাবজেলের সামনে যান..." গেলাম ছুটে রাস্তা পেরিয়ে আবার....সেই অবস্থাতেই চলে এলাম  ৩২ নম্বরে । ..সেই ২ সহকর্মীর....কেউ কোন ফুটেজ পেলো না... আমার সোর্স আমাকে বলে দিচ্ছে কোন দিক থেকে নেত্রী কোথায় যাচ্ছেন...শুধু আমি পেলাম ফুটেজ... আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়  ব'লে দিলো ৩২ নম্বরের পিতার চরণ ছুঁতে কন্যা আসবেন ই একবার .. র‍্যাবের ট্রুপ গুটিয়ে চলে গেলো । বার্তা প্রধান বললেন, " সুমি আপা , আপনার কী মনে হয় ? এখানে কি আর আসবেন?" বললাম, "হ্যাঁ, আমার ধারণা  আপা একবার আসবেন ই এখানে.."... বললেন, "তাহলে আপনি থাকেন..."
আমার সাথে ক্যামেরায় টিটো ভাই । ৩২ নম্বরেই এলেন গণতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনা। এর মধ্যেই হঠাৎ সাবজেল থেকে ফুটেজ পেতে ব্যর্থ হয়ে আরেক জুনিয়র সহকর্মী আমার থেকে বুম ( মাইক্রোফোন ) ছিনিয়ে নিয়ে আরেক সহকর্মী  পিটিসি দিতে দিতে ভেতরে ঢুকলো ( বার্তা প্রধানের নির্দেশে?) । আমার ক্যামেরা পারসনের থেকে টেপ টা নিয়ে সেই ফুটেজ নিয়ে অফিসে গেলো , আমার ফুটেজেই তার নিউজ হলো ...৩২ নম্বরের ভেতরে ভীড়ে প্রায় অজ্ঞান ক্যামেরা পারসনকে আমি স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম দ্রুত। ....
এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পুরো এ্যাস্‌ইনমেন্ট শেষ করবার পর যে সহকর্মী ফুটেজ ছিনিয়ে লিড রিপোর্ট করলো- সে টিজ করে করে বললো, " আপনি আড়ং য়ে গেছিলেন...পায়জামা নাকি ছিড়ে  গেছে...হিহিহিহিহি.... জিন্স পরলেই তো পারেন সুমি আপা...." খুব  অপমানে বললাম, আপনারা আমার ছোট ভাইয়ের মতো। কোন সংকটে পাশে থাকতে না পারেন, তামাশা করবেন না, প্লীজ..." বলতে পারতাম, আমি এমন বাবার সন্তান, যিনি আমার শৈশব কৈশোরেই আর দুই ভাইয়ের সাথে একই পোশাক পরিয়ে বড়ো করেছেন। প্যান্ট পরা আমার কাছে নতুন কিছু নয়। তবে আকস্মিক কোন সংকটে হেনস্থা করা পৌরুষত্বের প্রকাশ ঘটে না, ক্লীবত্বের প্রকাশ মাত্র! 
মনে মনে বলি, " শোন মর্ত্যের জীব, অন্যেরে যতো করিবে পীড়ন, নিজে হবে ততো ক্লীব ...."
সেই ২ সহকর্মী এভাবেই লুটে পুটে  কেউ নানান অপরাধের শাস্তি হিসেবে ১ দিনের কারাভোগ করে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার  , আর কেউবা প্রধানমন্ত্রী বীটের বেশ ক্ষমতাশালী রিপোর্টার । এখন বিশাল আরো অনেক কথা হয়তো লিখবো.....

বিন্দুবাসিনীর ডায়েরী-২

 নিশি পার করে ভোর হলো.... ভোরের বৃষ্টি, খুব বৃষ্টি  খুব ভালোবাসতাম আমরা , মনে পড়ছে প্রাণ আমার?!
তুমি এতো এতো ভালোবেসেছিলে- কিন্তু কেন?
তোমার ভালোবাসায় কোন খাদ ছিল না- নিখাদ নিপাট ভালোবাসা তোমার আমার ....
ঝড়ের মতো এলো-ঝড়ের মতোই হারিয়ে গেলো ...
পরান আমার বধূর বেশে চলে না;চিরস্বয়ম্বরা ও না।
বুঝলে না কখনো
হয়তো হারানোর ভয়ে , হয়তো না.....
বিন্দুকে ভালোবাসতে নেই যে.....
সুধাময়ীর  সাথে বিন্দুর এক অমোঘ টান ছিল, তাই সুধাময়ীর বিয়ের পরে ও চিঠি পত্রের লেনদেন ছিল।

কোথাও কেউ নেই বিন্দুর -
জেনে গেছে রক্তবিন্দু দিয়ে
এ তুমি কেমন তুমি -
কাঁদতে গেলেই সামনে আসো
জল মুছিয়ে
চোখের কোণায়
আকাশ ভেঙ্গে   বৃষ্টি নামায়- যে প্রাণ আমার
সেই প্রাণেতেই জেগে আছি নিত্য প্রহর।

মালা গাঁথার প্রহর মনে রয়ে যায়-
যেমন রয়ে যায় মালার প্রতিটি ফুলের পাপড়ি গুলো  ছিঁড়ে যাবার প্রহর ...
রবিবাসরিয় প্রতীক্ষার কাল দুঃসহ যন্ত্রনায় পার করতে হয় কেন বারবার ?
সকাল ৮টা , ১২ জুন, ২০১৭


Wednesday, June 7, 2017

সাংবাদিক আগে মানুষ, পরে সাংবাদিক - সৌরভ পাল

সাংবাদিকতার সংজ্ঞা কী? কেউ বলবেন কলম-ক্যামেরার পেশাদারিত্ব। কেউ বলবেন সাংবাদিকতা আসলে 'পাবলিক সার্ভিস'। সংবাদপত্রের জন্মলগ্ন থেকেই এই দ্বন্দ ছিল, 'ব্যবসায়িক স্বার্থ' মাথায় নিয়েই কর্ম অতিবাহিত করবেন একজন সাংবাদিক, নাকি 'জনগণের জন্য কাজ' করবেন তিনি? উত্তর আজও মেলেনি! বরং এই দুইয়ের দ্বন্দকে কাঁধে নিয়েই যুগের পর যুগ বয়স বেড়েছে পৃথিবীর প্রাচীনতম গণমাধ্যমের।

 'বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল', এই মন্ত্র পাঠ করে কোনও সংবাদকর্মী সাংবাদিকতার পেশায় আসেন না, বরং পেটের দায়েই পেশা। তাহলে কী প্যাশন নেই? অবশ্যই আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই 'কর্পোরেট কালচারে' পাবলিক সার্ভিস রোলের বদলে একজন পেশাদার সাংবাদিক হয়ে ওঠেন 'উন্নত মানের চাকর'। 

