Friday, October 26, 2012

সঠিকভাবে গরু বা ছাগলের চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে- ত্রুটি থাকলে সেই চামড়ার মূল্য থাকে না


এই ঈদে পশু কোরবানির পর মূলত চামড়াটি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তবে সময়মতো বিক্রি করা না গেলে সঠিকভাবে গরু বা ছাগলের চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে।কেননা, ত্রুটি থাকলে সেই চামড়ার মূল্য থাকে না।বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম আনসারী বলেন, চামড়ার দাম অনেকটাই চামড়ার মানের ওপর নির্ভর করে। চামড়া ছাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণে অবহেলা করলে মান নষ্ট হতে পারে।
পশু কোরবানির পর জরুরি কাজ পশুর চামড়া সংরক্ষণ। চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজির (প্রস্তাবিত) প্রভাষক আবদুল্লাহ-আল-মাহমুদ।
 প্রথমেই চামড়াটি ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এমনভাবে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে চামড়ায় কোনো ধরনের ময়লা, রক্ত, চর্বি বা মাংস লেগে না থাকে। এভাবে পরিষ্কার করার পর চামড়া সংরক্ষণের উপযোগী হয়।
 কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানোর সাত-আট ঘণ্টার মধ্যে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে আবহাওয়া বেশি শুষ্ক ও গরম হলে তিন-চার ঘণ্টার মধ্যেই চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে।
 চামড়া সাধারণত লবণ-পদ্ধতি, রোদে শুকানো পদ্ধতি ও হিমাগার-পদ্ধতি—তিনভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
 লবণ-পদ্ধতিতে চামড়ার মাংসল পিঠে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এ জন্য মাংসল পিঠে চামড়ার ওজনের ৪০ শতাংশ লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা যাবে। লবণ লাগিয়ে প্রায় এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। লবণ লাগানোর পর দেখতে হবে, পুরো চামড়ায় পরিপূর্ণভাবে লবণ লেগেছে কি না। কারণ, লবণ ঠিকমতো না লাগলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
 রোদে শুকিয়েও চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। পুরো চামড়াটি কাঠের বা বাঁশের কোনো ফ্রেমের ওপর রেখে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করতে হয়। তবে রোদে শুকিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করলে চামড়ার গুণাগুণ কিছুটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
 চামড়া যেকোনো শুকনো ও আলোযুক্ত ঘরে সংরক্ষণ করতে হবে। ঘরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে হলে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যায়।
 কোনো বদ্ধ ঘরে চামড়া রাখলে সেখানে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ দূর করতে বৈদ্যুতিক ফ্যানের বাতাস দিতে হবে।
 সাধারণত একসঙ্গে অনেক চামড়া সংরক্ষণ করতে হিমাগার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। হিমাগারে মূলত ব্যবসায়ীরা চামড়া সংরক্ষণ করে থাকেন। তবে আমাদের দেশে সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ উপায় হলো লবণ-পদ্ধতি।

কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুন্দর রাখতে কিছু পরামর্শ


পশু কেনা আর যত্ন-আত্তিতে ব্যস্ত সময় পার করেছন অনেকে। কারণ, কদিন বাদেই ঈদ। কিন্তু পশু কোরবানিতে পরিকল্পনার অভাব আর কোরবানির বর্জ্যে অব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ দূষিত হতে পারে। তাতে ফিকে হবে আপনার ঈদের আনন্দ। আর কোরবানির বর্জ্য দূষিত হয়ে তা থেকে ছড়াতে পারে রোগবালাই। তবে একটু সময় নিয়ে আর কিছু নিয়ম মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করলেই এসব সমস্যা এড়ানো যাবে। এ নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা সিটি উত্তর করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বিপন কুমার সাহা। তিনি বলেন, সামান্য অসচেতনতায় একজনের কারণে অনেকের কষ্ট হতে পারে। অথচ একটু খেয়াল রাখলে সমস্যা এড়ানো সম্ভব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আর পরিবেশ সুন্দর রাখতে তাঁর কিছু পরামর্শ দেখুন।
 কোনো এলাকার লোকজন বিচ্ছিন্ন স্থানে কোরবানি না দিয়ে বেশ কয়েকজন মিলে একস্থানে কোরবানি করা ভালো। যেমন, মিরপুরের কোনো এলাকার কয়েকটি পরিবার মিলে একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে কোরবানি দিতে পারেন। এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাজ করতে সুবিধা হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কোরবানির জায়গাটি যেন খোলামেলা হয়। আর জায়গাটি রাস্তার কাছাকাটি হলে বর্জ্যের গাড়ি পৌঁছাতে সহজ হবে।
 কোরবানির পর পশুর রক্ত ও তরল বর্জ্য খোলা স্থানে রাখা যাবে না। এগুলো গর্তের ভেতরে পুঁতে মাটিচাপা দিতে হবে। কারণ, রক্ত আর নাড়িভুঁড়ি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। আর যদি রক্ত মাটি থেকে সরানো সম্ভব না হয়, তা হলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
 এবার সিটি করপোরেশনের হাটগুলোয় প্রত্যেক ক্রেতাকে কোরবানির শক্ত বর্জ্য রাখার জন্য একটি বিশেষ পলিথিন দেওয়া হবে। মূলত ঈদের দিন বিকেল থেকেই কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট ও অব্যবহূত বর্জ্য সংগ্রহ কাজ শুরু হবে।
কোরবানির বর্জ্য পলিথিনে করে রেখে দিতে হবে, যাতে ময়লা পরিবহন দ্রুততার সঙ্গে করা যায়। যাঁরা পলিথিন পাবেন না, তাঁরা এ রকম পলিথিন কিনে ময়লা রাখতে পারেন।
 যেসব এলাকায় গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয় বা দেরি হবে, সেসব স্থানে বর্জ্য এ পলিথিনের ব্যাগে ভরে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। পশুর হাড়সহ শক্ত বর্জ্যগুলোও পলিথিনে দিয়ে দেওয়া ভালো।
 নাড়িভুঁড়ি বা এ জাতীয় বর্জ্য কোনোভাবেই পয়োনিষ্কাশন নালায় ফেলা যাবে না।
 যাঁরা চামড়া কিনবেন, তাঁরা কোনো বদ্ধ পরিবেশে চামড়া পরিষ্কার না করে এমন খোলামেলা স্থানে করতে পারেন, যেখানে ময়লা জমে দুর্গন্ধ হবে না। আর চামড়ার বর্জ্যগুলোও অপসারণের জন্য জমিয়ে রাখতে হবে।
কোরবানির পশুর বর্জ্য নিজের উদ্যোগে পরিষ্কার করাই ভালো।

অতিরিক্ত ভাড়া ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশ যোগাযোগমন্ত্রীর


গাবতলী, ঢাকা : যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ভাড়া ফেরৎ দেওয়ার জন্য বাস মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘‘যদি ভাড়া ফেরৎ না দেওয়া হয় তাহলে ‍তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীতে এদের সাথে নিয়ে কোনো কাজ করা হবেনা ।

রাজধানীর গাবতলীর পশুরহাট পরিদর্শনে এসে যোগাযোগমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘‘যানজট পরিস্থিতি নিয়ে আমি সন্তষ্ট নই। বিশ বছরের জঞ্জাল সরাতে একটু সময় লাগবে।’’

যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘‘চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দখলবাজ এসব লোকদের গলায় গলায় ভাব। এরা বিভ্ন্নি দল করে রাজনৈতিক ময়দানে একে অন্যের বিরুদ্ধে কথা বলে। কিন্তু চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে আসলে এদের গলায় গলায় ভাব। কোরবানি আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। এই ত্যাগের মধ্যে পশুর মনোবৃত্তি থাকবে কেন।’’

যোগাযোগমন্ত্রী ঝটিকা সফরে গাবতলী আসলে বেশ কয়েকজন যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন। এ সময় বাড়তি ভাড়া নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আন্তরিকভাবে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। রাতারাতি কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো কেটে যাবে।’’

টার্মিনাল ও যানজট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সন্তষ্ট কিনা এ পশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমি সন্তষ্ট নই। তবে আগের চেয়ে কিছুটা ‍অগ্রগতি হয়েছে।

যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় যানজট খুব একটা নেই বললেই চলে। আমি খবর নিয়েছি। একই সাথে রাস্তায় কোনো পশুর হাট নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ড্রাইভার এবং যাত্রীদের সতর্কভাবে চলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ড্রাইভার এবং যাত্রী উভয়েই বেপরোয়া। সবাই পড়িমরি করে বাড়ি ছুটছে । যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে।’’

এসব থেকে সাবধান হওয়ার জন্য সকলকে আহবান জানান তিনি। বাংলানিউজ

সবাইকে নিয়ে পরিমিত খান- ডা. শুভাগত চৌধুরী



অক্টোবর ২৫, ২০১২
আর দু’দিন বাদেই (২৭ অক্টোবর) মুসলমানদের পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। উৎসবের সময় খাওয়াটা একটু বেশি হবেই। কোরবানির উৎসবের সময় মাংস বেশি খাওয়া হয়। বিশেষ করে চর্বিওয়ালা গোশত। একে বারণ করা যাবে না। কারণ এটা উৎসবের অংশ। তবে আমার মতে, আজকাল মানুষ আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়েছেন। তাই পরিমিত ও সীমিত খাওয়ার দিকেই ঝুঁকছেন।

স্বাভাবিকভাবে যদি খান, সমস্যা নেই। মানে, গোশতটা একটু কম খান। পরিমাণে কম। তাহলে ক্যালোরি-ইনটেক একটু কম হল। দু’টুকরোর জায়গায় এক টুকরো। ব্যস, তাহলেই চলবে। যদি রয়ে-সয়ে খান, শেয়ার করেন, তাহলে ভয় নেই। বাইরে রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে কী করেন? প্লেটে যা ছিল তার পুরোটা খান না, বাসায় নিয়ে যান, পরে খান বা বাসার অন্যরা সেটা খায়- সে রকমভাবে যদি পুরোটা দিলেই খেয়ে ফেলব–এই মানসিকতা না থাকে তাহলে সমস্যা হবে না।

খাওয়াটা উপভোগ করুন কিন্তু কম খান। অল্প-অল্প করে বারবার খান। স্বাভাবিকভাবে যা খান ততটুকুই। একেবারে বুভুক্ষুর মতো না। প্লেটে দিলেই খেতে হবে তা নয়।

ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন। খাসির চর্বিটা যেমন খুব ক্ষতিকর। এটা ঈদের সময় খেলে পরের এক মাস আর খেলেন না। এটাও একটা কৌশল হতে পারে।

আরেকটা কৌশল হল পরিমাণে কম খাওয়া। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে খুব গুরুত্বপূর্ণ হল ‘পোরশন সাইজ।’ এটা কমানো দরকার।

যে জিনিসটা একা খেতেন সেটা বাসার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে খান। তাহলে আপনার খাওয়ার পরিমাণটা একটু কমল।

কেউ কেউ তিন-চারদিন একটানা মাংস খেতে থাকেন। এটাই ক্ষতিকর। আমি বলব, প্রথমদিনের পর আর মাংস না খেতে। এরপর সবজি বা মাছ খাওয়া যেতে পারে। তাতে শরীরের উপকার। প্রোটিন খেতে চাইলে চিকেনের ব্রোস্ট খান। তাতে ক্যালোরি-ইনটেক কম হবে। চর্বি কম খাওয়া হবে।

ধর্মীয় বিধানেও তো বলা হয়েছে, মাংস বণ্টন করে দিতে। তাই যত বেশি পারা যায়, গরীবদের মধ্যে মাংস বিলিয়ে দিলে ধর্মের নিয়ম মানা হল। ওদিকে শরীরও বেশি-বেশি রেডমিট খাওয়ার ঝুঁকি থেকে বেঁচে গেল।

উৎসবের দিন খান। অল্প করে। ধর্মরক্ষা হল, উৎসব উদযাপনও হল। প্রতিদিন টানা মাংস খাওয়া, মাংস ফ্রিজভর্তি রেখে দিয়ে প্রতিদিন বা মাসের পর মাস খাবেন- এর তো কোনও ধর্মীয় যুক্তি নেই। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তো বটেই।

রান্নার প্রস্তুতিতেও একটা সাবধানতা দরকার। বেশি করে মসলা দিয়ে কষিয়ে তেল-চর্বি সহযোগে রান্না উপাদেয় হবে, স্বাস্থ্যকর নয়। তার বদলে গ্রিল করে মাংস খাওয়া যেতে পারে। তাতে চর্বিটা মাংস থেকে সরে যাবে। গ্রিলে চর্বি মাংস থেকে ছেঁকে বের করে দেওয়া হয়। তবে সেটাও পরিমিত। কারণ চর্বি-ছাড়া রেডমিটও তো ক্ষতিকর।

রোগীদের বেলায়ও একই পথ। পরিমিত খাওয়া। শুধু একটুখানি টেস্ট করা। যাদের ডায়াবেটিস আছে, কিডনি ফেইলিওরের রোগী বা প্রেশার যাদের উচ্চ তাদের জন্য রেডমিট বা চর্বিওয়ালা মাংস খুব ক্ষতিকর। কিডনি ফেইলিওরের রোগীদের তো নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন খেতে হয়। এর বেশি খাওয়া বারণ। ওরা কেবল স্বাদ নেয়ার জন্য খেতে পারেন।

আরও ভালো হয়, ডায়াবেটিস বা কিডনি স্পেশালিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া। তাহলে যারা মাংস খেতে উৎসাহ দেবেন, তারা অন্তত ডাক্তারের পরামর্শ শুনে আর কিছু বলবেন না।

আজকাল আমরা বলছি, শুধু নিজেরা স্বাস্থ্যসচেতন হলে চলবে না, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বানাবেন। যার হার্ট ডিজিজ হয়েছে বা ডায়াবেটিস আছে তিনি যেমন ঝুঁকিপূর্ণ- যার এখন এমন কোনও রোগ নেই তার যে কোনওদিন এটা হবে না তা তো বলা যায় না। তাই সাবধান থাকতে হবে পরিবারের সবাইকেই। বেশি-বেশি চর্বি বা ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেয়ে অন্যরা কেন বিপদ ডেকে আনবেন?

সবাই মিলে সহযোগিতার মাধ্যমে এটা করা সম্ভব।

মানতে হবে, আজকাল সব বয়সের সব মানুষের হার্টের অসুখ হচ্ছে। এবারকার হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য তাই ছিল নারী ও শিশুদের হার্টের অসুখ সম্পর্কে সচেতন করা। আগে মনে করা হত, হার্টের অসুখ মূলত পুরুষদের অসুখ। এবং অবশ্যই পরিপূর্ণ বয়সী পুরুষদের। আজকাল উন্নত এমনকী উন্নয়শীল বিশ্বের দেশগুলোতেও যে-হারে নারী ও শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

যেহেতু উন্নয়নশীল বিশ্বের নারীরা এখন বেশি হারে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাই তাদের খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতার প্রয়োজন আছে।

নারীদের বেলায় একটা বিষয় হল তারা পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য নিয়ে উৎকণ্ঠিত বা সচেতন হলেও, নিজেদের স্থাস্থ্য নিয়ে তেমন ভাবেন না। ফলে রোগটা গোপনে রয়ে যায়। নারীদের বেলায় লক্ষ্মণগুলোও একটু অন্যরকম। অনেকের দেখা যায় বদহজম হয়। ব্যথা হয় চোয়ালে বা থুতনিতে। মাথা ঝিমঝিম করা বা দুর্বল লাগাটাও অনেকের থাকে।

দেখা যায় ডাক্তাররা বদহজম হলে তার অষুধ দিয়ে দিচ্ছেন। অথচ রোগীর হয়তো ততদিনে ম্যাসিভ বা ইনফেকশন কিছু একটা হয়ে গেছে। সমস্যাটা হচ্ছে ডাক্তাররাও মনে করেন মেয়েদের হার্টের অসুখ হয় না। বিশেষ করে ঋতুমতী নারীদের হার্টের অসুখ কম হয়। ফলে তাদের বেলায় ডাক্তাররা এই ভুলটা করে ফেলেন।

আর এখন তো আমাদের জীবনযাপনের কৌশল, রীতিনীতি বদলে যাচ্ছে। আমরা ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেশি খাচ্ছি। বাইরের খাবারের দিকে মনোযোগ বাড়ছে। কাজ করছি অফিসে বসে। ডেস্কে। ব্যায়াম, শরীরচর্চা বা শরীরের কোনও নড়াচড়া নেই। হাঁটাহাটি হয় না। এ সব কারণে বড়দের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক।

ছোটরাও একই কারণে নিরাপদ নয়। ওরা এখন কেবল স্কুল আর কোচিংয়ে দৌড়ায়। বাসার খাবারের চেয়ে বাইরের খাবারের দিকে ঝোঁক বেশি। ফাস্টফুডের ভক্ত হয়ে উঠছে। খেলার জায়গা পায় না ওরা। সারাদিন হয় পড়াশুনা নয়তো সোফায় আধাশোয়া হয়ে টিভি দেখা, কম্পিউটারের সামনে বসে গেম খেলা বা ডিভিডিতে গান শোনা, ছবি দেখা– এই প্রজন্মের শিশুরা বড় হচ্ছে খুব ঝুঁকির মধ্যে।

‘অল ওয়ার্ক অ্যান্ড নো প্লে মেকস জ্যাক আ ডাল বয়’– কথাটা একটু ঘুরিয়ে বললে এটাই যে, শহরের লাইফস্টাইল শিশুদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে।

আজকাল টাইপ-টু ডায়াবেটিসটা তরুণদের খুব বেশি হচ্ছে। আগে এটাকে ভাবা হত বয়স্কদের রোগ। এটি ‘লাইফস্টাইল ডায়াবেটিস।’ ওই একই কারণ। লাইফস্টাইল বদলে যাওয়া। শুয়ে-বসে থাকা, অলস জীবনযাপন।

টাইপ টু ডায়াবেটিস কিন্তু আবার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফাস্টফুড কম খাওয়া, ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটিস বাড়ানো, চিনি ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, শাকসবজি-ফলমূল খাওয়া বাড়ানো, সক্রিয় জীবনযাপন– এ সবই হল সমাধান।

নগরায়ন বাড়ছে। বাড়ছে আয়ু। তাই অসুখ-বিসুখেরও প্রতাপ বেশি। এ সবই তো নন-ক্রনিক ডিজিজ। মানে, কোনওটিই ছোঁয়াচে নয়। সবই লাইফস্টাইল ডিজিজ।

তাই সাবধানতাও বেশি দরকার। কখনও-ই লাগাম ছাড়া যাবে না। এই ঈদেও না। উৎসব করুন। উৎসবেরর আনন্দটা পুরোদমে নিন। ধর্মের রীতি মেনে চলুন। নিজে খান পরিমিত। সবাইকে বলুন পরিমিত খেতে। আর শেয়ার করুন। খাবার এবং আনন্দ দুটোই।

সুস্থ থাকুন এই ঈদে। সব ঈদেই। বিডিনিউজ
ডা. শুভাগত চৌধুরী:চিকিৎসক, অধ্যাপক ও লেখক।

Thursday, October 25, 2012

সুনীল মারা গেছেন শুনে আমি মর্মাহত, আমরা দু'জনেই নাস্তিক এবং দৃঢ়ভাবে বাকস্বাধীনতার পক্ষে-তসলিমা নাসরিন


সুনীলের সঙ্গে আমার অনেক মিল ছিল: তসলিমা


Thu, Oct 25th, 2012 6:57 pm BdST

ঢাকা, অক্টোবর ২৫ - এতো তাড়াতাড়ি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় চলে যাবেন তা কখনোই ভাবতে পারেননি তার এক সময়ের বন্ধু বাংলাদেশের লেখক তসলিমা নাসরিন।

সুনীলের মৃত্যুতে ইন্ডিয়া আউটলুক ডটকমকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেছেন কিছুদিন আগেই তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা তসলিমা।

ভারতীয় সাময়িকীটির দোলা মিত্রকে টেলিফোনে তসলিমা নাসরিন বলেন

মর্মাহত। এতো তাড়াতাড়ি তিনি মারা যাবেন ভাবিনি। তিনি যা করেছেন সেজন্য আমি তার সমালোচনা করেছি, কিন্তু কখনোই প্রস্তুত ছিলাম না যে এতো দ্রুত তার মৃত্যু হবে। আমি তার লেখা পড়ে বেড়ে উঠেছি এবং লেখক হিসেবে তাকে শ্রদ্ধা করতাম।”

‘নির্বাসিত’ জীবনে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত তসলিমা গত মাসের শুরুতে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লেখেন, সুনীল তাকে এবং অন্যান্য তরুণী লেখক ও কবিকে ‘যৌন হয়রানি’ করেছেন। তসলিমার এ অভিযোগ ভারত ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়।

নয়াদিল্লিতে তাকে দেখতে আসা কলকাতার এক বন্ধুর মারফত সুনীলের মৃত্যু সংবাদ পান তসলিমা। ওই বন্ধুকে কলকাতা থেকে কেউ ফোন করে এ খবর জানানোর পরপরই টেলিভিশন খুলে বসেন তারা।

তসলিমা জানান, “তার এখনকার ছবি দেখে আমি আঁতকে উঠেছিলাম। আমি বুঝতেই পারিনি উনি এতোটা অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু না, আমাকে তার যৌন হয়রানি করার কথা প্রকাশ করা নিয়ে আমি এতোটুকুও অপরাধ বোধ করিনি।”

“আমাদের দেশে সমস্যা হল কেউ যখন কোনো ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে তখন তাকে এমন এক আসনে বসানো হয় যে, তিনি যেন কোনো ভুল করতে পারেন না। তাকে সন্ত বানিয়ে ফেলা হবে এবং তার বিরুদ্ধে কিছু বলাটা তখন পাপ হয়ে যাবে। আর কেউ যদি সাহস করে সদ্যপ্রয়াত কারো সম্পর্কে সমালোচনা করে বসেন তাহলে মৃত ব্যক্তির অপরাধ যতো বড়ই হোক না কেন সমালোচনার অপরাধের আর কোনো ক্ষমা থাকবে না। যেমন আমি নিশ্চিত আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না।”

খোলামেলা প্রতিক্রিয়া জানালে মানুষ কী ভাববে তা নিয়ে তিনি কখনোই ভীত ছিলেন না জানিয়ে তসলিমা বলেন, “সুনীলের সঙ্গে আমার অনেক মিল ছিল। আমরা দু’জনেই নাস্তিক। বাংলা সহিত্যের প্রতি আমাদের দু’জনেরই ভালোবাসা অনেক। আমার বই নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার সমর্থনের আগ পর্যন্ত আমি ভাবতাম আমরা দ’জনেই দৃঢ়ভাবে বাকস্বাধীনতার পক্ষে। তার চরিত্রের এই দুটি কালিমা তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি এখনো এটা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।”

তসলিমা যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পরপরই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “আমি এসবকে একেবারে পাত্তা দিচ্ছি না। ও বহুবার এসব কথা বলেছে। কলকাতায় এসে একেকবার একেকজনের নামে এসব কথা বলেছে। আমি আমার কাজে ব্যস্ত আছি।”

মসলার দাম বাড়ায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ


ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রকম মসলার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের। রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মসলার দাম কেন অস্বাভাবিক বেড়েছে তা জানার চেষ্টা করছি। এর পেছনে যে কারণ রয়েছে তা চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে এক সভায় ঈদের আগে পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন রকম মসলার দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ব্যবসায়ীরা।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতির পরও বাজারে বিভিন্ন রকম মসলার দাম বেড়েই চলছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় ভোক্তা সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়টি জানানো হয়েছে। দাম বৃদ্ধি যদি অযৌক্তিক হয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

অক্টোবর মাসের প্রথম ১৯ দিনে ১০০ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিটেন্স : অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে


ঢাকা, অক্টোবর - চলতি অক্টোবর মাসের ১৯ দিনেই (১৯ অক্টোবর পর্যন্ত) ১০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে, যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী সাইদুর রহমান সোমবার রাতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি বেশি টাকা পাঠানোয় রেমিটেন্স প্রবাহে এই রেকর্ড হয়েছে।”