যে যত বেশি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন, যে যত বেশি করে নিজের 'মনের মানুষ'কে 'খুন' করতে পেরেছেন তিনিই হয়ে উঠেছেন 'শ্রেষ্ঠ'। আধুনিকালে এমনটাই হয়ে আসছে। তবে বহমান স্রোতের উল্টো দিকে কেউ না কেউ কখনও না কখনও সাঁতার কেটেছেন, এখনও সাঁতরে যান তাঁরা। হ্যাঁ, ব্যতিক্রম থাকেই। আর এই ব্যতিক্রমরাই হয়ে ওঠেন উদাহরণ, এনারাই হন 'পথ প্রদর্শক'। 
 মনুষত্ব এবং সাংবাদিকতার মধ্যেকার প্রকট দ্বন্দে 'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই', এই অনুভব আবারও ফিরে এল। ফিরে এল এক আলোক চিত্রগ্রাহকের হাত ধরে।    
একবিংশ শতকের এমনই এক ব্যতিক্রম আলোক চিত্রগ্রাহকের কথাই বলব এই প্রতিবেদনে। ভারত থেকে সিরিয়ার দূরত্ব ৪ হাজার ২১১ কিলোমিটার। আকাশ পথে এই দূরত্ব পার হতে সময় লাগে খুব কম করে ৫ ঘণ্টা। তবে এখন যে সিরিয়ার কথা বলছি সেখানে আপনি পৌঁছে যাবেন এক পলকেই। একটা জ্বলন্ত অগ্নি গোলক। নিমিষে শেষ হয়ে যাচ্ছে শত শত প্রাণ। একদিকে গৃহযুদ্ধ অন্যদিকে শরণার্থী সমস্যা। সিরিয়া বেঁচে আছে 'আইসিইউ' বেডে। রক্তক্ষরণ ঠেকাতে পারছে না কেউই। যে মরে মরুক, আগে নিজে তো বাঁচি, এটাই এখন সিরিয়া। এই সিরিয়াই সাক্ষ্মী থাকল জীবন বাঁচানো সাংবাদিকতার। ক্যামেরা কাঁধেই রয়েছে, আঙুলটা কেবল শাটারে নেই, কোলে এক শিশু নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছেন এক সাংবাদিক। জীবন বাঁচানোর পেশায় নিয়োজিত এই সাংবাদিক এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং। বাজারের ভাষায় লোকে পড়ছে, দেখছে, গিলছে আর খাচ্ছে। 
সন্ত্রাসের খবর সংগ্রহ করতে 'সিরিয়ার শরীর' বেয়ে অনবরত দৌড়াচ্ছেন আলোক চিত্রগ্রাহক আলকাদের হাবাক। এদিনও এমন ঘটনার ছবি সংগ্রহ করতে বেড়িয়েছিলেন তিনি। বম্ব ব্লাস্ট। একটা গোটা বাস দাউ দাউ জ্বলছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ১২৬ টি মৃত দেহ, যার মধ্যে ৮০ টি দেহ শিশু। ক্যামেরা চলছে। এক একটা ক্লিক সাক্ষ্মী থাকছে 'মৃত্যু উপত্যকার'। প্রাণ কই? হঠাৎ এক মৃদু ক্রন্দনে যেন মরুভূমিতে চির হরিতের সন্ধান! হ্যাঁ, একটা জীবনের আওয়াজ পেয়েই ছুটে যান চিত্রগ্রাহক আলকাদের হাবাক। ক্ষত বিক্ষত শরীরে তখনও হৃদ স্পন্দন আছে শিশুর। কী করবেন তিনি এবার? খবর সংগ্রহ করবেন না জীবন? কোনও দ্বিধা নেই, দ্বন্দ্ব নেই, জীবনের জন্য জীবন বাছলেন তিনি। ক্যামেরা কাঁধেই, কোলে তুলে নিলেন মৃতপ্রায় শিশুকে। নিয়ে এলেন নিরাপদ আশ্রয়ে। এবার ফিরলেন অগ্নি গোলকে। আরও এক শিশু... না বাঁচাতে পারলেন না। ক্যামেরা কাঁধেই রইল, হাতগুলো পৌঁছে গেল ভেজা চোখে। সেদিন মেঘ ছিল না আকাশে তবুও বৃষ্টি হল। বৃষ্টি হল চোখে। আর এই ছবিই ধরা পড়ল আরেক সাংবাদিকের ক্যামেরায়। 
"সেই দৃশ্য ছিল ভীষণ ভয়াল। আমি দেখছিলাম, আমার চোখের সামনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট প্রাণ। ওই শিশু আমার আঙুল ছুঁয়ে ছিল আর আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি আর আমার সহকর্মীরা সিদ্ধান্ত নিলাম ক্যামেরাকে সরিয়ে রেখে এখন মৃতপ্রায় প্রাণগুলোকে বাঁচাতে হবে, তারপর সেটাই করলাম", সিএনএন-কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই জানালেন চিত্রগ্রাহক আলকাদের হাবাক। আর যিনি এই ছবি তুললেন সেই চিত্রগ্রাহক মহম্মদ আলরাজিব বলছেন, "আমি সব কিছু ক্যামেরা বন্দি করতে চেয়েছিলাম, একজন নবীন সাংবাদিক জীবন বাঁচাতে উদ্যত হয়েছেন, এই ঘটনা আমাকে গর্বিত করেছে"। আর এভাবেই নির্মিত হল সাংবাদিকাতার 'মানবিক সংজ্ঞা'। ২৪ ঘন্টা

আমি রবিধার্মিক.- বাসুদেব ঘোষ

রবীন্দ্রনাথ
সদ্য জমিদার রবীন্দ্রনাথ। ১৮৯১ সাল। পুণ্যাহ উৎসব। জমিদার এসেছেন উৎসবে। শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে।
প্রথামতো হিন্দুমতে পুজো। তার পর প্রজারা করদান করবেন। দ্বারকানাথের আমল থেকে এই উৎসবে ধর্ম-জাতি-বর্ণ অনুসারে থাকতো আলাদা ব্যবস্থা। জমিদারবাবুর জন্য ভেলভেটমোড়া সিংহাসন। গোমস্তা-নায়েবদের জন্য পৃথক উচ্চাসন। হিন্দু প্রজারা চাদরঢাকা সতরঞ্চির এক ধারে। তার মধ্যে ব্রাহ্মণের স্থান আলাদা।...... চাদর ছাড়া সতরঞ্চিতে মুসলমান প্রজারা।
রবীন্দ্রনাথ জানতে চাইলেন এই ব্যবস্থার কারণ। অভাবিত প্রশ্নে বিস্মিত নায়েব বলেন, বরাবর এই নিয়ম চলে আসছে। রবীন্দ্রনাথ বললেন, শুভ অনুষ্ঠানে এ প্রথা চলবে না। সবাই এক আসনে বসবো। নায়েব-গোমস্তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। ক্রুদ্ধ রবীন্দ্রনাথ বললেন, প্রাচীন প্রথা আমি বুঝি না। সবার একাসন করতে হবে। জমিদার হিসাবে এই আমার প্রথম হুকুম।
নায়েব আর সব হিন্দু আমলারা একযোগে পদত্যাগের হুমকি দেন। রবীন্দ্রনাথ অবিচলিত। তিনি প্রজাদের উদ্দেশ্যে বললেন, এই মিলন উৎসবে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এসো আমরা সবাই একসাথে বসি।
সব প্রজা একসাথে একাসনে বসে পড়লেন। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে। মধ্যমণি রবীন্দ্রনাথ। সেখানেই একসাথে। সবার মাঝে সবার সাথে বসে। উৎসব শুরু হলো। দলে দলে আরো মানুষ এসে যোগ দিলেন উৎসবে। সেদিন থেকে ঠাকুর এস্টেটের পুণ্যাহ উৎসবে শ্রেণীভেদ প্রথা উঠে গেলো।
এর থেকে বড় বিপ্লব সেই যুগে আর ক'জন করতে পেরেছেন!!!!!.....
রবীন্দ্রনাথ কিন্ত জেনে গেলেন সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। সংকল্পবদ্ধ হলেন তিনি। সেদিনই ঘোষণা করলেন, " সাহাদের হাত থেকে শেখদের বাঁচাতে হবে। এটাই আমার সর্বপ্রধান কাজ।"
আমি এই রবীন্দ্রনাথে নিবেদিত। আমি রবিধার্মিক.