একক মাস হিসেবে চলতি অক্টোবর মাসে রেমিটেন্স প্রবাহে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে বলেও আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা। সাইদুর রহমান জানান, অক্টোবর মাসের প্রথম ১৯ দিনে ১০০ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে।

এদিকে প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করেই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত ১৮ অক্টোবর রিজার্ভ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
এর আগে জানুয়ারিতে ১২২ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে আসে, যা একক মাস হিসাবে রেমিটেন্স আসার ক্ষেত্রে রেকর্ড।

চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ২৫৫ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে। গত ২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এসেছিল ২৯৬ কোটি ডলার।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ ছাড় বেড়েছে ৩ গুণ- বিডিনিউজ





Thu, Oct 25th, 2012 11:07 am BdST


ঢাকা, অক্টোবর ২৫ - এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা চললেও বিদেশি সাহায্যে এর প্রভাব পড়েনি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে ১৮ কোটি (১৮০ মিলিয়ন) ডলারের ঋণের অর্থ ছাড় করেছে বিশ্ব ব্যাংক। অর্থ ছাড়ের এই পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।

২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ৬ কোটি ৭৮ লাখ (৬৭৮ মিলিয়ন) ডলারের ঋণ ছাড় করেছিল ওয়াশিংটনভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান মনে করেন, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে জটিলতার কারণে সরকার-বিশ্ব ব্যাংক দুপক্ষই বিগত কিছুদিন ধরে সতর্ক রয়েছে। এ কারণেই ঋণ সহায়তায় কোনো প্রভাব পড়েনি।তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন ঝুলে থাকার কারণে এ সংস্থার সহায়তা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সেই আশঙ্কা থেকেই সরকার বিশ্ব ব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পগুলোতে অর্থ ছাড়ের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব ব্যাংকও নতুন কোনো সমালোচনায় জড়াতে চায়নি।”

বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “পদ্মা সেতুর জটিলতা অন্য প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি। এই সময়ে বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ বরং আরো বেড়েছে।”

মন্ত্রণালয়ের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট ৫০ কোটি ডলারের অর্থ ছাড় করেছিল বিশ্ব ব্যাংক। যা ছিল আগের বছরের (২০১০-১১) তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

শুধু বিশ্ব ব্যাংক নয়; বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে এডিবি, জাইকাসহ অন্যান্য দাতাদেশ ও সংস্থার ঋণ-সহায়তাও এবার বেড়েছে।

ইআরডি চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত বিদেশি ঋণ সহায়তার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন দাতাদেশ ও সংস্থা মোট ২১ কোটি ৫২ লাখ ডলার ছাড় করেছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৬ লাখ ডলার।

২০১১-১২ অর্থবছরে মোট ২০৩ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ছাড় করেছিল দাতারা। এর মধ্যে আগের নেয়া ঋণের সুদ-আসল পরিশোধ বাবদ চলে যায় ৭৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ করার জন্য সরকারের হাতে থাকে ১২৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।

আর ২০১০-১১ অর্থবছরে ছাড়ের পরিমাণ ছিল ১৬৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। সুদ-আসল পরিশোধে ৭২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার চলে যাওয়ার পর সরকারের হাতে ছিল ১০৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

জাহিদ হোসেন বলেন, গত অর্থবছরের প্রথম ভাগে বাংলাদেশে বিদেশি সাহায্যের অর্থ ছাড় কম হলেও শেষ দিকে এসে তা পুষিয়ে যায়। এবার দেখা যাচ্ছে অর্থবছরের শুরুতেই অর্থ ছাড়ের পরিমাণ বেশ ভাল।

“এটা বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে”, বলেন তিনি।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত ২৯ জুন পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিলের ঘোষণা দেয় বিশ্ব ব্যাংক। অবশ্য গত বছর সেপ্টেম্বরেই এই ঋণচুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ সরকারের নানা তৎপরতার পর নতুন কিছু শর্তে এ বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মা প্রকল্পে ফিরে আসার ঘোষণা দেয় বিশ্ব ব্যাংক। এ প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত কীভাবে চলবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কীভাবে হবে- তা নিয়ে বর্তমানে সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশ্ব ব্যাংকের একটি পর্যবেক্ষক দল ইতোমধ্যে ঢকায় এসে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশল ঠিক করতে বিশ্ব ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রতিনিধিদলটি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় আসবে বলে জানিয়েছেন ইআরডি সচিব ইকবাল মাহমুদ।

Tuesday, October 23, 2012

আলপনা ভালো আছে: আলপনাদের ভালো রাখতে হবে- সুমি খান



আলপনা ভালো আছে। বাংলানিউজে প্রকাশিত কলাম এবং প্রতিবেদন তাকে সুরক্ষা দিয়েছে। আলপনা নেত্রকোনায় তার বাড়িতে পরিবারের সাথে আগের মতোই নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন। স্থানীয় সাংসদ নিজে আলপনাকে বাসায় পৌছে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের স্থানীয় ক্যাডাররা ক্ষমা চেয়েছে আলপনার কাছে। আলপনা আমাকে কয়েকটি চিঠি দিয়েছন, মোবাইলে কথা হয়েছে কয়েকবার।আমার প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা তার বিনয়ের প্রকাশ। বলেছেন এখন ভালো আছেন তিনি। দু:খ করে বলেছেন হুমকিদাতা এই ছেলেরা কেউ এলাকার নয়।প্রশ্ন উঠে তাহলে এই ক্যাডারেরা কী করে সুযোগ পায় ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গাতে? তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে প্রশাসন কে। প্রতিটি এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রলীগ ক্যাডারদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী। নাহয় মহাজোট সরকারকে অনেক বড়ো খেসারত দিতে হবে।
১৩ সেপ্টেম্বর আলপনা একটি চিঠি পাঠায় আমাকে। চিঠিটি হুবহু তুলে দেয়া হলো।
" সুমি আপু,
আপনাকে আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই।
সত্তের জয় হয় ই হয়। আপনারা আমার পাশে না থাকলে হয়তো সম্ভব ছিল না।
আমি এখন বাসায় এম পি নিজ দায়িত্তে অফিস থেকে নিয়ে এসেছেন।
ছাত্র লীগ দের দিয়ে মাফ চায়্যেছেন
আপনি দীঘ হন ।।
আমি আপ নাকে জিবনেও ভুলতে পারব না।
স শ্রদ্ধ সালাম রইল -আলপনা বেগম"

আমার ভালো লাগছে ভাবতে আলপনা অন্তত এতোটুকু সাপোর্ট প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে পেয়েছেন। আমাকে এবং আমার মতো অনেক সংবাদকর্মীদের বার বার যে সাংসদ , জামাত বিএনপি ক্যাডারেরা জামাত-বিএনপি চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে হুমকি দিয়েছেন তারা কখনো ভাবতেও পারেননি তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। একাত্তরের ঘাতক-দালাল জামাত –বিএনপির সাংসদ অথবা তাদের এপিএস অথবা ক্যাডারেরা আমাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন বার বার । সেটাকে অপরাধ মেনে ইহজনমে ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, হুমকির বাস্তবায়ন কবে করবেন সেই অপেক্ষাতেই তারা আছেন।
আমি অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য বসবাস করি। ল্যাপটপে কারিগরী ত্রুটি তার মধ্যে অন্যতম। আলপনার ভালো থাকার কথা উদ্বিগ্ন পাঠকদের জানানো উচিত ছিল অনেক আগে। পারি নি। এজন্যে প্রিয় পাঠকদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী । অনেকে ফোন করে জানতে চেয়েছেন আলপনা কেমন আছেন এখন। তাদের মধ্যে চ্যানেল আই য়ের জাপান প্রতিনিধি কাজী ইনসানুল হক অন্যতম। মানবতাবাদী এই পাঠক দের সকলের কাছে আমার এবং আলপনার পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
গণতন্ত্র তখনই সফলতার দিকে এগোয়, এ ধরণের হঠকারী রাজনীতিকেরা যখন তাদের অপরাধ মানতে বাধ্য হয়। আলপনার সাথে আমার বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। বাংলানিউজ কতৃপক্ষ এবং এর সাংবাদিকেরা প্রত্যেকে আন্তরিকভাবে আলপনার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। এদেশের মিডিয়া ওয়ার্ল্ডে এ দৃষ্টান্ত নিসন্দেহে অভাবনীয় ব্যাপার। অন্যদিকে সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি আলপনার বিপন্ন সময়ে সময় টেলিভিশনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব এড়ানো হয়েছে নানান অজুহাতে, যা আমাদের করুণ বাস্তবতা। এ বিষয় গুলো আমাদের ভাবতে হবে। আমার শ্রদ্ধেয় সম্পাদক শাহাদাত চৌধুরী, গোলাম মোর্তোজা, মোহসিউল আদনান ২০০১-২০০৪ সময়ে সাপ্তাহিক ২০০০ এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রতি আন্তরিকতা দেখিয়ে নিয়মিত খোজ নিয়েছেন। আমাকে গ্রেফতার করার পর ততকালীন প্রশাসনের সাথে উচ্চপর্যায়ের সাথে তুমুল লড়াই করেছেন। মোর্তোজা ভাই কলাম লিখেছেন। আমি বরাবর সেই দু:সময়ের সহযাত্রী এবং দায়িত্বশীল সহমর্মীদের আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি বারবার।
তাই আমার মতো ক্ষুদ্র এক সংবাদকর্মী এই অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে যাবো। একই সাথে আমি মনে করি মুখে বড়ো বড়ো কথা বলা যারা বলেন বা লিখেন, তারা আলপনার মতো বিপন্ন সংবাদকর্মীদের পাশে থেকে কিছু দায়িত্ব অন্তত পালন করার চেষ্টা করা জরুরী।
Sumikhan29bdj@gmail.com

Saturday, October 20, 2012

১২ শ’ কোটি ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ


ঢাকা, অক্টোবর ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২ শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৪০ বছরের ইতিহাসে এটা রেকর্ড রিজার্ভ।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এই প্রথমবারের মতো এক হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

এদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২০২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্মরতদের পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, ‘রবি’ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্তি এবং আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এক্সপোর্ট বিল দ্রুত সময়ে নিস্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াতে খাদ্যদ্রব্য আমদানি কমার পাশাপাশি আমদানিযোগ্য পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমে আসা এবং বিলাস দ্রব্যের আমদানি নিরূৎসাহিত হওয়ায় সার্বিক আমদানি ব্যয় কমেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়।

আর এই সব কারণে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব। সন্তোষজনক রিজার্ভের পরিমাণ অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক মুদ্রা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনেই ৫৯৩ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ১২ দিনে এ পরিমাণ রেমিটেন্স এর আগে কখনো আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী সাইদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন।”

সাইদুর রহমান জানান, গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সোমবার তা আরও বেড়ে ১১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবার তা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা আরো জানান, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম পাঁচ দিনে (৫ অক্টোবর পর্যন্ত) ২০৩ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। আর ৬ থেকে ১২ অক্টোবর (৬ থেকে ১২ অক্টোবর) এই সাত দিনে এসেছে ৩৯০ মিলিয়ন ডলার।

একক মাস হিসেবে অক্টোবর মাসে রেমিটেন্সের পরিমাণ অতীতের যে কোনো মাসকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সাইদুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের আগে রিজার্ভ ১১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। আকুর ৭০০ মিলিয়ন ডলার দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে আসে।

এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই রিজার্ভ বেড়ে ১২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) ইসিএফ (বর্ধিত ঋণ সুবিধা) তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির ১৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড় করতে পারে। তখন রিজার্ভ আরো বাড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেমিটেন্স সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রবাসীরা তিন দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

চলতি অক্টোবর মাসের পাঁচ দিনেই (৫ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব পাওয়া গেছে) ২১০ ডলার রেমিটেন্স এসেছে।

গত ২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট ২ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার পঠিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এর মধ্যে গত বছরের জুলাই মাসে এসেছিল ১ দশমিক ০১৫ লাখ ডলার। এছাড়া অগাস্টে ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স আসে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে ১ দশমিক ২২ বিলিয়ন লাখ ডলার রেমিটেন্স দেশে আসে, যা একক মাস হিসাবে রেমিটেন্স আসার ক্ষেত্রে রেকর্ড।

Thursday, October 18, 2012

উত্তমের মা-মাসীকে নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ :খাদ্য ও নিরাপত্তা দেবে রাষ্ট্র


Thu, Oct 18th, 2012 7:09 pm BdST

ঢাকা, অক্টোবর ১৮ - কক্সবাজারের রামুর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনায় আলোচিত উত্তম বড়–য়ার মা ও মাসীকে আটক রাখা অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণার পাশাপাশি তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী বসবাসে নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমদের বেঞ্চ আদেশে বলেছে, ওই দুই নারী যে কোনো স্থানে বসবাস করতে করতে পারবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তমের ফেইসবুক পাতায় একটি অবমাননাকর ছবি দেখে রামুতে মিছিল বের হয়। পরে উগ্রপন্থিরা বৌদ্ধ মন্দির ও বসতিতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়। আগুনও দেয়া হয় বিভিন্ন স্থানে।ঘটনার পর থেকে উত্তমের কোনো সন্ধান পাওয়া না গেলে তার মা মাধু বড়ুয়া (৪১) এবং খালা আদি বড়ুয়াকে (২৬) ঘটনার পরদিনই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডেও নেয়া হয়। কোনো অভিযোগ না থাকার পরও গ্রেপ্তারের এই খবর সংবাদপত্রে দেখে হাই কোর্টের ওই বেঞ্চ বুধবার মাধু ও আদিকে মুক্তি দেয়ার মৌখিক নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ওই আদেশের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে জানাতে বলা হয় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদারকে। বৃহস্পতিবার অমিত তালুকদার জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই তাদের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলে, নিরাপত্তার বিষয়টিকে আমরা হালকভাবে নিতে পারি না। ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের (মাধু ও আদি) সম্মতি সাপেক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাইজে অথবা মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের সেফ হাউজে তাদের রাখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে খাদ্য ও নিরাপত্তা দেবে রাষ্ট্র। সেখানেও থাকতে তারা রাজি না হলে অন্য যে কোনো স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে তাদের রাখতে সরকারকে নির্দেশ দেয় আদালত।

আদালত আদেশে আরো বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাদের আটক রাখা ও রিমান্ডে নেয়া অবৈধ ও অসাংবিধানিক। যতদ্রুত সম্ভব তাদের স্বাধীনতা দিতে হবে। যে কোন মূল্যে তাদের জীবনের সুরক্ষা দিতে হবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, মেরে ফেললেও তারা নিজেদের বাড়িতেই থাকতে চান।” তখন আদালত বলে, পরিস্থিতি খুবই নাজুক। তাদের স্বাধীনতা রয়েছে, কোথায় তারা বসবাস করবেন। একই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তার বিষযটিও ভাবতে হচ্ছে। তাদের স্বাধীনতা আমরাও খর্ব করতে পারি না।

এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৪ নভেম্বর পরবর্তী দিন ঠিক হয়েছে।

নাফিজের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ | বাংলাদেশ | bdnews24.com

নাফিজের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ | বাংলাদেশ | bdnews24.com

Monday, October 8, 2012

ব্রিটেনের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে মধুসূদন দত্ত


ব্রিটেনের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে মধুসূদন দত্ত

কৃষ্ণভাবিনীর লেখা ‘ইংলণ্ডে বঙ্গমহিলা’র প্রচ্ছদ

‘বঙ্গভূমির প্রতি’ তাঁর আকুতি ছিল

‘রেখো মা দাসেরে মনে...’। বঙ্গভূমি তাঁকে ভোলেনি। এবার জানা গেলে, মনে রেখেছে তাঁকে বিলেতও। মৃত্যুর ১৩৯ বছর পর ব্রিটেনের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে ঠাঁই পেলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। কবির আফসোস ছিল, ‘আশার ছলনে’ ভুলে বৃথাই জীবন কাটালেন বিলেতে, যাপন করলেন বিদেশির জীবন। ইংরেজি সাহিত্যের সাধনায় যে যশ তিনি আশা করেছিলেন, তা হয়তো পাননি, তবে বাঙালি কবি হিসেবেই এ বার তাঁর নাম উঠে এল ‘অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ ন্যাশনাল বায়োগ্রাফিতে’ (অক্সফোর্ড ডিএনবি)।