Wednesday, May 31, 2017

বিন্দুবাসিনীর দিনলিপি-০০১

বিন্দুবাসিনী স্বপ্ন দ্যাখে , তার পুত্র যে কিনা সেই ছোট্ট সময়ে মা'কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্কেচ আঁকতো, আর  শান্তিনিকেতন থেকে রবিঠাকুরের বই আনবার ফরমায়েস দিতো-শিশুটি আজ অনেক বড়ো-কিন্তু হারিয়ে গেছে তার সেই মন।  সেই হারিয়ে যাওয়া অতুলনীয়  সন্তানটিকে আগের অকৃত্রিম রূপে ফিরিয়ে নিতে প্রানান্ত চেষ্টা বিন্দুবাসিনীর।
কী করে হবে ?
এই চেষ্টা করতে গিয়ে বাড়ির লোকেরা যে পরিহাস করে চলেছে নিত্য!
মৃত্যুর ডাক পায়ে পায়ে ঘুরছে বিন্দুর।
যদি কখনো পুত্রটি আবার তার নিপুণ হাতে রবি-নজরুল- সুকান্তের ছবি আঁকে-আবার তার সুললিত কন্ঠে উচ্চারিত হয়- আলো আমার আলো ওগো আলো ভূবন ভরা-আলো নয়ন ধোওয়া-ওগো আলো হৃদয় হরা-
 বিন্দুর মনে উদ্বেগ- পুত্রদের ভবিষ্যৎ চিন্তা-গড়ে নেবে নিজেদের-তবে শেকড়ের টান থাকবে তো?

ভাইদের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকবার ন্যূনতম ইচ্ছে বিন্দুর নেই -
পারিবারিক চিকিৎসক বলে, যাও, হাওয়া বদল করে এসো-ভাইদের দেখে এসো সময় করে।
বিন্দু কী করে বলবে- এ যে সম্ভব নয়। দুনিয়া ঘুরে এলেও ভাইদের সংসারে যাওয়া যে তাদের বিপদে ফেলে দেয়া। না পারবে ফেলতে- না পারবে রাখতে... প্রসঙ্গটি শেষ করবার জন্যে মৃদু হেসে বলে- , হ্যাঁ, তা যাবো বৈকি!
একের পর এক কী সব জটিল রোগের উপসর্গ পাওয়া যায় বিন্দুর শরীরে -যেসব জিনিস পত্র কিনতে হবে  , ডাক্তার বললে, ওরা বাইরে আছে, বললে ওরা এনে দেবে। এখানে অনেক দাম।
বিন্দু হেসে বলে, কেন, ভারতের তৈরি  জিনিস ও তো পায় বললো ডাক্তার.. তা পায়, কিন্তু যেটা ভালো বেশি সেটা ব্যবহার করো-তোমাদের ফ্যাক্টরি আছে....ডাক্তার দাদার ও বলিহারি বটে! কেন , কার খরচে ডাক্তারি জিনিস পত্র  কেনাকাটা করার কথা বলছেন?
পরিবারের বোঝা বিন্দু।
তাও ফুটফরমায়েসের কাজ করে এতে হয়-
এখন আবার বিন্দুর জন্যে  কেন , কতো দাম দিবে পরিবারের লোকেরা? কতো টা?

এক জীবনে হাতের লক্ষী পায়ে ঠেলে বিশাল এক বোঝায় পরিণত করেছে নিজেকে। যার ছোট ছোট অনুভূতি গুলো ও বিকোচ্ছে অনেক জলের দামে।
দুই সন্তান ভাইপো ভাইঝিদের সমান ভাবে বিন্দুর প্রাপ্য সামান্য যা কিছু আছে বাগ করে দিতো যদি কেউ। কাকে বলবে? এমন ই করুণ এ পৃথিবীতে বিন্দু এতোটাই অবাঞ্ছিত যে, একটা মনিষ্যি কোথাও নেই, যার কাছে লিখিত সব দিয়ে যেতে পারে- বিন্দুর মৃত্যুর পর সবাইকে বরে জিনিস পত্র ভাগ করে দিতো। ... মৃদু কন্ঠে গেয়ে ওঠে বিন্দু- " হেথা যে গান গাইতে আসা,  আমার হয় নি সে গান গাওয়া....."
বিন্দু নিস্তেজ হতে থাকে দিনে দিনে-


জীবনের প্রতি পদে যদি পরিবারের ভাইবোনের খরচ করাতে হয়-কেউ এমনি ই কথা বলতে চায় না-পরবর্তীতে একেবারে না আবার ত্যাজ্য করে দেয়- যা চক্ষু লজ্জায় বলতে ও পারছে না, করতে ও পারছে না।...
সুধাময়ী কাল থেকে খুব অসুস্থ। তার পাশে কেউ নেই ,  ওই একজন ছাড়া। তাকে বিন্দু কী করে  নিজের জন্যে  বেঁধে রাখে? এ বড়ো অন্যায়।
বিন্দুর দ্রুত অপসারণ জরুরী যে যে কারণে-এটা তার মধ্যে অন্যতম।
সুধাময়ীর আর একলা হতে হবে না।
৩১ মে ২০১৭, বসুন্ধরা আবাসিক

Tuesday, May 23, 2017

আজ আমার শুন্য ঘরে

আজ আমার শুন্য ঘরে

পরদেশী মেঘ

Tuesday, May 9, 2017

BHAY HOTE TABO ABHAY MAJHE Pankaj Kumar Mullick Rabindrasangeet


Thursday, May 4, 2017

Weekend Classic Radio Show | Rabindrasangeet Special |রবীন্দ্রসংগীত | Ki...


Hits Of Rabindranath Tagore | Ankita Ghosh | Aamar Nai Ba Holo | Rabindr...


Swastika Mukherjee | Rabindra Sangeet | Amar Mukti Aloy Aloy | Santu Muk...


Sunday, March 12, 2017

কারাগার থেকে ফিরে এই জঙ্গিরা নতুন করে আরও জঙ্গি তৈরি করবে- রোহান গুণারত্নে

পুলিশপ্রধানদের সম্মেলনে রোহান গুণারত্নে বলেন, ‘আইএসের জঙ্গিদের মতো বাংলাদেশের জঙ্গিরাও পাঁচটি জিনিসে বিশ্বাস করে। তারা যদি হামলার সময় মারা যায় তাহলে তারা সরাসরি বেহেশতে যেতে পারবে, আল্লাহকে দেখতে পাবে, তাদের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যাবে, তারা ৭০ জন আত্মীয়কে বেহেশতে নিতে পারবে এবং ৭০ জন সুন্দরী নারী পাবে বলে বিশ্বাস করে।’
জঙ্গিবাদের সমস্যা মোকাবিলা করতে সমস্যার মূলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সমস্যার মূলে যেতে হবে। উটপাখির মতো বালুতে মাথা গুঁজে থাকার কোনো মানে হয় না।রোহান বলেন, এখনকার দিনের জঙ্গিদের কাজের ধরন আগেকার চেয়ে আলাদা। আগে জঙ্গিরা জিম্মি করত, তারপর দাবিদাওয়া আদায় করত। হলি আর্টিজানের জঙ্গিরা কি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো দাবি জানিয়েছিল? তাহলে কেন কমান্ডো বাহিনীর জন্য অপেক্ষা করা হলো? এটা ছিল ভুল কৌশল।
হলি আর্টিজানে উদ্ধার অভিযান শুরু করতে ১২ ঘণ্টা সময় নেওয়া, কমান্ডোর জন্য অপেক্ষা করা  ভুল ছিল মনে করেন আন্তর্জাতিক জঙ্গী বিশেষজ্ঞ শ্রীলংকার বংশোদ্ভূত রোহান গুণারত্নে ।  ঢা

তিনি পরামর্শ দেন,  প্রথমে ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে সমাজসচেতন যারা, তাঁদের যুক্ত করতে হবে। পুলিশের মধ্যেও অনেকে আছেন, যাঁরা ধর্ম সম্পর্কে খুব ভালো জ্ঞান রাখেন। তাঁদের কাজে লাগানো যেতে পারে।
কায় পুলিশপ্রধানদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে জঙ্গিবাদ নিয়ে এক উপস্থাপনায় এসব কথা বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের (আইসিপিভিটিআর) পরিচালক রোহান গুণারত্নে।
সবচেয়ে বড় ১০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে তাদের কর্মমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। তাদের এদেশীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ভালোভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া দরকার। নইলে কারাগার থেকে ফিরে এই জঙ্গিরা নতুন করে আরও জঙ্গি তৈরি করবে।মাদ্রাসাশিক্ষার দিকে নজর দেওয়ার কথাও বলেন রোহান। তাঁর পরামর্শ হলো, যারা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে, তাদের জাতীয় জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া যায়। তারা দেখুক বাংলাদেশের সংস্কৃতি কত সমৃদ্ধ।
বাহিনীগুলোর মধ্যে সহযোগিতার যে সম্পর্ক, তা জঙ্গিবাদ দমনে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন রোহান গুণারত্নে। অসংগতির জায়গাগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ জঙ্গিদের জন্য আলাদা তথ্যভান্ডার গড়েছে, ডিজিএফআই (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) আলাদা আলাদা তথ্যভান্ডার। সবার জন্য অভিন্ন তথ্যভান্ডার থাকা দরকার এবং সব বাহিনী যেন সেই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণ নিতে হবে একসঙ্গে এবং প্রেষণে এক বিভাগের কর্মকর্তাদের অন্য বিভাগে চাকরির ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ তার ব্যাখ্যায় মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হলো অমুসলিম জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দুটি দেশ ভারত ও মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী প্রধানত অমুসলিম। এ ছাড়া আইএস-অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে যারা ফিরে আসবে, তারাও এখানে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, সাধারণ অপরাধী ও জঙ্গিদের দমনের পদ্ধতি আলাদা। একজন জঙ্গি তার গল্প বলতে চায়। কোন বিশ্বাস থেকে সে এ পথে এসেছে, তা-ও বলতে চায়। একজন সাধারণ অপরাধীকে যখন পুলিশ ধরার চেষ্টা করে, তখন সে পালানোর চেষ্টা করে। কারণ সে বাঁচতে চায়। কিন্তু একজন জঙ্গি বাঁচতে চায় না। জঙ্গিবাদ হলো আদর্শিক চরমপন্থার সহিংস প্রকাশ। ঢাকায় হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের উপস্থিতি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের অভিযান চালানো প্রয়োজন ছিল।গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়েছিল আইএস, দেশীয় জঙ্গিরা নয়। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব হামলাকারীদের প্রসঙ্গে অসত্য তথ্য দিয়েছেন।

গতকাল রোববার সকাল থেকে তিন দিনের এ সম্মেলন শুরু হয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে। বাংলাদেশ পুলিশ ও পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে। এতে ১৪টি দেশের পুলিশের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ফেসবুক, ইন্টারপোল গ্লোবাল কমপ্লেক্স ফর ইনোভেশন (আইজিসিআই), যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), আসিয়ানাপোল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ট্রেনিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামসহ (আইসিআইটিএপি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
 সম্মেলনে ‘ডির্যাকডিকালাইজেশন অব মিলিট্যান্টস-অ্যান অ্যাপ্রোচ ফর ডিজএনগেজমেন্ট অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন ইনটু সোসাইটি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জঙ্গিবাদ বিশেষজ্ঞ রোহান গুণারত্নে। তাঁর প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরভিত্তিক আইসিপিভিটিআর গত বছরের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানের হামলার ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। হামলাকারীদের সঙ্গে আইএসের যোগাযোগের বিষয়টিও তখনই নজরে আসে বলে জানান রোহান। রোহান গুণারত্নে বলেন, সন্ত্রাস দমনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলিষ্ঠভাবে সেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার প্রকাশ ঘটেছে। তবে হলি আর্টিজানে হামলা কারা করেছিল, তা নিয়ে তাঁর ভিন্নমত আছে। তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজানে যারা হামলা চালিয়েছিল, তারা জেএমবি নয়, তারা আইএস। এটি সেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ইসলামিক স্টেট বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ওই হামলা সম্পর্কে সত্য বলেননি।’
রোহান তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, বাংলাদেশে আইএসের উত্থান হয়েছে জেএমবি থেকে। কিন্তু জঙ্গিগোষ্ঠীটি আর নিজেদের জেএমবি বলছে না। গোষ্ঠীটি নিজেদের আইএস বলছে এবং সিরিয়া ও ইরাকের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের প্রভাবিত করেছে। আইএস তাদের প্রকাশনা ‘দাবিক’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত হামলাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই হামলাকারী দলটিকে জেএমবি বলা এবং তাদের ‘হোম গ্রোন’ বা দেশীয় বলা ভুল। যে গোষ্ঠীটি হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়েছে, তারাই ইতালি ও জাপানের নাগরিককে হত্যা করেছে। এই মতাদর্শের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির কোনো মিল নেই। এই মতাদর্শ বিদেশি। তারা হলি আর্টিজানে হামলার ধরন দিয়ে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে।
 সিঙ্গাপুরভিত্তিক এই গবেষণা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ হলো হলি আর্টিজানে হামলার তিনটি পর্ব ছিল। প্রথম পর্বে কিছু মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করা হয়, ঠিক যেভাবে পশুদের গাদাগাদি করে রাখা হয়। তারপর তাদের জবাই করা হয়। জিম্মিদশা শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে যায়। দ্বিতীয় পর্যায় ছিল প্রচারণার। এ সময় হামলাকারীরা এ দেশে যারা আইএসের সদস্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ও হত্যাকাণ্ডের ছবি পাঠায়। তৃতীয় পর্ব ছিল ‘শোডাউন’ পর্ব।
 রোহান গুণারত্নের বক্তব্যের পরপরই গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হলি আর্টিজানে আইএস হামলা চালিয়েছে বলে রোহান গুণারত্নে যে মন্তব্য করেছেন, তা তাঁর নিজস্ব মত। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের বক্তব্য হলো, হামলা চালিয়েছিল নব্য জেএমবির সদস্যরা। তারা ‘হোম গ্রোন’।
গত বছরের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারি এবং ও’কিচেন রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা হয়। জঙ্গিরা ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গেলে জঙ্গিদের বোমায় নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি ও রেস্তোরাঁর এক পাচক নিহত হন। হামলার রাতেই অনলাইনে নৃশংসতার ছবি প্রকাশ করে ঘটনার দায় স্বীকার করে আইএস। যদিও বাংলাদেশ সরকার তা নাকচ করে দেয়।
 তবে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ১২ জুন পর্যন্ত পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আইএস-সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগপত্রও দেয় আদালতে। ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর গুলশানে ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলাকে হত্যার পর প্রথম আইএসের নামে দায় স্বীকারের খবর বের হয়। তখন থেকেই সরকার ও পুলিশ এই দাবি নাকচ করে আসছে। বাংলাদেশ সরকার বলছে, বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’।
 পুনর্বাসনে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ
 বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে ভালো করলেও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন রোহান গুণারত্নে। তিনি বলেন, কারাগারগুলোতে ডির‍্যাডিকালাইজেশন বা জঙ্গি মতাদর্শ থেকে ফিরিয়ে আনার কাজটি করতে হবে।