প্রসঙ্গত, সারাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু ব্যক্তিত্বই ব্রিটিশ ইতিহাস এবং সমাজে নানাভাবে ছাপ রেখে গিয়েছেন। তাঁদের সেই অবদানকে সম্মান এবং স্বীকৃতি জানাতেই এই অভিধান। রোমান আমল থেকে শুরু করে একবিংশ শতক পর্যন্ত ব্রিটিশ সমাজে গভীর অবদান রেখে যাওয়া ৫৮,২০২ জনের জীবনী ইতিমধ্যেই স্থান করে নিয়েছে এখানে। তাঁদের মধ্যে নাম রয়েছে মেদিনীপুরের এক কন্যারও। কৃষ্ণভাবিনী দাস। বাংলা ভ্রমণকাহিনির প্রথম লেখিকা। বিলেতে আসার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন ‘ইংলণ্ডে বঙ্গমহিলা’। অবশ্য শুধু লেখিকা নয়, কৃষ্ণভাবিনীকে সমাজকর্মী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে ‘অক্সফোর্ড ডিএনবি’-তে।

২০০৪ সালে বইয়ের আকারে এবং অনলাইনে প্রথম প্রকাশিত হয় এই অভিধান। তারপর থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি, মে এবং সেপ্টেম্বর মাসে নতুন জীবনী জুড়ে আপডেট করা হয় অভিধানটি। এরই ধারাবাহিকতায় এ মাসে এতে যোগ হল দুই বাঙালির নাম। অভিধানে মধুসূদনকে (১৮২৪-১৮৭৩) বর্ণনা করা হয়েছে কবি ও নাট্যকার হিসেবে। তাঁর জীবনীতে লেখা হয়েছে, বর্তমান বাংলাদেশে অবস্থিত যশোহর জেলার সাগরদারি গ্রামে বিশিষ্ট, উচ্চবর্ণের কায়স্থ আইনজীবী রাজনারায়ণ দত্ত এবং জাহ্নবী দেবীর সন্তান ছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল বয়সে অনেক ছোট একটি মেয়ের সঙ্গে। তিনি তাতে রাজি না হয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন ১৮৪৩ সালে। নাম হয় মাইকেল। এ ঘটনায় বাবা তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন। এই সময়ে বাড়ি ছেড়ে তিনি চলে যান মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই)। কয়েকটি ইংরেজি দৈনিকে কাজ করার পাশাপাশি তিনি মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি হাই স্কুলে শিক্ষকতাও করেছিলেন। ১৮৪৮ সালে বিয়ে করেন রেবেকা টমসনকে।

এরপর, কলকাতায় ফিরে আসেন ১৮৫৬ সালে। দু’বছর পর লেখেন ‘শর্মিষ্ঠা’, মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা পাশ্চাত্য শৈলি অনুকরণে প্রথম বাংলা নাটক।

অক্সফোর্ড ডিএনবি’তে বলা হয়েছে, মধুসূদনের যুগান্তকারী রচনা ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ (১৮৬১) মিলটনের ‘প্যারাডাইস লস্ট’ দ্বারা অনুপ্রাণিত। বহু বাঙালি সাহিত্যিক মনে করেন এটি বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ আধুনিক কবিতা। যদিও সেই সময়ে রামের বদলে রাবণকে নায়ক বানিয়ে দেওয়ায় ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা যারপরনাই অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।

অভিধানে স্থান পাওয়া আর এক বাঙালি কৃষ্ণভাবিনী দাস (১৮৬৪-১৯১৯) ছিলেন মেদিনীপুর জেলার এক হিন্দু জমিদার পরিবারের মেয়ে। ১০ বছর বয়স পর্যন্ত বাবা জয়নারায়ণ সর্বাধিকারীর কাছেই লেখাপড়া শিখেছিলেন। ১৮৫৭ সালে দেবেন্দ্রনাথ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৮৮২ সালে স্বামীর সঙ্গে বিলেতে যান। তিন বছর পর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম বই ‘ইংলণ্ডে বঙ্গমহিলা’। বাংলা ভাষায় এই প্রথম কোনও মহিলা লিখলেন ভ্রমণকাহিনি। যদিও লেখিকার নাম ছাপা হয়নি তাতে। ১৮৯০ সালে স্বামীর সঙ্গে দেশে ফিরলেও নিয়মনীতির বেড়া না মেনে পাশ্চাত্য পোশাকেই রাস্তায় একা বেরোতে দ্বিধা করতেন না কৃষ্ণভাবিনী। ১৯০৯ সালে দেবেন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর অবশ্য হিন্দু বিধবার বেশেই দেখা যেত তাঁকে।

সারাজীবন ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য কাজ করে গিয়েছেন কৃষ্ণভাবিনী। ১৯১০ সালে তাঁর আরও একটি বই ‘জীবনের দৃশ্যমালা’ প্রকাশিত হয়। কৃষ্ণভাবিনীর উদ্যোগে প্রকাশিত হয় তাঁর স্বামীর আত্মজীবনী ‘পাগলের কথা’।

ব্রিটেনের যে কোনও গ্রন্থাগারের সদস্যই ‘অক্সফোর্ড ডিএনবি’ অনলাইনে দেখতে পারেন। নতুন আপডেটগুলি-সহ অক্সফোর্ড ডিএনবি দেখা যাবে বৃহস্পতিবার থেকে।

সৌজন্য: আনন্দবাজার পত্রিকা

Tuesday, September 25, 2012

হিনা রব্বানি খার- বিলাওয়াল ‘আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং শিগগিরই আমরা এক হতে যাচ্ছি।’


প্রেমে বাদ সাধায় দলের প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে চেয়েছেন এক প্রেমিক। ঘটনাটি প্রতিদিন নানা ঘটনার জন্ম দেওয়া পাকিস্তানের। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার এবং দেশটির ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রধান বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টোর মধ্যে মন দেওয়া-নেওয়া চলছে। এখন তাঁরা ঘর বাঁধতে চান। তা-ও আবার সুদূর সুইজারল্যান্ডে। আর এতে বাদ সেধেছেন বিলাওয়ালের বাবা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তবে সাহসী প্রেমিক বিলাওয়াল বাবাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে পিপিপির প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে দেবেন তিনি।
প্রেমের ক্ষেত্রে বয়সকে হার মানিয়েছেন হিনা-বিলাওয়াল। বিলাওয়ালের চেয়ে ১১ বছরের বড় হিনা। তবুও বয়সের এই ব্যবধান সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়নি।
হিনার অনন্যা ও দিনা নামের দুটি সন্তান আছে। এই প্রেমের জন্য কোটিপতি ব্যবসায়ী স্বামী ফিরোজ গুলজারকে তালাক দেওয়ারও চিন্তা করছেন হিনা। বিয়ের পর দুই সন্তানকে নিয়ে সুইজারল্যান্ডেই থাকতে চান বিলাওয়াল।
জি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভবনে হিনা ও বিলাওয়ালকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। এর পরই প্রেমের ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে যায়। আসিফ আলী জারদারি নানাভাবে এ দুজনকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁরা মানার পাত্র নন।
বিলাওয়ালের জন্মদিনে হিনা একটি বার্তাসহ কার্ড পাঠান। কার্ডে হিনা নিজ হাতে লেখেন ‘আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং শিগগিরই আমরা এক হতে যাচ্ছি।’

‘২০২১ নাগাদ সংসদে ও নেতৃত্বের সব পর্যায়ে নারীদের প্রতিনিধিত্বের হার পুরুষের সমান দাঁড়াবে’ - প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


নিউইয়র্ক, সেপ্টেম্বর ২৫- ২০২১ সাল নাগাদ প্রশাসন, চাকরিসহ সব ক্ষেত্রে নারীদের প্রতিনিধিত্বের হার পুরুষের সমান দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, “আমি সংসদে ও নেতৃত্বের সব পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ব্যাপারে অঙ্গীকার করছি।”

এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মোট জনশক্তির অর্ধেক হবে নারী এবং তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও গৃহে নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

নিউইয়র্কের ইন্টারকন্টিনেন্টাল বার্কলে হোটেলে সোমবার ‘সমঅংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “যদিও সা¤প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপি নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ছে, কিন্তু এখনো তা যথেষ্ট নয়।”

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ব্যাপারে বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নারীরা বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক। তাদের সমঅংশীদারিত্ব বিশ্বে কাঙ্খিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।”

নারী উন্নয়ন নীতিমালায় উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে বই বিতরণের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে তার সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ১২ হাজার ৮৩৮ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, নিরাপত্তা বাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোতে নারীরা উচ্চ পদে আছেন উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি চাকুরির ৩০ ভাগ নারীদের জন্য সংরক্ষিত।

গ্রামীণ নারীদের জন্য শতকরা পাঁচ ভাগ সার্ভিস চার্জসহ সুদমুক্ত ঋণ দেয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই নারীদের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এর বাইরে বর্তমানে ৩০ লাখ নারী তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত আছেন এবং অনেকে বিদেশে কাজ করছে ও বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন।

২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর তার সরকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় মানব পাচার বিরোধী আইন এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করেছে বলেও অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

Tuesday, September 18, 2012

বাংলাদেশ পরপর তিনবার স্থিতিশীল অর্থনীতি সমেত বিএ৩ রেটিং পেয়েছে



ঢাকা: ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আন্তর্জাতিক ঋণমাণ সংস্থা মুডি’স এর রেটিংয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি তৃতীয়বারের মতো বিএ-৩ রেটিং অর্জন করেছে, যা অর্থনীতির সুষ্ঠু ও জোরালো অগ্রগতির জন্য স্বীকৃতি।

তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মোকাবেলায় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির উপর ভিত্তি করে মুডি’স বাংলাদেশের সার্বভৌম রেটিং নির্ধারণ করেছে।

‘ঋণ পর্যালোচনা: বাংলাদেশ সরকার’ শীর্ষক মুডিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশকে বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চলমান ধারা অর্জন করলেও রেটিংয়ে থাকা সবগুলো দেশের চেয়ে এর মাথাপিছু জিডিপি কম।

এ ছাড়াও প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভরশীলতা ও স্বল্প বৈচিত্র্যের রপ্তানি খাত নিম্নমুখী বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১১ সাল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেড়েছে। তাছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্যেও পতন অব্যাহত ছিল। সম্প্রতি এসব উপাদান নিয়ন্ত্রণে এলেও বছরে প্রায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যুত খাতের প্রতিবন্ধকতাগুলোর মৌলিক সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে; যথাসময়ে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পর্যালোচনায় আরো বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা বাংলাদেশের রেটিংয়ের জন্য প্রতিবন্ধক। দুর্বল শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নের পথে বাধা এবং তা বিনিয়োগের পথে ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে বলে মনে করে মুডিস। তবে এপ্রিলে শুরু হওয়া আইএমএফের কর্মসূচি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গতি এনেছে।

এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও মুডিস মূল্যায়নে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে শুধু ভারত এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।


বিএ রেটিং প্রাপ্ত গ্রুপের দেশগুলোর গড় বার্ষিক মাথাপিছু আয় চার হাজার ৬২০ ডলার। সেই তুলনায় বাংলাদেশের গড় বার্ষিক মাথাপিছু আয় সাড়ে পাঁচগুণ কম। এতো কম আয়ের দেশ হয়েও বাংলাদেশের রেটিং ওই সব সমৃদ্ধ দেশের সমান।
আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। মঙ্গলবার মুডিস বাংলাদেশের ওপর তাদের বার্ষিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ স্থিতিশীল অর্থনীতি সমেত বিএ৩ রেটিং পেয়েছে। পরপর তিনবার বাংলাদেশ একই রেটিং পেল।এই রেটিং বাংলাদেশের অর্থনীতির চলমান অগ্রগতি প্রকাশ করে।

শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছে , ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াত বেড়েছে ;আমি যখন আছি- তখন আপনাদের সমস্যা দেখব"-প্রধানমন্ত্রী


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৮ -মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে পার্বত্য জেলাগুলোর তিন সার্কেলের হেডম্যানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আশ্বাস দিয়েছেন । প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়া প্রয়োজন। আমি যখন আছি- তখন আপনাদের সমস্যা দেখব।”

পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী এসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

“আমি চাই- আপনাদের ঐতিহ্য, নিয়ম ও প্রথা যেন বজায় থাকে”, হেডম্যানদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন “আমি তো চাই- আপনাদের ঐতিহ্য, নিয়ম ও প্রথা যেন বজায় থাকে”,।
চিরদিন থাকব না। বার বার এই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।” ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে মনোযোগী হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই পার্বত্য শান্তি চুক্তি হয়েছিল স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনাদের ভরসা থাকা উচিত- আমরা যখন শান্তি চুক্তি করেছি, তখন তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের।”

“আগের সরকার সমস্যা জিইয়ে রেখে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। আর এই সমস্যা তাদেরই সৃষ্টি”, অভিযোগ করেন তিনি।

সবাইকে সহনশীল আচরণ করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিজের দেশে কেন সংঘাত হবে? রক্ত ঝরবে?”কোনো গোষ্ঠী, সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগীর নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদেরও ছাড় দিতে হবে। আপনাদেরও দেখতে হবে, আপনারা কতোটা ছাড় দিতে পারেন। অনেকে বন্ধু সেজে কাছে আসবে। কিন্তু মঙ্গল হবে না।”


এর আগে চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় পার্বত্য এলাকার খাজনা সীমিত পরিমাণে হলেও বাড়ানোর কথা বলেন। সার্কেল চিফ, হেডম্যান ও কারবারীদের ভাতা বাড়ানোর দাবি জানান খাগড়াছড়ি জেলার হেডম্যান শক্তিপদ চাকমা।

বান্দরবান জেলার হেডম্যান মাসৈড়ি মারমা পার্বত্য এলাকায় শিক্ষার প্রসার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে খাগড়াছড়ির ১৯ মৌজার হেডম্যান আন্নাইউ চৌধুরী ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন সংশোধনসহ সবার পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাতা বৃদ্ধি করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।“কিঞ্চিৎ হলেও বাড়ানো হবে”, বলেন তিনি।

এর আগে গত ৬ জুলাই হেডম্যানদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী সার্কেল চিফদের মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার, হেডম্যানদের ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা এবং কারবারিদের জন্য মাসিক পাঁচশ টাকা ভাতার ব্যবস্থা করার কথা বলেন


পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “ভূমি কমিশনের বৈঠকে তো আপনাদের সমস্যার কথা বলতে হবে। যোগ না দিলে তো সমস্যা জানা যাবে না।” শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াত বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভবনের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরাকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিবাহ নিবন্ধন ঐচ্ছিক রেখে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিল পাস


হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ নিবন্ধনের বিধান ঐচ্ছিক রেখে ‘হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিল-২০১২’ সংসদে পাস হয়েছে। এ আইন কার্যকর হওয়ার আগে হিন্দু ধর্মমতে অনুষ্ঠিত বিয়ে এ আইনের অধীনে নিবন্ধন করা যাবে বলেও বিধান রাখা হয়েছে।মঙ্গলবার বিলটি জাতীয় সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের পক্ষে পাসের প্রস্তাব করেন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। পরে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। উল্লেখ্য, ভারতে ১৯৫৫ সালে ‘হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট’ প্রণীত হয়েছে।

গত ৩ জুলাই বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে এটি পরীক্ষা করে সংসদে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ রাখা ও বিবাহ সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে হিন্দু নারীদের রক্ষা করতে এ বিল পাস করা হয়েছে।