Tuesday, January 31, 2017

মানসাংক পরাবাস্তব- সুমি খান

মানসাংক পরাবাস্তব
আত্মা  অতঃপর-
কালকেউটে হেলে সাপে
জগৎ পরাপর !
------------


বুড়িগঙ্গার ঢেউয়ের দাঁড়ি
   কোন সাগরে বিপদ গড়ি-
-----------------------
আলোর অভিযাত্রী তুমি
 দৃষ্টি দিগ্বিদিক-
কোন বাসনায় ভুলেছিলে
----------
 দহন দিনের কালো
সেই বেসেছি ভালো !!
--------

 জগৎ আমার নাহয় ডুবুক
তিন ভূবনের কালোয় !
তোমরা তবু ভালো থেকো-
চাঁদ জোছনা আলোয় !
৩১ জানুয়ারী , ২০১৭ সন্ধ্যা ৭৫আ ২৫ মিনিট , ঢাকা !











Women never fight for herself but for others only


Sunday, January 8, 2017

মা, তুমি কেমন আছ?- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মা, তুমি কেমন আছ? আমার পোষা বেড়াল খুনচু সে কেমন আছে? সে রাত্তিরে কার পাশে শোয়? দুপুরে যেন আলি সাহেবদের বাগানে না যায়। মা, ঝিঙে মাচায় ফুল এসেছে? তুলি কে আমার ডুরে শাড়িটা পর়তে বোলো। আঁচলের ফেঁসোটা যেন সেলাই করে নেয়। তুলি কে কত মেরেছি! আর কোনদিন মারবো না। আমি ভালো আছি। আমার জন্য চিন্তা কোরো না মা, তোমাদের ঘরের চালে নতুন খর দিয়েছো? এবারে বৃষ্টি হয়েছে খুব তরফদার বাবুদের পুকুরটা কি ভেসে গেছে? কালু-ভুলুরা মাছ পেয়েছে কিছু? একবার মেঘের ডাক শুনে কৈ মাছ উঠে এসেছিল ডাঙায় আমি আম গাছ তলায় দুটো কৈ মাছ ধরেছিলাম তোমার মনে আছে, মা? মনে আছে আলি সাহেবের বাগানের সেই নারকোল? চুরি করে আনিনি! মাটিতে পড়েছিল, কেউ দেখেনি নারকোল বড়ার সে স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে। আলি সাহেবের ভাই মিজান আমাকে খুব আদর করতো। বাবা একদিন দেখতে পেয়ে চেলা কাঠ দিয়ে পিটিয়েছিল আমাকে। আমার কি দোষ, কেউ আদর করলে আমি না বলতে পারি? আমার পিঠে এখনো সে দাগ আছে। আলি সাহেবদের বাগানে আর কোনদিন যাইনি। আমি আর কোনো বাগানেই যাই না সেই দাগটায় হাত বুলিয়ে বাবার কথা মনে পড়ে। বাবার জন্য আমার খুব কষ্ট হয় আমি ভালো আছি, খুব ভালো আছি বাবা যেনো আমার জন্য একটুও না ভাবে। তুলি কি এখনো ভুতের ভয় পায়, মা? তুলি আর আমি পুকুর ধারে কলাবউ দেখেছিলাম সেই থেকে তুলির ফিটের ব্যারাম শুরু হলো দাদা সেই কলা গাছটা কেটে ফেললো আমি কিন্তু ভয় পাই নি, তুলি কে কত খেপিয়েছি...... আমার আবার মাঝরাত্রে সেই কলা বউ দেখতে ইচ্ছে করে। হ্যাঁ, ভালো কথা, দাদা কোনো কাজ পেয়েছে? নকুলবাবু যে বলেছিল, বহরমপুরে নিয়ে যাবে দাদাকে বোলো আমি ওর উপরে রাগ করিনি রাগ পুষে রাখলে মানুষের বড় কষ্ট আমার শরীরে আর রাগ নেই, আমি আর এক ফোঁটাও কাঁদি না মা, আমি রোজ দোকানের খাবার খাই, পটল ভাজাও খাই হোটেলে কিন্তু কখনো শাক রান্না হয় না| পুকুর পাড় থেকে তুলি আর আমি তুলে আনতাম কলমি শাক কি ভালো, কি ভালো, বিনা পয়সায় কোনোদিন আর কলমি শাক আমার ভাগ্যে জুটবে না| জোর হাওয়া দিলে তাল গাছের পাতা শরশর করে ঠিক বৃষ্টির মত শব্দ হয়। এই ভাদ্দর মাসে তাল পাকে ডিব ডিব করে তাল পড়ে। বাড়ির তাল গাছ দুটো আছে তো? কালু তালের বড়া বড় ভালবাসে, একদিন বানিয়ে দিও তেলের খুব দাম জানি! তবু একদিন দিও আমাকে বিক্রি করে দিয়ে ছ- হাজার টাকা পেয়েছিলে তা দিয়ে একটা গরু কেনা হয়েছে তো? সেই গরুটা ভালো দুধ দেয়? আমার মতন মেয়ের চেয়ে গরুও অনেক ভালো গরুর দুধ বিক্রি করে সংসারের সুসার হয় গরুর বাছুর হয়, তাতেও কত আনন্দ হয়! বাড়িতে কন্যা সন্তান থাকলে কত জ্বালা! দু'বেলা ভাত দাও রে, শাড়ি দাও রে, বিয়ের জোগাড় করো রে- হাবলু, মিজান, শ্রীধর দের থাবা থেকে মেয়েকে বাঁচাও রে। আমি কি বুঝি না? সব বুঝি| কেন আমায় বিক্রি করে দিলে তাও তো বুঝি সে জন্যই তো আমার কোনো রাগ নেই, অভিমান নেই। আমি তো ভালোই আছি, খেয়ে পরে আছি। তোমরা ওই টাকায় বাড়ি ঘর সারিয়ে নিও ঠিকঠাক। কালু-ভুলু কে ইস্কুলে পাঠিও| তুলিকে ব্রজেন ডাক্তারের ওষুধ খাইও। তুমি একটা শাড়ি কিনো, বাবার জন্য একটা ধুতি দাদার একটা ঘড়ির সখ, তা কি ও টাকায় কুলোবে? আমি কিছু টাকা জমিয়েছি, সোনার দুল গড়িয়েছি। একদিন কি হলো জানো মা? আকাশে খুব মেঘ জমে ছিল, দিনের বেলায় ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। মনটা হঠাত কেমন কেমন করে উঠলো- দুপুরবেলা চুপি চুপি বেরিয়ে ট্রেনে চেপে বসলাম স্টেশনে নেমে দেখি একটা মাত্র সাইকেল রিক্শা! খুব ইচ্ছে হলো একবার বাড়িটা দেখে আসি। রথতলার মোড়ে আসতেই কারা যেন চেঁচিয়ে উঠলো- কে যায়? কে যায়? দেখি যে হাবুল-শ্রীধরদের সঙ্গে তাস খেলছে দাদা- আমাকে বললো, হারামজাদী, কেন ফিরে এসেছিস? আমি ভয় পেয়ে বললাম, ফিরে আসিনি গো, থাকতেও আসিনি একবার শুধু দেখতে এসেছি হাবুল বলল, এটা একটা বেবুশ্যে মাগী কী করে জানলো বলো তো তা কি আমার গায়ে লেখা আছে? আর একটা ছেলে, চিনি না, বললো, ছি ছি ছি, গাঁয়ের বদনাম! হাবুল রিকশাওয়ালা কে চোখ রাঙিয়ে বললো, ফিরে যা আমি বললাম, দাদা, আমি মায়ের জন্য ক’টা টাকা এনেছি আর তুলির জন্য... দাদা টেনে একটা চড় কষালো আমার গালে। আমাকে বিক্রির টাকা হকের টাকা আর আমার রোজগারের টাকা নোংরা টাকা দাদা সেই পাপের টাকা ছোঁবে না, ছিনিয়ে নিল শ্রীধর আমাকে ও দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল। আমি তবু দাদার ওপর রাগ করিনি দাদা তো ঠিকই করেছে, আমি তো আর দাদার বোন নই, তোমার মেয়ে নই, তুলির দিদি নই আমার টাকা নিলে তোমাদের সংসারের অকল্যাণ হবে না, না আমি চাই তোমরা সবাই ভালো থাকো গরুটা ভালো থাকুক, তালগাছ দুটো ভালো থাকুক পুকুরে মাছ হোক, ক্ষেতে ধান হোক, ঝিঙে মাচায় ফুল ফুটুক আর কোনোদিন ঐ গ্রাম অপবিত্র করতে যাবো না আমি খাট-বিছানায় শুই, নীল রঙের মশারি, দোরগোড়ায় পাপোশ আছে, দেওয়ালে মা দুর্গার ছবি আলমারি ভর্তি কাচের গেলাস। বনবন করে পাখা ঘোরে। সাবান মেখে রোজ চান করি এখানকার কুকুরগুলো সারা রাত ঘেউ ঘেউ করে তাহলেই বুঝছো, কেমন আরামে আছি আমি? আমি আর তোমার মেয়ে নই, তবু তুমি আমার মা তোমার আরও ছেলেমেয়ে আছে আমি আর মা পাবো কোথায়? সেইজন্যই তোমাকে চিঠি লিখছি, মা তোমার কাছে একটা খুব অনুরোধ আছে তুলিকে একটু যত্ন করো, ও বেচারি বড় দুর্বল। যতই অভাব হোক, তবু তুলিকে তোমরা... তোমার পায়ে পড়ি মা, তুমি বাবাকে বুঝিয়ে বলো, তুলিকেও যেন আমার মতন 'আরামের জীবনে' না পাঠায় যেমন করে হোক, তুলির একটা বিয়ে দিও| ওর একটা নিজস্ব ঘর সংসার, একজন নিজের মানুষ। আর যদি কোনোরকমই ওর বিয়ে দিতে না পারো? ওকে বলো গলায় দড়ি দিয়ে মরতে মরলে ও বেঁচে যাবে......

যা বুঝি সব ভুল বুঝি হে, যা খুঁজি সব ভুল খুঁজি হে-স্বাগতালক্ষী দাশগুপ্ত

দাও হে আমার ভয় ভেঙে দাও।
আমার দিকে ও মুখ ফিরাও ।
কাছ থেকে চিনতে নারি, কোন্‌ দিকে যে কী নেহারি,
তুমি আমার হৃদ্‌বিহারী হৃদয়-পানে হাসিয়া চাও।
 বলো আমায় বলো কথা, গায়ে আমার পরশ করো।
দক্ষিণ হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমায় তুমি তুলে ধরো।
 যা বুঝি সব ভুল বুজি হে, যা খুঁজি সব ভুল খুঁজি হে-
হাসি মিছে, কান্না মিছে-সামনে এসে এ ভুল ঘুচাও।-

 ।

Tuesday, December 27, 2016

বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল ভারতে ব্রাত্য কেন? - অমিত গোস্বামী



গত শতাব্দীর আশির দশকের শেষ দিক। তখন টেলিভিশন দেখার জন্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব বাড়িতে ছাদের ওপরে অ্যালমুনিয়ামের দু’টি অ্যান্টেনা শোভা পেত। একটা ভারতের সরকারী চ্যানেলের জন্যে। অন্যটা বি’টিভি অর্থাৎ বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্যে। যে কোন বাড়ি সন্ধ্যের পরে বাংলাদেশ। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বাকের ভাই অর্থাৎ বর্তমান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর। ভারতের দূরদর্শন তখন দূয়োরানি। বি’টিভির বিজ্ঞাপনের জোরে বাজারে বিকোচ্ছে বাংলাদেশি সাবান, গুঁড়ো দুধ, কনডেন্সড মিল্ক, পেস্ট। চোরা পথে আসছে সব। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এরশাদ বি’টিভির প্রচারে তখন রীতিমত হিরো। বাংলাদেশের টিভি নাটকের জনপ্রিয়তায় ঢাকা পড়ে গেছে কলকাতায় তৈরী বাংলা সিনেমা। উপায় না দেখে কলকাতা দূরদর্শন শনিবারে চালিয়ে যাচ্ছে উত্তম, সুচিত্রা, সুপ্রিয়া, সৌমিত্র। তা সত্ত্বেও বোকাবাক্স শাসন করে যাচ্ছে পদ্মাপারের রাজ্জাক, ববিতা। এ এক অদ্ভুত বাংলাদেশি রাজত্ব বিরাজ করছে টেলিভিশনে। তীব্র আকর্ষনে সন্ধ্যে হলেই খুলছে টিভি নামক চৌখুপি বাক্স আর বাজছে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’।