বিলের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব উত্থাপনের সময় একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ‘ঐচ্ছিক’ বিধান বাদ দেওয়ার দাবি জানান। পরে সংশোধনী প্রস্তাব ওঠানোর সময়েও তিনি বিয়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান। পরে সেটি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ তাদের শাস্ত্রমতে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর কোনো দালিলিক প্রমাণ থাকে না। দালিলিক প্রমাণ না থাকার কারণে বিবাহ পরবর্তী বিবাহ সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয় মৌখিক সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিবাহের যে কোনো পক্ষ বিশেষত: হিন্দু নারীরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাদের সহজে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে বিদেশ ভ্রমণ, অভিবাসন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধন সম্পর্কিত দালিলিক প্রমাণ একটি অপরিহার্য বিষয়।

আরো বলা হয়েছে, প্রতারণার সুযোগ বন্ধ করা এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা সৃষ্টির লক্ষ্যে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন। বিলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ ঐচ্ছিকভাবে নিবন্ধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি আইন প্রণয়নের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় থেকে দাবিও উত্থাপিত হয়েছে।

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে সময় সময় নির্ধারিত এলাকা এবং সিটি করপোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ দেবে।বিলের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, ২১ বছরের কম বয়স্ক কোনো হিন্দু পুরুষ বা ১৮ বছরের কম বয়স্ক কোনো হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তা এ আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হবে না।

প্রস্তাবিত আইনের ৬ ধারায় বিবাহ নিবন্ধনের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্ম, রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠান অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর ওই বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে যে কোনো পক্ষের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবাহ নিবন্ধন করবেন।

Sunday, September 16, 2012

সমঝোতার ফলে দেশ অনিবার্য গৃহযুদ্ধ থেকে মুক্তি পেয়েছে :পিলখানা হত্যাকাণ্ড: জেরায় সাক্ষী প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির



পিলখানা হত্যা মামলায় সাক্ষী স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, সেদিন সমঝোতার ফলে দেশ অনিবার্য গৃহযুদ্ধ থেকে মুক্তি পেয়েছে। সমন্বয় না থাকায় সেদিনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি—জেরায় আসামিপক্ষের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী মহানগর দায়রা জজ আদালতে গতকাল সোমবার প্রথমে জবানবন্দি দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাঁকে জেরা করেন। এই মামলার সাক্ষী আওয়ামী লীগের সাংসদ মির্জা আজমও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জাহাঙ্গীর কবির জবানবন্দিতে বলেন, বাসা থেকে সচিবালয়ে যাওয়ার সময় সকাল ১০টার দিকে মৎস্য ভবনের কাছে টেলিফোনে জানতে পারেন, পিলখানায় গোলাগুলি হচ্ছে। এরপর তিনি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ মির্জা আজমকে ফোন করে প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন বাসভবন যমুনায় যাওয়ার অনুরোধ জানান। তিনিও গাড়ি ঘুরিয়ে যমুনায় যান।

পরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেলা একটার দিকে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ও মির্জা আজমকে পিলখানায় গিয়ে বিডিআরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান করা যায় কি না, সেই চেষ্টা করে দেখতে বলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে ব্রতী হয়ে তাঁরা পিলখানার উদ্দেশে রওনা হন। তিনি বলেন, ‘পিলখানার ফটকে গিয়ে মাইকে আমার ও মির্জা আজমের নম্বর জওয়ানদের দেই। আমরা সাদা পতাকা হাতে এগোতে থাকি। একপর্যায়ে তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা এগিয়ে যাই। জওয়ানরা আমাদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে পাঠান, তাঁর সঙ্গে কথা বলব। আমরা সেনাবাহিনীর চেয়েও শক্তিশালী। আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাব। ঢাকা শহর তামা করে দেব।” একপর্যায়ে আমাদের দিকে রাইফেল তাক করে বলে, “তোদের মেরে ফেলব।”’
জেরা: জবানবন্দির পর জাহাঙ্গীর কবিরকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম।
প্রশ্ন: যেসব সৈনিককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসায় গিয়েছিলেন এবং হোটেল আম্বালায় আলোচনায় বসেছিলেন, তাঁদের কারও নাম কি আগে থেকে জানতেন?
নানক: না।
প্রশ্ন: গন্ডগোলের খবর পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর বাসায় ঢোকার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারও কাছে কি ফোন করেছিলেন?
নানক: না, করিনি।
প্রশ্ন: যমুনায় যাওয়ার পর আপনার মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল, এ কথা তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, যা তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় নথিভুক্ত করেছেন।
নানক: এটা মনে নেই।
প্রশ্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে একটি ও সেনাবাহিনীর একটি তদন্ত কমিটি হয়েছিল, জানতেন?
নানক: সেনাবাহিনীরটা জানতাম।
প্রশ্ন: সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটি আপনাকে কি ডেকেছিল?
নানক: হ্যাঁ, আমি সেখানে জবানবন্দি দিয়েছি।
প্রশ্ন: সেনাবাহিনীর তদন্ত দলের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়ে আসার পর অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন?
নানক: আমি কবে গেলাম বলেন? এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন: ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় প্রধানমন্ত্রীর রাতের খাবারের দাওয়াত ছিল। ২৪ তারিখে সেটা বাতিল করা হয়েছিল, জানেন?
নানক: জানা নেই।
প্রশ্ন: বিদ্রোহ শুরুর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাংসদ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে সৈনিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে কথা হয়েছিল?
নানক: জানা নেই।
প্রশ্ন: পিলখানার ভেতরে হত্যাযজ্ঞের খবর কখন পেয়েছিলেন?
নানক: ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল পাঁচটার দিকে পিলখানার ভেতরে যাওয়ার পর হত্যাযজ্ঞের খবর জানতে পারি।
প্রশ্ন: বাইরে কিছু লোক মারা যাওয়ার খবর?
নানক: পিলখানার বাইরে কিছু বেসামরিক লোক, পুলিশ আহত হওয়ার খবর আগে পেয়েছিলাম।
প্রশ্ন: আপনি তো তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দিতে বলেছিলেন, ‘আমরা বাসার ভেতর গিয়ে দেখি, যমুনায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানগণ এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলছেন।’
নানক: এটা স্মরণে নেই।
প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী তো তাঁর বক্তৃতায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন?
নানক: এটা ছিল শর্ত সাপেক্ষে।
প্রশ্ন: আপনারা যাঁদের মুক্ত করেছিলেন, তাঁদের নাম বলতে পারবেন?
নানক: না, মনে নেই।
প্রশ্ন: বিদ্রোহের পর ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী সেনাকুঞ্জে দরবারে গিয়েছিলেন, জানেন?
নানক: আমি যাইনি।
প্রশ্ন: সেনাকুঞ্জে আপনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
নানক: সেটা আমি জানি না।
মাসুদের জবানবন্দি: নানকের জেরা শেষে আদালত কিছু সময় মুলতবি হয়। এরপর বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার (বর্তমানে চীনে বাংলাদেশের দূতাবাসে সহকারী সামরিক উপদেষ্টা) সৈয়দ ফখরুদ্দিন মাসুদ জবানবন্দি দেন। মাসুদ বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় একটি হেলিকপ্টার নিয়ে পিলখানার ওপর দিয়ে উড়ে যান। পরে তাঁকে বলা হয়, পিলখানা থেকে হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি হচ্ছে। তখন তিনি তিন হাজার ফুট ওপরে চলে যান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ জানতে চান, হেলিকপ্টারে কজন বসতে পারেন? জবাবে মাসুদ বলেন, দুজন পাইলটসহ আটজনের বসার ব্যবস্থা আছে। আইনজীবী বলেন, ‘আপনারা হেলিকপ্টার থেকে পিলখানায় বৃষ্টির মতো গুলি করেছিলেন।’ সাক্ষী বলেন, ‘এটা সত্য নয়।’
পরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল মুনিরা জবানবন্দি শুরু করার কিছুক্ষণ পর আদালতের কার্যক্রম আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী দ্রুত বক্তব্য দেওয়ায় বিচারক জহুরুল হক তাঁকে আস্তে বলার অনুরোধ করে বলেন, ‘ব্রিটিশ পদ্ধতিতে আদালত চলছে। মাননীয় মন্ত্রী দেখে যান, বিচারব্যবস্থা কীভাবে চলছে।’