কিন্তু ১৯৯০ সালে ভারতের বাজারে এল কেবল চ্যানেল মাত্র চারটে প্রাইভেট চ্যানেল নিয়ে। তার একটি বিবিসি নিউজ। সেই সময় থেকে বি’টিভির পিছু হটা শুরু। আরেকটা ফ্যাক্টর অবশ্যই কাজ করেছিল। স্বৈরতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশে তীব্র হতেই পেশাদারীত্বের উতকর্ষ ছেড়ে বি’টিভি হয়ে গেল কর্তাভজা লাউডস্পীকার। মুখ ফেরাতে শুরু করল ভারতীয় বাঙালি দর্শক। মুছে গেল বাংলাদেশ আমাদের টেলিভিশন সেট থেকে। বিদেশী টেলিভিশন চ্যানেলের সাথে প্রতিযোগিতায় লড়তে শুরু করল ভারতীয় চ্যানেলগুলি। তখন বিদেশী চ্যানেলগুলির সম্প্রচার হত সিঙ্গাপুর বা হংকং থেকে। কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়ার কারনে। ভারতীয় চ্যানেলগুলি প্রতিযোগিতার চাপে সেই প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার জন্যে নিজেদের অফিস করে নিল সিঙ্গাপুরে।



অর্থাৎ দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গেল ভারতীয় চ্যানেলগুলি এবং জনপ্রিয়তার হিসেবে পিছনে ফেলে দিল বিদেশী চ্যানেলদের। কিন্তু তখন কোথায় বাংলাদেশের টেলিভিশন শিল্প? তারা এই আকাশলড়াই থেকে নিজেদের দূরে রেখে মন দিল ভারতীয় চ্যানেলের অনুকরনে। কিন্তু দুধ যদি পাওয়া যায় মানুষ ঘোল খাবে কেন? বাজার অর্থনীতির নিয়ম মেনে সুযোগ পেতেই বাংলাদেশের টিভি বাজারের দখল নিল ভারতের চ্যানেলগুলি। আজ বাস্তব এই যে বাংলাদেশে ভারতের কমপক্ষে ৪২টি টিভি চ্যানেল দেখানো হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ তথা অবশিষ্ট ভারতে বাংলাদেশের প্রায় ৩০টি চ্যানেলের মধ্যে অনিয়মিতভাবে দুই একটি দেখা যায়। প্রশ্ন ওঠে এই পরিস্থিতি কেন? সম্প্রতি একটী জরিপের রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ বাংলাদেশে টেলিভিশন দেখেন এমন নারীদের ৬৬ শতাংশের বেশি অধিকাংশ সময় ভারতীয় টিভি চ্যানেল দেখেন। চ্যানেলগুলোর শীর্ষে রয়েছে স্টার জলসা। বাংলাদেশের ৫৮ শতাংশ নারী দর্শক নিয়মিত এই চ্যানেলটি দেখেন।“ জরিপটি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ।

 সিনেমা, টেলিভিশন বা বিনোদন জগতে আদর্শ খুব বেশি একটা কাজ করে না। এখন পৃথিবীর বিভিন্ন চ্যানেল আপনার হাতের মুঠোয়। আপনি আপনার রিমোট কন্ট্রোল চাপতে থাকুন। বাংলাদেশে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইন্ডিয়া প্রভৃতি দেশের ভালো ভালো চ্যানেল দেখতে পাবেন। সুতরাং ইন্ডিয়ার ওই চ্যানেলটি দেখব না, এসব কথা বলে এখন আর পার পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের অনেকের ধারনা, যেখানে আজ ভারত সারা বিশ্বের দর্শকদের তাদের চলচ্চিত্র, হিন্দি সিরিয়াল, নাটক, গান, নাচ দিয়ে মাতিয়ে তুলছে সেখানে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব হয়তো বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে তাদের দেশে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। কিন্তু ধারনাটা সম্পূর্ণ ভুল। বাংলাদেশে ভারতের টিভি চ্যানেলের প্রচার নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন বা আবেদন করা হয়েছে অনেকবার। কিন্তু বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার না হওয়ার পিছনে আসল কারনটা কি?


ভারতে বিদেশী টিভি চ্যানেল দেখাতে হলে কিছু নিয়ম নীতি পালন করতে হয়। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান ভারতে দেখানোর ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো আইনি বাধা নেই। ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে যে কেউ ভারতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল ডাউনলিংক করতে পারবে”।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “ভারতীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও ভারতে কোনো বাংলাদেশি চ্যানেল ডাউনলিংকের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। কোনো কোম্পানি যদি বাংলাদেশি চ্যানেল ডাউনলিংক করতে চায়, তাহলে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নীতিমালা অনুযায়ী সর্বতোভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল ভারতে ডাউনলিংকের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেনি”।



তবে আবেদনকারী কোম্পানিকে প্রথম টেলিভিশন চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য ৫ কোটি ভারতীয় টাকা এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি অতিরিক্ত চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ ভারতীয় টাকা নেট মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এই মূল্য ছাড়াও ডাউনলিংকের অনুমতি মঞ্জুরের সময় ১০ লাখ ভারতীয় টাকা ফি দিতে হবে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আপলিংক করা প্রতিটি চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য বার্ষিক ফি হিসেবে ১৫ লাখ ভারতীয় টাকা দিতে হবে। ডাউনলিংকের নিবন্ধন ও অনুমতি ১০ বছর বহাল থাকবে। এটা করতে পারলে মাল্টি সিসটেম অপারেটররাও (এমএসও) সেই চ্যানেল বিপণনের ব্যবস্থা করতে পারবে। কিন্তু বিদেশি টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ডাউনলিংক ফি বেশি হওয়ায় ভারতীয় কেবল অপারেটররা আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। 

 ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের বেসরকারি চ্যানেল চালাতে আগ্রহী এখানকার চ্যানেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো। কলকাতাসহ রাজ্যের বাঙালি দর্শকদের মধ্যে বাংলাদেশি চ্যানেল প্রদর্শনের জন্য নিয়মিত দর্শকদের কাছ থেকে চাপ সহ্য করতে হচ্ছে বিপণনকারীদের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল আইনগতভাবে ভারতে ডাউন লিঙ্কের অনুমোদন নিয়ে না আসায় দর্শকদের কাছে বাংলাদেশের চ্যানেল পৌঁছে দিতে পারছে না বিপননকারী সংস্থাগুলো। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি চ্যানেলের মালিক আমাকে একান্ত আড্ডায় বলেছেন, “বাংলাদেশের মাত্র ২০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের বাজারে দেশীয় চ্যানেলগুলো চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর যদি ভারতে সম্প্রচারের জন্য বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয় তাহলে বিপদে পড়তে হবে।“


এতক্ষনে আসল সমস্যা বোঝা গেল। প্রথম ডাউনলিংকের জন্য ৫ কোটি ভারতীয় টাকা, সাথে ডাউনলিংকের অনুমতি মঞ্জুরের সময় ১০ লাখ ভারতীয় টাকা এবং ডাউনলিংকের জন্য বার্ষিক ফি হিসেবে ১৫ লাখ ভারতীয় টাকা প্রতি চ্যানেলকে দিতে হবে। এখানে একটা কথা অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার। ইংরেজি বা হিন্দি চ্যানেলের প্রসার সর্বভারতীয়। কিন্তু বাংলা চ্যানেলের প্রচার শুধু বাংলাভাষীদের মধ্যে। কাজেই সারা ভারতে প্রচারিত বিদেশী চ্যানেলদের সাথে বাংলাদেশের চ্যানেলদের একই রকম অর্থ জমা দেওয়ার ফরমানে তাদের ইচ্ছে বা উৎসাহ আজ অবধি তৈরী হয় নি। 


 তাহলে বাংলাদেশে যে ভারতীয় চ্যানেলগুলি প্রচারিত হচ্ছে সে জন্যে তাদের বাংলাদেশ সরকারকে কি দিতে হচ্ছে? কেবল নেটওয়ার্ক অ্যাসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা কোয়াব সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের প্রায় অর্ধশত চ্যানেল প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু এর বিনিময়ে তারা খুবই কম অর্থ দিচ্ছে। ভারতীয় চ্যানেল মাত্র তিন লাখ টাকার টোকেন মানি দিয়ে বাংলাদেশে চালু করা যায়। আরো একটা কথা, বেশিরভাগ ভারতীয় চ্যানেল 'ফ্রি টু এয়ার' (বিনামূল্যের) হওয়ায় সব চ্যানেল সম্প্রচার করা অত্যন্ত সুবিধাজনক। 


 বুঝলাম। কিন্তু এ তো অন্যায়। কোথায় ৫ কোটিরও বেশি আর কোথায় ৩ লক্ষ ! কেবল অপারেটররা ব্যবসায়ী। তারা তাদের সুবিধা দেখবেন। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান একমাত্র করতে পারেন দুই দেশের সরকার। কিন্তু তার আগে জানিয়ে রাখি যে বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরে প্রায় ৪৪ বছর পরে প্রথম বাস্তবসম্মত সম্প্রচার নীতিমালা এতদিনে তৈরী হয়েছে। কিন্তু এখনো সম্প্রচার আইন তৈরী হয় নি। কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশের সময় এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু হয় নি। এটা অবশ্যই বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা। কারণ তিস্তার স্রোত বাংলাদেশের জন্যে যতটা জরুরী, বাংলাদেশের চ্যানেন তেমনই ভারতে আসা জরুরী। না হলে যেটা হবে সেটা হল সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। দিবে আর নিবে মিলাবে মিলিবে যাবে না ফিরে – সেটা আর হবে না।


 বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অনেক কাজ করছেন যা বাস্তবোচিত ও ভবিষ্যতের জন্যে ভাল ফল আনতে বাধ্য। কাজেই তাদের কাছে এই প্রত্যাশা করা যেতেই পারে এই সমস্যা সমাধানে তারা উদ্যোগী হবে। কিন্তু বাংলাদেশের চ্যানেলদের পশ্চিমবঙ্গে গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু?



ভারতের অন্যতম বৃহত্তম চ্যানেল বিপণনকারী সংস্থা মন্থন'র পরিচালক শিবশঙ্কর চক্রবর্তীর মতে, বাংলাদেশে যেহেতু অধিকাংশ পশ্চিমবঙ্গবাসীর পূর্বপুরুষের ভিটা এবং একই সংস্কৃতি, ভাষা এবং খাদ্যাভ্যাসের ফলে এখানে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো সম্প্রচারে আসলে দর্শকদের যেমন বাংলাদেশি চ্যানেল দেখার সুযোগ হবে তেমনই চ্যানেলগুলোও ব্যবসা করতে পারবে। জিটিপিএল নামে আর একটি বৃহত্তম চ্যানেল বিপণনকারী সংস্থার পরিচালক সুষেন বলেন, "প্রতিদিন কয়েক শ ফোন আসে। সবারই দাবি, অন্য বিদেশি চ্যানেল দেখা গেলে কেন বাংলাদেশের খবর-নাটক-ছবি কোনো চ্যানেলে দেখানো যাচ্ছে না। এর জবাব আসলে আমরা দিতে পারি না।" ভারতের জি-গ্রুপের বিপণনকারী সংস্থার সিটি কেবলের পরিচালক সুরেশ শেঠিয়া মনে করেন যেহেতু বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল এখানে দেখানো হয় না তাই যারাই আগে এ উদ্যোগ নিয়ে আসবে তারা অবশ্যই ব্যবসা করতে পারবে। 

 বাংলাদেশের চ্যানেলগুলি ভারতে এলে আরেকটি লাভ হবে। ব্যাপারটা একটু খুলে বলি। বাংলাদেশের কোম্পানি প্রাণ গ্রুপ কলকাতার নাগেরবাজারের কাছে একটি অফিস নিয়ে ভারতে ব্যবসা জগতে তাদের উপস্থিতির ক্ষীন স্বাক্ষর রেখেছেন। তারা জি টিভির কয়েকটি খুব জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের তারা মূল স্পনসর। কোটি কোটি টাকা ঢেলেছেন। অবশ্যই ভারতীয় কোম্পানি হিসেবে। উদ্দেশ্য বাংলাদেশে যাতে তাদের প্রোডাক্টের ব্যাপক প্রচার হয়। হয়েছেও। তার সাথে উপরি লাভ হয়েছে এই যে প্রাণ গ্রুপের প্রোডাক্টের জনপ্রিয়তা পশ্চিমবঙ্গে এতটাই বেড়ে গেছে যে তাদের সেই দাবি মেটানোর ক্ষমতা নেই। একই ভাবে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলির আগমনে বেশ কিছু ভারতীয় কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা শুরু করবে। এই যে পারস্পরিক ব্যবসায়িক পরিযান বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বলবান করে তুলবে। 


 ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় জীবদ্দশায় বলেছিলেন, ’এটা অনুচিত। মানা যায় না। আমরাতো পৃথিবীর অন্যান্য দেশের টিভি চ্যানেলগুলো দেখতে পাই, তবে বাধা কেন বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের ওপর?'


কবি শঙ্খ ঘোষ বললেন, ’বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু। পাকিস্তানি চ্যানেল দেখা যায়, অথচ বাংলাদেশের চ্যানেল দেখতে পারি না। এটা কী করে হয়!’


অর্থাৎ এদেশের সুশীল সমাজ বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তবে আরেকটি কথা বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ খেয়ে নেয় বিজ্ঞাপন। সেই প্রেক্ষিতে ব্রিটেন ও ভারতে এই বিজ্ঞাপনের ভাগ ১১ শতাংশ। কাজেই বাংলাদেশের চ্যানেলগুলিকেও আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে গেলে সাবালক হতেই হবে। কিন্তু শেষ অবধি বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার কতটুকু গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করেন সেটাই দেখার। না হলে বাংলা সংস্কৃতি যে অবাঙালি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হবে তা বলাই বাহুল্য।